মেইন ম্যেনু

৯ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা

অনুমতি ছাড়াই শহীদ মিনারে ১৮ সংগঠনের কর্মসূচি

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক পিয়াস করিমকে শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে নেয়ার অনুমতি না দিলেও গতকাল সেখানে বিনা অনুমতিতে
সমাবেশ ও কর্মসূচি পালন করেছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগে দু’টি সংগঠনের অনুমতি নেয়ার কথা জানালেও গতকাল শহীদ মিনারে অন্তত ২০টি সংগঠনের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড নামের একটি সংগঠনের সমাবেশ থেকে দেশের বিশিষ্ট ৯ জন নাগরিককে শহীদ মিনারে ‘অবাঞ্ছিত‘ ঘোষণা করা হয়। সিপি গ্যাং নামের একটি সংগঠন তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ব্যানার টানিয়ে তাদের প্রতিহত করার ডাক দেয়। ভিন্ন ভিন্ন সংগঠনের নামে কর্মসূচি পালন হলেও সব কর্মসূচিতেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়।
গতকাল সকালে শহীদ মিনারে প্রায় ২০টি সংগঠন কর্মসূচি পালন করে। সংগঠনগুলো হলো- গণজাগরণ মঞ্চের সরকারপক্ষ বলে পরিচিত কামাল পাশা চৌধুরীর অংশ, মঞ্চের সঙ্গে জড়িত ৫টি ছাত্রসংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, প্রাণের ৭১, স্লোগান ৭১, বঙ্গবন্ধু সৈনিক প্লাটুন, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম, সিপি, ছাত্রসংগ্রাম পরিষদসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন। এর মধ্যে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদে ৭টি সংগঠন রয়েছে। এগুলো হলো- ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ (জাসদ), ছাত্রলীগ (বাসদ), গণতান্ত্রিক ছাত্রঐক্য, বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র সমিতি। এদের মধ্যে স্লোগান ৭১ এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমতি নেয় কর্মসূচি পালনের জন্য। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ বলেন, স্লোগান ’৭১ এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডকে কর্মসূচি পালনে অনুমতি দেয়া হয়েছে। বাকিদের অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে তারা সমঝোতার মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করে। অনুমতি না নিয়ে অনুষ্ঠান করায় তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে ব্যবস্থা নেয়ার কিছু নেই। পিয়াস করিমের লাশ আনতে অনুমতি না দেয়া প্রসঙ্গে ড. আমজাদ বলেন, এখানে অনুমতি দেয়ার বিষয় নয়। পিয়াস করিমের পরিবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করে লাশ শহীদ মিনারে নিয়ে আসতে পারতো।
অধ্যাপক পিয়াস করিমের লাশ শহীদ মিনারে ঠেকাতে কর্মসূচি পালন করলেও কর্মসূচি পালনকারী সংগঠনগুলোর নেতারা দেশের প্রথিতযশা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে বক্তব্য রাখেন। টেলিভিশন টকশোর জনপ্রিয় আলোচকদের প্রতিহতের ডাক দিয়ে শহীদ মিনারে ব্যানার প্রদর্শন করে সিপি গ্যাং নামে অখ্যাত একটি সংগঠন। ব্যানারে লেখা ছিল- মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সুশীল নামধারী বুদ্ধিবেশ্যাদের প্রতিহত করুন। এরপর দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কামান্ডের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় প্রতিবাদী সমাবেশ। সমাবেশ থেকে এসব বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। তাদের বক্তব্যে নাম উল্লেখ করা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন- অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক আমেনা মহসিন, সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার, জনপ্রিয় টকশো উপস্থাপক মতিউর রহমান চৌধুরী, সম্পাদক ও টক শো আলোচক নূরুল কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সিনিয়র সাংবাদিক ও টক শো আলোচক গোলাম মোর্তজা ও আইনজীবী ড. তুহিন মালিক।
সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি মেহেদী হাসান তাঁদের ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে বলেন, দেশদ্রোহী পিয়াস করিমের লাশ শহীদ মিনারে আনার কথা বলায় তাদের শহীদ মিনারে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হল। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় রাজাকাররা প্রকাশ্যে আমাদের বিরোধিতা করেছিল। আর তারা দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিভিন্ন টেলিভিশন ও তাদের লেখনীতে দেশের বিরোধিতা করেন। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের আহ্বায়ক কামাল পাশা চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি জয়দেব নন্দী, জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি সামছুল ইসলাম সুমন, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী সাজু, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক তানভীর রুশমত, বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মিঠু, ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নের্তৃবৃন্দ, স্লোগান ৭১, প্রাণের ৭১, সিপি গ্যাং ও চারুশিল্পীরা।
প্রয়াত ড. পিয়াস করিমকে শ্রদ্ধা জানাতে তার লাশ শহীদ মিনারে নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর থেকে কয়েকটি সংগঠন তা ঠেকানোর ঘোষণা দেয়। এরপরই শহীদ মিনারে কর্মসূচি পালনের অনুমতির বিষয়টি আলোচনা আসে। প্রয়াত পিয়াস করিমের পরিবারের পক্ষে তার স্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমেনা মহসিন ঢাবি কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায় আগেই দুটি সংগঠন অনুমতি দেয়া পিয়াস করিমের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের কর্মসূচির অনুমতি দেয়া যাবে না। কর্তৃপক্ষ অনুমতির কথা বললেও গতকাল বিনা অনুমতিতেই শহীদ মিনারে কর্মসূচি পালন করে কয়েকটি সংগঠন।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই