মেইন ম্যেনু

১৭০ বছরের পুরনো শ্যাম্পেন!

প্রত্যেকটি দেশেরই নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী কিছু পানীয় থাকে। জলবায়ু এবং সাংস্কৃতিক কারণে এই পানীয়ের বৈশিষ্ট্যের তারতম্য ঘটে। আধিপত্যবাদী সংস্কৃতির কারণে আজ কিছু পানীয় ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে দেশে দেশে ছড়িয়ে পরেছে। তেমনি এক পানীয় শ্যাম্পেন। ফ্রান্সে তৈরি করা এই পানীয় দীর্ঘদিন ধরেই পানীয়ের জগতের শিরোমনি হয়ে আছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান কিংবা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীর হাতে আমরা হরহামেশাই যে পানীয়টি দেখতে পাই সেটা শ্যাম্পেন। সম্প্রতি একদল গবেষক গবেষণাগারে ১৭০ বছরের পুরনো শ্যাম্পেইন পরীক্ষা করে দেখছেন এর প্রাচীন প্রস্তুত প্রণালী বের করার জন্য।

২০১০ সালে বাল্টিক সাগরের তলদেশ থেকে একদল ডুবুরি ১৭০ বছরের পুরনো ১৬৮ বোতল শ্যাম্পেন উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত বোতলগুলোর মধ্যে বেশকিছু বোতলে সাগরের নোনা পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেলেও, কিছু বোতল ঠিকই অক্ষত ছিল। সেই অক্ষত শ্যাম্পেনের বোতলগুলোই এখন পরীক্ষা করে দেখছেন গবেষকরা। প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্রান্সের সাবেক ওয়াইন প্রস্তুতকারকরা শ্যাম্পেন তৈরিতে আধুনিক সময়ের তুলনায় অধিক চিনি ব্যবহার করতো। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই শ্যাম্পেনে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার আর্সেনিকও পাওয়া গেছে। কিন্তু শ্যাম্পেন তৈরিতে তৎকালীন ওয়াইন প্রস্তুতকারকরা কেন আর্সেনিকের মতো বিষ ব্যবহার করতো তা জানা যায়নি।

গত ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত এক নিলামে বাল্টিক সাগরের তলদেশ থেকে প্রাপ্ত প্রাচীন শ্যাম্পেনের কিছু বোতল বিক্রি করা হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি’র দেয়া তথ্য মতে, নিলামে মোট দশ হাজার ইউরোতে বিক্রি হয়েছিল সেই শ্যাম্পেনের বোতলগুলো। পৃথিবীতে এযাবৎ প্রাপ্ত পুরনো পানীয়ের মধ্যে নিঃসন্দেহে এই শ্যাম্পেনগুলো বেশ প্রাচীন এবং সবচেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রিত।

১৭০ বছরের পুরনো শ্যাম্পেন চেখে দেখেছিলেন ফরাসি অধ্যাপক ও ওয়াইন বিশেষজ্ঞ ফিলিপ জেনদার্ত। অবশ্য ফিলিপের পক্ষে মাত্র একশ মাইক্রোলিটার শ্যাম্পেন চেখে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। সেই অল্প একটু পানীয় চেখে দেখার পর ফিলিপ যা বলেছিলেন তা হলো, ‘এর ঘ্রান নেয়া এক কথায় অসম্ভব। কিন্তু এটা সত্যিই দুর্দান্ত। এর স্বাদ অনেকটা তামাক এবং চামড়ার সঙ্গে মিলে যায়। তবে অতটুকু পানীয় পান করার পরবর্তী তিন ঘণ্টা পর্যন্ত এর স্বাদ আমার মুখে ছিল।’






মন্তব্য চালু নেই