মেইন ম্যেনু

বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচক-২০১৪

১০ হাজার হামলা, নিহত ১৮ হাজার

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বিশ্বে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যে লড়াই ও প্রচারণা চলছে তা এক প্রকার নিষ্ফল হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়। কেননা বিশ্বে গত এক দশকে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। সোমবার প্রকাশিত ‘বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচক-২০১৪’ রিপোর্টে এ ইঙ্গিতই দেয়।

ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১২ এবং ২০১৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের হার শতকরা ৬১ ভাগ বেড়ে গেছে। গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সবমিলিয়ে ১০ হাজারের মত সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এ সংখ্যা ২০১২ সালের চেয়ে ৪৪ ভাগ বেশি। জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট, আল কায়দা, বোকো হারাম এবং তালেবানরাই অধিকাংশ সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ সূচকের শীর্ষে রয়েছে ইরাক। ‘ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস এন্ড পিস’ (আইপি)কর্তৃক প্রকাশিত ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী হামলায় ২০১৩ সালে ১৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ‘বিশ্বে কেবল সন্ত্রাসের তীব্রতাই বাড়েনি এর প্রসারও বৃদ্ধি পেয়েছে।’

আইইপি’র নির্বাহী পরিচালক স্টিভ কিলেলা সংবাদ সংস্থা বিবিসিকে জানান, সন্ত্রাসবাদের সর্বশেষ সংযোজন হচ্ছে সিরিয়া। ২০১১ সালে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সিরিয়া থেকে পরে ইরাকে ছড়িয়ে পড়েছে সন্ত্রাসীরা।

২০০০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৩ বছরের নানা উপাত্তের ওপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়েছে এই বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচক-২০১৪। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘গ্লোবাল টেররিজম ডাটাবেস’ থেকে এসব তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে এ সূচক তৈরি করেছে আইইপি। সন্ত্রাসী কর্যক্রম, হামলার সংখ্যা, হতাহতের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের ওপর নির্ভর করে দেশগুলোর তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

২০১৩ সালে যে পাঁচটি দেশে সর্বাধিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছিল সেগুলো হচ্ছে: ইরাক, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া এবং সিরিয়া। শতকরা ৮০ ভাগ হামলার ঘটনাই ঘটেছে এ ক’টি দেশে। সূচকের শীর্ষে থাকা ইরাকে নিহত হয়েছে ৬ হাজারের বেশি মানুষ। পরবর্তী পাঁচটি দেশ হচ্ছে ভারত, সোমালিয়া, ইয়েমেন ও থাইল্যান্ড। সন্ত্রাবাদের কারণে এসব দেশে ১ থেকে ২ দশমিক ৩ ভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।Untitled-1 ১০ হাজার হামলা, নিহত ১৮ হাজারসূচকে দেয়া তথ্যানুযায়ী এশিয়া এবং আফ্রিকার মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোই সন্ত্রাবাদের শিকার হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো। যদিও ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলাটি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে। এছাড়া ২০০৪ সালে মাদ্রিদের ট্রেনে বোমা হামলা, ২০০৫ সালে লন্ডনে বোমা হামলা এবং ২০১২ সালে নরওয়েতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়া তুরস্ক ও মেক্সিকোতে বিভিন্ন হামলায় নিহত হয়েছে যথাক্রমে ৫৭ ও ৪০।

সন্ত্রাসবাদ হামলার ওপর প্রকাশিত ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে যে, ২০১৩ সালে যেসব সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর অধিকাংশের পিছনে রয়েছে চারটি প্রধান গোষ্ঠ। এগুলো হচ্ছে আল-কায়দা, তালেবান, বোকো হারাম এবং ইসলামি স্টেট। এই চারটি গোষ্ঠীই ইসলাম ধর্মকে উপজীব্য করে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে। তারা ওয়াহাবি মাজহাবের অনুসারী বলেও ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই