হৃদয় বিদায়ক এক অসমাপ্ত ভালবাসার কাহিনী….

(বিয়ের রাত)
তিথি, তুমি কি রাগ করেছ আমি ছুটি পাই নি বলে?? হানিমুন এ কিছুদিন পরে যাই?? কাজের অনেক প্রেসার! ! কান্ট ম্যুভ রাইট নাও!! হোপ ইউ আন্ডার্সস্ট্যান্ড!!

তিথি তাকিয়ে ছিল বড় বড় চোখ করে!! অনেক কিছুই হয়ত বলতে চেয়েছিল, বউ রা যেমন বলে!! কিসের এত কাজ?? আমার জন্য তোমার কোনো সময় নেই?? সবাই তো হানিমুন এ যায়!!

নাহ,ও এসবের কিছুই বলেনি!! শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়েছিল!! এখন মনে হয় ও এতটাই আহত হয়েছিল যে কথা বলতে পারেনি!!

আমি তিথিকে চিনতেই পারিনি কখনো!!ওর নিরব থাকাকে সম্মতি ভেবে খুশি হয়েছি!!অভিমান জমে জমে ওর বুকে পাহাড় হয়ে গিয়েছিল!! আমি বুঝতেও পারিনি!!যখন বুঝেছি তখন সেই পাহাড় ডিঙ্গানোর সুযোগ,ক্ষমতা কোনটাই ছিল না আমার!!

দিনের পর দিন,তিথিকে বঞ্চিত করেছি ওর পাওনা সময় থেকে!! ভেবেছি,ভালো আর্ন করি,তিথিকে একটা হাইলি স্ট্যানডার্ড, সোশ্যালি, ফিনান্সিয়ালি সিকিওর জীবন দিয়েছি!! সি হ্যাজ ফ্রিডম টু ম্যুভ,হ্যাং এরাউন্ড ইউথ ফ্রেন্ডস, শপিং, জুয়েল্রী, ঘর সাজানো এভেরিথিং!! আমি বুঝতে পারিনি, আমি তিথিকে বঞ্চিত করেছি, আমার সময় থেকে, বুকের ওম থেকে, পাশাপাশি শুয়ে ম্যুভি দেখা থেকে, হাত ধরে বৃষ্টিতে ভেজা থেকে, ওর যাবতীয় অপ্রয়োজনীয় কিন্তু অমূল্য আহ্লাদ থেকে!!

আমার অফিস, ক্যারিয়ার,মিটিংস, ইমেইল্স,আমার ল্যাপটপ, ফোন একটু একটু করে তিথিকে দুরে সরিয়ে নিয়ে গেছে আমার থেকে!! অনেক দুরে!!

(পাঁচ বছর পরে)

-আমি বাচ্চা প্ল্যান করতে চাই না এখনই শুভ!!আরেকটু সময় নিতে চাই!!
-কেন তিথি?? তুমি সারাদিন একা একা থাক, বোর হয়ে যাও নিশ্চয়ই!! একটা বাচ্চা হলে তোমার সময় কাটবে ভালো!! ট্রাস্ট মি!!

তিথি জীবনের প্রথম রিয়েক্ট করেছিল সেদিন!!

-এটা কি ধরনের ননসেন্স শুভ?? বোরডম কাটাতে বাচ্চা হতে হবে??প্লিজ,দরকার নেই!!আই’ম এবসল্যুটলি হ্যাপী উইথ মাই লাইফ!!বাচ্চা যদি হতে হয় ভালবাসার কারণে,ভালবাসা থেকে হবে!!বোরডম কাটাতে না!!

আমি হা হা করে হেসে উঠেছিলাম!!পাগলি!! অফকোর্স ভালবাসা থেকে হবে!!আমি তোমাকে ভালোবাসি না?? উই লাভ ইচ আদার সোনা!!ডোন্ট উই??

ও জবাব দেয়নি!! জল ভরা টলমল দুটো চোখে তাকিয়েছিল শুধু!!উফ,মেয়েটা যে কেন এত অভিমানী ছিল!! কেন বুঝেনি,আমার মত ফিন্যান্স গ্র্যাজুয়েট এর পক্ষে ওর ভালবাসার অংকটা বোঝা সম্ভবই হয়নি কখনো!!

তারপরেও সব ঠিক ছিল!! আমাদের দিন,রাত,আমার অফিসের ইমেইল্স,তিথির বই পড়া সন্ধ্যাগুলো!!একসাথে ডিনার,রুটিন ভালবাসা সেরে ঘুম!!

মাসতিনেক অনেক বোঝানোর পরে বাচ্চার ব্যাপারে রাজি করানো গেল তিথিকে!!আমি জানতাম,ওটাই ওর ডিপ্রেশনের একমাত্র অসুধ!!এই যে সারাক্ষণ কি যেন নাই কি যেন নাই করে ঘুরে বেড়ানো!!সব বন্ধ হবে একটা বাচ্চা এলেই!!বেশি বুঝেছিলাম একটু!!

প্রেগন্যান্সি পিরিয়ড এ একদম ভালো ছিল ও!! নো প্রেসার, নো ডায়াবেটিস!! টুকটাক এসিডিটি আর মাঝে মাঝে এপেটাইট লুজ করা!! দ্যাটস ইট!! আই ওয়াজ ওয়েটিং ফর দ্য এক্সপেকটেড ডেট!! তিথি কি একটু বেশিই নির্লিপ্ত ছিল?? মাঝে মাঝে রাগ হত আমার!! মা হবার কোনো এক্সাইটমেন্ট থাকবে না??

সেই ঝড়ের রাত!! তিথি ওটিতে!! টেনশনে পায়চারী করছি আমি ওটির ঠিক বাইরে!! আধাঘন্টার একটু বেশি সময় পরে একটা সাদা কাপড়ে পেঁচিয়ে সিস্টার আমার মেয়েটাকে এনে আমার কোলে তুলে দিল, উদ্বিগ্ন, নিরানন্দ মুখে!! আমি জিগ্গেস করলাম- তিথি??

উনার প্রচন্ড ব্লিডিং হচ্ছে!! আপনি অপেক্ষা করেন!! ডাক্তার ডাকবে আপনাকে!!

ঘন্টা দুয়েক পরে রাজ্যের কফিউশন মাখা চেহারার ডাক্তার জানায়, তিথির শরীরের কোনো কিছুই ঠিক মত ফাংশন করসে না!! না হার্ট, না কিডনি না লিভার!! অবাক হয়ে বলে, পেশেন্ট নিজেও কোনো চেষ্টা করছে না!! যেন সে এরকমই চেয়েছিল!! আই ওয়াজ আস্কড টু মিট হার ইমিডিয়েটলি!! যদি আমাকে দেখে, মেয়েটাকে দেখে ওর কোনো ইমপ্রুভমেন্ট হয়!!

একহাতে আমার মেয়েটাকে ধরে অন্যহাতে তিথির হাতটা ধরে কাঁদছিলাম আমি!! তিথি আমাকে ছেড়ে যেও না, আমার মেয়েটাকে ছেড়ে তুমি যেও না!!

তিথি একেবারে চলে যাবার আগে আলতো করে হেসে উত্তর দিয়ে গেল- আমি শুধু তোমাকে চেয়েছিলাম শুভ!! শুধুই তোমাকে চেয়েছিলাম!!

বি:দ্র:- যখন তিথি ছিল তখন আমার সময় ছিল না!! এখন তিথি নাই অথচ অফুরন্ত সময় আমার!! অফিস আর সংসারকে মেলাই না এখন আর!! অফিস শেষ করে মেয়েকে নিয়ে বসে থাকি!! মেয়ের সব আবদার মেটাই,সব অভিযোগ শুনি!! এখন বুঝি,অভিমান জমে পাহাড় হবার আগেই তাকে ভালবাসা দিয়ে ভেঙ্গে দিতে হয়!!

ফেসবুক থেকে সংগৃহিত



মন্তব্য চালু নেই