মেইন ম্যেনু

আমার বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নেয়নি : এরশাদ

চোখের সামনে দলের নেতাকর্মীদের বিদ্রোহীরা মারপিট করলেও তার বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নেয়নি বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
ঈদ আনন্দ উদযাপন করতে শুক্রবার সকালে রংপুরে পৌঁছলে এরশাদের সামনেই নিজ দলের নেতাকর্মীদের মারপিট করেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গার সমর্থকরা।
তবে এরশাদ বলেন, ‘সব দলেই এমন গ্রুপিং আছে। এটা থাকা স্বাভাবিক। রংপুরেও জাতীয় পার্টির মধ্যে গ্রুপিং আছে। তবে আমার বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নেয়নি। সবাই এরশাদ জিন্দাবাদ বলেই শ্লোগান দিয়েছে।’
তিনি বলেন,‘কমিটি নিয়ে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে তা শিগগিরই সমাধান হবে। আমার অনুমোদিত কমিটির মাধ্যমেই আমি আজ হোক কাল হোক আর চার বছর পর হোক এখান থেকে নির্বাচনে অংশ নেব।’
এরশাদ বলেন, ‘আমার নির্দেশেই আমার অনুমোদিত কমিটির নেতাকর্মীরা পার্টি অফিসে যাচ্ছেন না। সব কিছু স্বাভাবিক হলেই তারা পার্টি অফিসে যাবেন।’
এর আগে, শুক্রবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে ছেলে এরিখ ও ছোট ভাই সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদেরকে নিয়ে রংপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন এরশাদ। আগেই সেখানে এরশাদ অনুমোদিত কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নেতৃত্বে এরশাদপন্থীরা এবং এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গার নেতৃত্বে তার সমর্থকরা স্টেডিয়ামে আসেন। এরশাদ সমর্থকরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করতে আসলে রাঙ্গা সমর্থকরা তাদে মারপিট করে। এতে পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্টেডিয়াম থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় এরশাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার অনুমোদিত কমিটিই রংপুরে কাজ করবে। আমি তাদের মাধ্যমে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, লতিফ সিদ্দিকী মুরতাদ। প্রধানমন্ত্রী তাকে দল ও মন্ত্রিসভা থেকে বের করে দেয়ায় ধন্যবাদ জানাই। এ কাজের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করেছেন তিনি মুসলমান দেশের প্রধানমন্ত্রী।’
পরে স্টেডিয়াম থেকে এরশাদকে নিয়ে প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা দর্শনাস্থ পল্লী নিবাসে রওনা হলে ঢাকা-দিনাজুপর মহাসড়কে তাকে প্রতিহত করে এরশাদ সমর্থকরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এরশাদ সেখান থেকে ফিরে নগরীর সেনপাড়ায় তার পৈত্রিক নিবাস দি স্কাই ভিউতে চলে যান।
এ সময় এরশাদের পল্লী নিবাসের সামনে উভয়পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। এতে পুলিশ, সাংবাদিকসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হন। ভাঙচুর করা হয় প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিকের মোটরসাইকেলসহ অন্তত ১০টি গাড়ি।
সংঘর্ষ থেমে যাওয়ার পর অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তায় প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গাকে ছাড়াই দর্শনায় পল্লী নিবাসে আসেন জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদসহ তার ছোট ভাই সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদের।
কমিটি বিলুপ্ত এবং নতুন কমিটি অনুমোদন দেয়ার ২২ দিনের মাথায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দুর্গ সামলাতে আসেন রংপুরে। কমিটি নিয়ে দুইপক্ষের মারমুখি অবস্থানের কারণে সড়কপথে আসার সিদ্ধান্ত বাতিল করেন এরশাদ। তারপরও তিনি সংঘর্ষ এড়াতে পারেননি। বরং তা আরও বড় আকার ধারণ করেছে।
এ ব্যাপারে জেলা কমিটির সদস্য সচিব ও এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ বলেন, ‘স্যারকে ফুল দিতে গেলে প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা নিজেই প্রথমে মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মোস্তফাকে ধাক্কা দেন। এরপর সেখানে রাঙ্গার ক্যাডাররা মোস্তফা ভাই, সদস্য সচিব এসএম ইয়াসির ও সদস্য জাহেদুল ইসলামকে লাথি ও কিল ঘুষি মারতে থাকে। এ ঘটনার পুরো দায়ভার প্রতিমন্ত্রীর।’
সংঘর্ষের বিষয়ে এরশাদ অনুমোদিত মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ‘আমরা ঘোষণা দিয়েছি পল্লী নিবাসে এরশাদ স্যারের সঙ্গে রাঙ্গা এবং তার ক্যাডারদের গ্রহণ করবো না। তারা জোর করে প্রবেশ করতে চাইলে নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করে।’
তিনি বলেন, ‘স্টেডিয়ামে রাঙ্গা আমার এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাপুরুষোচিত আচরণ করেছেন। এর জবাব একদিন তাকে পেতেই হবে।’
যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের এরশাদের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ এবং সংযত আচরণ করার ঘোষণা দেন মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।
এদিকে, দুপুর ১টায় নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘মামার (এরশাদ) সঙ্গে সকাল ৭টায় কথা হয়েছে। সে কারণে আমি স্টেডিয়ামে গিয়েছিলাম। স্টেডিয়ামে নেতাকর্মীদের খুব ভীড় ছিল। কে আগে স্যারকে ফুল দেবে তা নিয়ে সামান্য হট্টগোল হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্যারকে নিয়ে আমি পল্লী নিবাসে যাওয়ার পথে বৃষ্টির মতো ঢিল আসতে থাকে। পরে আমি স্যারকে নিয়ে সেনপাড়ায় স্কাইভিউতে যাই। তবে কে বা কারা ঢিল মেরেছে তা আমি জানি না।’
এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, ‘পরিস্থিতি বতর্মানে স্বাভাবিক রয়েছে। পল্লী নিবাস, স্কাই ভিউ এবং জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয়সহ নগরীর গুরুত্ত্বপূর্ণ এলাকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
তিনি জানান, কেউ বিশৃঙ্খলা করতে চাইলে তা কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে।






মন্তব্য চালু নেই