মেইন ম্যেনু

হিগুয়াইনের গোলে দুই যুগ পর শেষ চারে আর্জেন্টিনা

দীর্ঘ দুই যুগ পর বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে উঠলো আর্জেন্টিনা। দুই যুগের অপেক্ষার অবসান হলো বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়ে। গনসালো হিগুয়াইনের একমাত্র গোলে বেলজিয়ামকে হারিয়ে ব্রাজিল বিশ্বকাপের শেষ চার নিশ্চিত করলো লিওনেল মেসির দল। বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচের ৮ মিনিটেই গঞ্জালো হিগুয়েনের গোলে শুভ সূচনা করে শিরোপার দাবিদার আর্জেন্টিনা।
১৯৯০ সালে শেষবার বিশ্বকাপের শেষ চারে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। এবার মেসির কাঁধে সওয়ার হয়ে একের পর এক বাঁধা পেরুচ্ছে ‘আলবিসেলেস্তে’রা। তবে এই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো মনে হয়েছে একটা দল হিসেবেই খেলছে তারা।

ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির ঝলক তো ছিলই বেলজিয়ামের সঙ্গে ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন নাপোলি স্ট্রাইকার হিগুয়াইনও। ৩৩তম মিনিটে চোট পেয়ে আনহেল দি মারিয়া মাঠ ছাড়লে দলের প্রয়োজনে মিডফিল্ডে নেমে আসেন নাপোলির এই স্ট্রাইকার।

খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বেলজিয়াম। আর্জেন্টিনার জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেননি এডেন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকুরা। অফসাইড ফাঁদে পড়ে অনেক প্রচেষ্টা নষ্ট করা মারুয়ান ফেলাইনি, ড্রিস মের্টেনসরা আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক সের্হিও রোমেরোকে তেমন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি।

শনিবার ব্রাজিলিয়ার স্তাদিও নাসিওনালে তৃতীয় মিনিটে বল পেয়েই আর্জেন্টিনার প্রথম আক্রমণের সূচনা করেন লিওনেল মেসি।

অষ্টম মিনিটে মাঝমাঠে বল পান মেসি। বল পায়ে আঠার মতো রেখে বেলজিয়ামের দুই খেলোয়াড়কে এড়িয়ে আনহেল দি মারিয়াকে বল দেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার বল বাড়িয়েছিলেন ডানে সাবালেতার দিকে। কিন্তু বল বেলজিয়ামের এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে যায় হিগুয়াইনের কাছে। প্রথম ছোঁয়াতেই বাঁ পোস্টে ডান পায়ের হাফভলি ফেরানোর কোনো সুযোগই ছিল না অন্য পোস্টে থাকা থিবো কোর্তোয়ার।

২৬তম মিনিটে প্রথম সুযোগটি পায় বেলজিয়াম। কেভিন ডি ব্রুইন জোরালো শট কোনোমতে ঠেকান সের্হিও রোমেরো।

দুই মিনিট পর মাঝ মাঠ থেকে মেসির অসাধারণ এক পাস থেকে সুযোগ পান দি মারিয়া। ডি বক্সে ঢুকে শট নিলেও সঙ্গে লেগে থাকা ভিনসেন্ট কম্পানি ঠেকিয়ে দেন।

৩৯তম মিনিটে ডি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে মেসির ফ্রি-কিক অল্পের জন্য লক্ষ্যে থাকেনি। তিন মিনিট পর সুযোগ আসে বেলজিয়ামের সামনেও। ইয়ান ভার্টনেনের ক্রস থেকে কেভিন মিরালেস হেড লক্ষ্যে থাকেনি।

৫১তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে হিগুয়াইনের শট বেলজিয়ামের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে বার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। একটু পরে এসেকিয়েল লাভেস্সির ক্রস ডি বক্সে কোনো সতীর্থকে খুঁজে পায়নি।

চার মিনিট পর হিগুয়াইনকে হতাশ করে ক্রসবার। অনেকটা দৌঁড়ে কম্পানির দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল গলিয়ে বেলজিয়ামের ডি বক্সে ঢুকে পড়েন হিগুয়াইন। সামনে ছিলেন কেবল কোর্তোয়া। তাকে পরাস্ত করতে পারলেও বল ক্রসবারে লেগে বাইরে চলে গেলে হতাশায় পুড়তে হয় নাপোলি স্ট্রাইকারকে।

শেষ দিকের টানটান উত্তেজনা আর দু’দলেরই মুহুর্মুহু আক্রমনের পর রেফারির শেষ বাশি যখন বেঁজে উঠলো তখন আনন্দে আত্মহারা হয়ে মাঠে ছুটে গেলো বেঞ্চে থাকা আর্জেন্টাইন অতিরিক্ত খেলোয়াররা। আর খুশিতে মেতে উঠলো দলের সমর্থকরাও। ম্যাচের প্রথমদিকের হিগুউনের একমাত্র গোলই শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘ ২৪ বছর পর সেমি-ফাইনালে তুললো।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই