মেইন ম্যেনু

এবার টেস্ট জয়ের হাতছানি

পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৬ বছর ধরে জয় না পাওয়ার আক্ষেপ ঘুঁচেছে বাংলাদেশের। প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ ও টি-টোয়েন্টিতে জয়ের স্বপ্নও পূরণ হয়েছে টাইগারদের। এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের হাতছানি সাকিব-তামিম-মুশফিকদের সামনে।

মঙ্গলবার খুলনায় দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে সকাল দশটায় শুরু হবে ম্যাচটি।

ওয়ানডেতে ও টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিলেও টেস্ট বাংলাদেশের জন্য খুব একটা সহজ হবে না। পাকিস্তানের টেস্টে দলে আছেন মিসবাহ-উল-হক ও ইউনুস খানের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। টেস্টে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করবেন মিসবাহ। ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব করা আহজার আলী ব্যাটিংয়ে ছন্দে আছেন। ওয়ানডেতে সুযোগ না পেলেও টেস্টে ফিরছেন ব্যাটসম্যান আসাদ শফিক।

তবে ফর্মহীনতায় রয়েছেন মোহাম্মদ হাফিজ। বাংলাদেশ সফরে তিন ওয়ানডে ও একমাত্র টি-টোয়েন্টি মিলে তার ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৩৪ রান। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরা সাঈদ আজমলও তার পুরনো ছন্দ হারিয়েছেন। টেস্টে হয়তো ছন্দ খুঁজে পেতে মরিয়া থাকবেন এই স্পিনার। টেস্টে স্পিন আক্রমণে তাকে সঙ্গ দেবেন জুলফিকার বাবর। আর পেস বোলিং আক্রমণে থাকবেন ওয়াহাব রিয়াজ ও জুনাইদ খান।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৪ বছরে ৮টি টেস্ট খেলে সবকটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে চারটিতেই আবার ইনিংস ব্যবধানে হার। অবশ্য ২০০৩ সালেই পাকিস্তানকে হারিয়ে দিতে পারতো বাংলাদেশ। কিন্তু লঙ্কান আম্পায়ার অশোকা ডি সিলভার নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্বের কারণে সেদিন ১ উইকেটে হেরেছিল খালেদ মাহমুদের দল।

ক্রিকেটে অতীত ইতিহাসই যে সব কিছু নয়। এর প্রমাণ এরই মধ্যে দিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। যে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৬ বছর কোনো ধরনের ক্রিকেটে জয় ছিল না, সে দলকে টানা ৪ ম্যাচে হারিয়েছেন টাইগাররা। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির আত্মবিশ্বাস টেস্টেও বাংলাদেশকে রসদ যোগাবে।

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং– তিনটি বিভাগেই বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্যাটিংয়ে দারুণ ছন্দে আছেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম। ওয়ানডে সিরিজে তামিম দুটি এবং মুশফিক করেছেন একটি সেঞ্চুরি। শেষ ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন সৌম্য সরকার। আগামীকাল টেস্টে অভিষেক হতে পারে সৌম্যর। টি-টোয়েন্টিতে এই তিনজন ব্যাটিংয়ে ভালো না করতে পারলেও দুর্দান্ত ছিলেন সাকিব আল হাসান।

টেস্টে সাব্বির অবশ্য থাকছেন না। নেই নাসির হোসেনও। তবে টেস্টে ফিরছেন মুমিনুল হক ও ইমরুল কায়েস। ১২ টেস্ট খেলে ১ হাজার ১৯৮ রান করা মুমিনুলের গড় ৬০.৩। ওয়ানডেতে সুযোগ না পেলেও টেস্টে তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামবেন এই বাঁহাতি। আর তামিমের সঙ্গে ইনিংসের গোঁড়া পত্তন করতে নামবেন ইমরুল। সৌম্যর অভিষেক হলে তাকে দেখা যেতে পারে সাত নম্বরে। টেস্টে রুবেল হোসেনের সঙ্গে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের দায়িত্বে থাকবেন শাহাদাত হোসেন। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের স্পিন ঘূর্ণিতে দিশেহারা করে দিতে সাকিবের সঙ্গে থাকছেন দুই তরুণ তুর্কি তাইজুল ইসলাম ও যুবায়ের লিখন।

খুলনায় সবশেষ টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেট নিয়ে অনন্য কীর্তি গড়েন সাকিব। টেস্টে ইতিহাসের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে এক ইনিংসে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। তবে আগের তিনজন -অ্যালন ডেভিডসন, ইয়ান বোথাম ও ইমরান খান ছিলেন পেস বোলার। অর্থাৎ প্রথম স্পিনার হিসেবে সাকিবই এই রেকর্ডের মালিক। কে জানে, পাকিস্তানের বিপক্ষেও হয়তো আরেকটি কীর্তি গড়ে ফেলবেন টি-টোয়েন্টির সেরা এই অলরাউন্ডার!






মন্তব্য চালু নেই