মেইন ম্যেনু

রমনা বটমূলে বোমা হামলা

৬ জনের যাবজ্জীবনকে কারসাজি বললেন পিপি

রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলার রায়ে ছয়জনের যাবজ্জীবনকে কারসাজির রায় বললেন ওই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌশলী এসএম জাহিদ হোসেন ওরফে জাহিদ সরদার। এই কারসাজির সঙ্গে মহানগর পিপি আবু আব্দুল্লাহ জড়িত বলেও দাবি করেছেন।

রায় প্রদানের পর বেলা আড়াইটার দিকে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রতিক্রিয়ায় তার বক্তব্যের স্বপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন।

রায়কে কেন কারসাজির রায় বলছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেখানে সব আসামির বিরুদ্ধে একই ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেছেন, সেখানে কারো ফাঁসি এবং কারো যাবজ্জীবন প্রদানই প্রমাণ করে যে এটি একটি কারসাজির রায়।’

রোববার (রায়ের আগের দিন) মহানগর পিপি আব্দুল্লাহ আবু বিকেল ৪টার দিকে সংশ্লিষ্ট বিচারকের খাস কামরায় গিয়ে বিচারককে প্রভাবিত করে এই কারসাজির রায় তৈরি করিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

আপনি তো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে চিকিৎসাধীন আছেন, তাহলে কীভাবে জানলেন যে মহানগর পিপি বিচারকের খাসকামরায় গিয়েছেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কীভাবে জেনেছি সেটা বলা যাবে না। তবে সাক্ষী আছে।’ সাক্ষী হিসেবে তিনি ওই আদালতেরই সহকারী পাবলিক প্রসিকউটর অ্যাডভোকেট মো. দেলোয়ার হোসেনের নাম উল্লেখ করেন। এ সময় সঙ্গে থাকা এপিপি মো. দেলোয়ার হোসেনও তার কথায় সায় দেন।

তিনি বলেন, ‘সাড়ে চার বছর ধরে মামলা চলছে, এক সেকেন্ডের জন্যও মহানগর পিপি এই মামলায় আসেননি বা যুক্ত ছিলেন না। চার পাঁচদিন আগে থেকে রাষ্ট্রীয় কোনো এক পিপি যিনি এই মামলায় সংশ্লিষ্ট না তিনি জামায়াত-বিএনপির কয়েকজন আইনজীবীকে বাইরে রেখে জজ সাহেবের কাছে দু/তিনবার গেছেন। অথচ আমি সংশ্লিষ্ট কোর্টের পিপি হিসেবে কোনোদিনও বিচারকের কাছে যাইনি।’

তিনি বলেন, ‘একই ধারার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আটজনের ফাঁসি হয়েছে, আর ছয়জনের হয়েছে যাবজ্জীবন। আমি এটা মনে করি সমান অপরাধ করলে এবং তা প্রমাণ হলে সমান সাজা হবে। আমি আশা করেছিলাম সবার মৃত্যুদণ্ড হবে। জজ সাহেবও বলেছিলেন যে সবার বিরুদ্ধেই ৩০২ ও ১২০বি ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মুফতি হান্নানের বিরুদ্ধেও ৩০২/১২০বি প্রমাণিত হয়েছে আর যাদের যাবজ্জীবন হয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও ৩০২ এবং ১২০বি প্রমাণিত হয়েছে। তাহলে একজনের মৃত্যুদণ্ড এবং একজনের যাবজ্জীবন হবে কেন?’

এছাড়াও এসএম জাহিদ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় এমন একজন আইনজীবী সাক্ষাৎকার দিয়েছেন যিনি কখনো এই মামলা পরিচালনার সঙ্গে ছিলেন না।’ ওই আইনজীবীর নাম জানতে চাইলে পরে তিনি সাক্ষাৎকার প্রদানকারী আইনজীবী হিসেবে সাইদুর রহমান মানিকের কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘তবে বিচারক অত্যন্ত ভালো মানুষ এবং দক্ষ বিচারক।’ তবে মহানগর পিপি আব্দুল্লাহ আবু ওই বিচারককে প্রভাবিত করেছেন বলে কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে তিনি বক্তব্য দেন।

উল্লেখ্য, রায় প্রদানের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতে মহানগর পিপির আগমন এবং আসন গ্রহণ করাকে কেন্দ্র করে ওই আাদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকউটর ও এ মামলার প্রধান কৌশলী অ্যাডভোকেট এসএম জাহিদ হোসেন ওরফে জাহিদ সরদার তীব্র ভাষায় তাকে আক্রমণ করেন। মহানগর পিপিকে তিনি আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবেও উল্লেখ করেন।

এরপর অ্যাডভোকেট এসএম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে মহানগর পিপির সমর্থকদের চরম বাদানুবাদ তৈরি হলে আদালতে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান।






মন্তব্য চালু নেই