মেইন ম্যেনু

৫ জানুয়ারির নির্বাচনে শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ ভোট দেয় নাই। সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছে

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, হবে না। নির্বাচন নিরপেক্ষ না হলে আপনারা কোনোদিন ভোটের অধিকার পাবেন না। আওয়ামী লীগ আপনাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, জনগণ ২০-দলীয় জোটের সঙ্গে আছে, আগামী দিনে তারা তা প্রমাণ করবে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ ভোট দেয় নাই। সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছে। কিন্তু চুরি করে ক্ষমতায় বসে থাকা যায় না।

নীলফামারী হাইস্কুল মাঠে ২০ দলীয় জোটের আয়োজিত জনসভায় বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন। নীলফামারী হাইস্কুল মাঠে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় শুরু হওয়া এ জনসভায় জোটের স্থানীয় ও জাতীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিছুল আরেফিন চৌধুরী।

এসময় খালেদা জিয়া বলেন, দেশে বর্তমানে গণতান্ত্রিক সরকার নেই। তারা অবৈধ। এরা নির্বাচিত সরকার নয়। নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশ পরিচালনা করার অধিকার তাদের নেই। অবিলম্বে নির্বাচন দিতে হবে।

‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন অথর্ব’

বর্তমান নির্বাচন কমিশন ‘অথর্ব’ মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেছেন, এ কমিশন বাতিল করে এমন কমিশন গঠন করতে হবে, যারা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। তারা নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করবে।

তিনি বলেন, সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে হয়। সোজা কথায় নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে আঙুল বাঁকা করতে হবে।

‘হাসিনাকে বিদায় করব’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সময়মতো আন্দোলনের ডাক দেব। এবার আর ব্যর্থ হবো না। অবশ্যই আগের মতোই জয়ী হব। রক্ত দেওয়ার জন্য তৈরি আছি। স্বৈরাচার এরশাদকে বিদায় করেছি। হাসিনাকেও বিদায় করব।

‘লুটপাট করে ব্যাংকগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে সরকার’

খালেদা জিয়া বলেন, সরকার লুটপাট করে ব্যাংকগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। দুর্নীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তাদের মন্ত্রীরাও ব্যর্থতা স্বীকার করছেন।

তিনি দাবি করেন, সরকার ডেসটিনি গ্রুপের ৩৮ হাজার কোটি টাকা, হলমার্ক গ্রুপের তিন হাজার ৫০০ কোটি, বিসমিল্লাহ গ্রুপের ১২শ’ কোটি, বেসিক ব্যাংকের চার হাজার ৫০০ কোটি, রুপালি ব্যাংকের ১২শ’ কোটি, কৃষি ব্যাংকের ৬শ’, জনতা ব্যাংকের ৬শ’ কোটি টাকা লুটপাট করেছে। এছাড়া, শেয়ার বাজার থেকেও হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তারা জনগণকে ধোকা দিয়ে কুইক রেন্টালের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে। এতো এতো বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলে, কিন্তু বিদ্যুৎ গেল কই? ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ বিদ্যুৎ পায় না, জামালপুরের মানুষ বিদ্যুৎ পায় না, নীলফামারীর মানুষ বিদ্যুৎ পায় না, ঢাকায় কেবল লোডশেডিং। তাহলে কুইক রেন্টালের বিদ্যুৎ কই?

তিনি বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় কতোজন নিহত হয়েছে তার কোনো হিসাব সরকার দেয়নি। উপরুন্ত দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য বিদেশি সংস্থার দেওয়া অর্থ সহযোগিতা লুটপাট করা হয়েছে।

‘র‌্যাবের কার্যক্রমে বিদেশিরাও উদ্বিগ্ন’

র‌্যাবের গুম, খুনের বিষয়ে বিদেশিরাও উদ্বিগ্ন -এমন মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, আমরাই র‌্যাব প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। কারণ ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে যুবলীগ, ছাত্রলীগ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল। তাদের দেশে ত্রাসের রাজত্ব করছিল। এ অবস্থায় আমার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে র‌্যাব প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। তবে কোনো রাজনৈতিক দলকে দমনে আমরা র‌্যাব প্রতিষ্ঠা করিনি। কিন্তু এ সরকার র‌্যাব দিয়ে গুম, খুন, অপহরণ চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না, চলতে দিব না। তাই আমরা র‌্যাব বাতিলের দাবি জানিয়েছি। বিদেশিরাও র‌্যাব বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

‘পুলিশ জনগণের সেবক, তাদের দিয়েও সরকার খুন করাচ্ছে’

খালেদা পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ নেই। আপনারা জনগণের সেবক। কিস্তু আপনাদের দিয়েও গুম, খুন করাচ্ছে সরকার। এভাবে চলতে পারে না। তাই পুলিশ ভাইদের প্রতি আমার আহ্বান আপনারা জনগণের সঙ্গে থাকুন।

‘বাকশালী সরকার আইন করে টকশো নিষিদ্ধ করতে চাইছে’

তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আপনারা নতুন নতুন আইন করছেন, সম্প্রচার নীতিমালা, অভিশংসন আইন —আমি বলবো এগুলো বাদ দেন। কারণ এগুলো বৈধ হবে না। আপনারা গণবিচ্ছিন্ন বলে এগুলো করছেন, কারণ জনগণ আপনাদের সঙ্গে নাই।

সম্প্রচার নীতিমালা করে বিরোধীদলের মুখ বন্ধ করা যাবে না। এরই মধ্যে টকশোতে অনেককে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে এ অবৈধ সরকার, বাকশালী সরকার।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বহনকারী গাড়িবহর দুপুর ২টার দিকে নীলফামারী সার্কিট হাউজে এসে পৌছায়।

দুপুর দুইটায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হলেও সকাল থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য নীলফামারী হাইস্কুল বড় মাঠের দিকে আসতে থাকেন। সৈয়দপুরের পর থেকেই বিশেষ করে নীলফামারীর প্রবেশমুখ দাড়োয়ানী এলাকা থেকে জনসভা স্থলের ১২ কিলোমিটার রাস্তায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহর জনতার ভীড় ঠেলে আসতে ঘন্টাখানেকেরও বেশি সময় লাগে।

দুপুর গড়ানোর আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে জনসভার বিশাল মাঠ। সকাল থেকে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের আধিক্য চোখে পড়ে। মাথায় জামায়াতের পট্টি বেধে হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে মাঠের দিকে আসেন। এর পর অন্য শরিক বাংলাদেশ ন্যাপ‘র নেতাকর্মীরা মাথায় লাল টুপি ও লাল জামা-গেঞ্জি পড়ে মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। জাগপারও বেশ কিছু নেতাকর্মীকে রঙিন পোষাকসহ সমাবেশের দিকে মিছিল নিয়ে আসতে দেখা যায়।

সমাবেশের জন্য ঢাকার তাহের মাইক সার্ভিস থেকে আড়াইশত মাইক পুরো নীলফামারী শহরে লাগানো হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই