মেইন ম্যেনু

হাসি ওষুধের চেয়েও উপকারী

হাসি মানুষের জীবনে অনেক উপকারী। সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এটি অনেক সময় ওষুধের চেয়েও বেশি উপকারী।
বিশেষ করে মানসিক চাপ, ব্যথা এবং সংঘাতের ওপর একটি শক্তিশালী প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে এটি।

একটি সুন্দর হাসিই একজন মানুষের মন ও শরীরকে দ্রুত ভারসাম্যে ফিরিয়ে আনতে পারে, যা অনেক সময় ওষুধ করতে পারে না। ঘন ঘন হাসা শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

একটি সুন্দর হাসি মানসিক এবং শারীরিক চাপ কমিয়ে দেয়, যা সব মাংসপেশিকে প্রায় ৪৫ মিনিট শিথিল রাখতে সহায়তা করে। হাসি মানুষের দেহের হরমোনের চাপ কমায় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

এতে শরীরে ক্ষতিকর পদার্থ প্রবেশ করলে তা ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। হাসি দেহের ধমনির কাজ আরও উন্নত করে। এতে দেহে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এ কারণে হার্ট অ্যাটাক, কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা থেকে আমরা রক্ষা পাই। ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ দৈনিক ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মতো হাসলে প্রায় ৪০ ক্যালোরি বার্ন হয়, যা মেদ কমাতে সাহায্য করে।

প্রিয় মানুষের মুখের ফুলঝরা হাসিতে নিজেকে ভাসিয়ে দিতে কোনো বাধা থাকে না। নিজেকে ধন্য মনে হয়, তার হাসির জোয়ারে হারিয়ে যেতে পারলে। কারণ প্রিয়জনের মুখের প্রকৃত হাসি সাদা মনের বহিঃপ্রকাশ বটে। অপরদিকে জটিলতাপূর্ণ হাসি গোল বাধিয়ে বসে অন্যের মনে, জন্ম দেয় নানা প্রশ্নের। প্রকৃত হাসিতে মেশানো থাকে পবিত্রতার ছোঁয়া আর কৃত্রিম হাসিতে থাকে জটিলতা। এভাবেই বলেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষক গবেষক বেলিন্ডা ক্যামপস।

গবেষণায় তিনি প্রমাণ পেয়েছেন, হাসি মানুষকে খুশি রাখতে সাহায্য করে। এমনকি একটি ভালো সম্পর্ক রক্ষার্থে হাসির কোনো বিকল্প নেই। আপনার সুন্দর হাসি সৃষ্টি করতে পারে খুব ভালো একটি পরিবেশ। কারণ মানুষ যখন মনখুলে হাসে তখন স্বর্গ থেকে নেমে আসে সুখ। সব খারাপ লাগাকে সরিয়ে দেয় অনেক দূরে। সঙ্গীর মন পাওয়ার জন্য এটা হতে পারে উত্তম একটি পন্থা।

বেলিন্ডার পৃথক দুটি গবেষণায় প্রায় দেড়শো জুটির মতামত গ্রহণ করা হয়। তাদের অধিকাংশর মতে, একটি ভালো দাম্পত্যের জন্য চাই ইতিবাচক সাড়া। সঙ্গী সম্পর্কের ব্যাপারে মনোযোগী ও শ্রদ্ধাশীল হলে সেই ইতিবাচক সাড়া দেয়া সম্ভব। তার উচ্ছ্বলতার প্রকাশ ঘটে আচরণে। মানুষের আচরণের সবচেয়ে প্রথমে চোখে পড়ার মতো দিকটি হলো তার হাসি। হাস্যোজ্জ্বল একজন মানুষ সাধারণত খারাপ কোনো খারাপ কাজ করতে পারে না বলে তাদের ধারণা।

গবেষক বেলিন্ডা বলেন, আমাদের গবেষণায় সামাজিক সম্প্রতি বৃদ্ধি এবং সামাজিক যোগাযোগ উন্নয়নেও হাসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে। সদা হাস্যোজ্জ্বল একজন ব্যক্তির মন থাকে সব সময় উদার। তিনি সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে সব সময় সচেষ্ট।






মন্তব্য চালু নেই