মেইন ম্যেনু

হাসপাতালে ভর্তির নাটক করে ৬জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের।। ঘটনা ফাঁস

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তির নাটক করে কলারোয়ায় থানায় মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা করলেন এক কলেজ প্রভাষক। ঘটনাটি ঘটেছে, গত ১৯ নভেম্বর কলারোয়ার শেখ আমানুল¬াহ ডিগ্রী কলেজে। জানা গেছে, ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দায়ত্বি প্রাপ্ত প্রধান প্রভাষক রফিকুল ইসলাম (৪৫) এর সহিত ওই বিভাগের তৎকালীন প্রধান সহকারী অধ্যাপক আবুল খায়ের (৫২) সাথে অফিস কক্ষে সামান্ন কথা কাটাকাটি হয়। এঘটনা নিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখাতে গিয়ে মিথ্যা মামলায় ৬ জন শিক্ষককে হয়রানী করার জন্য কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উলে¬খঃ- করেন যে, মামলার বাদী প্রভাষক রফিকুল ইসলাম গুরুত্বর জখম হয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে তিনি তার সহকর্মী আলমগীর কবিরকে দিয়ে থানায় এজাহারটি দাখিল করেছেন। অথচ গতকাল শনিবার সাংবাদিকরা সরেজমিনে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে গেলে দেখা যায় বেড আছে রুগি নেই। গত ১৯ নভেম্বর প্রভাষক রফিকুল ইসলাম শুধু মাত্র মামলা করার জন্য মিথ্যা নাটক করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ১নং পুরুষ ওয়ার্ডের ১১ নং বেডটি তিনি নেন। যার রেজিঃ নং-৭৩৪৯/১৭। অথচ তিনি সুস্থ্য থাকায় বাড়ীতে রয়েছেন। এ বিষয়ে ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মরত চিকিৎসকদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। আরো জানা গেছে, ওই কলেজের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে অধ্যক্ষ রইচউদ্দীন ২০১২ সালের মে মাসে অবসরে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে কে দায়িত্বে বসবেন এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে দুটি গ্র“প সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে কলেজ পরিচালনা পরিষদের দফায় দফায় মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক আবুল খায়ের। কিন্তু সেই থেকে শিক্ষকদের মধ্যে দুটি গ্র“প থেকেই যায়। এদিকে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল খায়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব থাকায় অধ্যক্ষ এবং সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান এক সাথে দুটি দায়িত্ব পালন করা কষ্টকর হওয়ায় তিনি লিখিত ভাবে ওই বিভাগের প্রভাষক রফিকুল ইসলামের উপর সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব দেন। তিনি এক বছরের বেশী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থাকার পর অধ্যক্ষ পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে ওই পদে প্রার্থী হওয়ার কারণে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ ছেড়ে দেন। তবে আজও পর্যন্ত ওই কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ না হওয়ায় গত বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সহকারী অধ্যাপক আবুল খায়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের কার্যালয়ে যায়। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই বিভাগের প্রধান প্রভাষক রফিকুল ইসলামকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পরিপত্র দেখিয়ে তাকে ওই চেয়ারে পুনরায় না বসার কথা বললে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির হয়। এদিকে সহকারী অধ্যাপক আবুল খায়ের সাংবাদিকদের জানান, তিনি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনিরা পারভীনকে কয়েকবার বলেছেন যেহেতু আপাততঃ অধ্যক্ষ নিয়োগ হচ্ছে না তাই তার বিভাগীয় প্রধান পদটি ফিরিয়ে দেয়া হোক। কিন্ত এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় বুধবার তিনি সহ কয়েকজন সহকর্মী নিয়ে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে ভাল ভাবে জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের পরিপত্র দেখিয়ে বলা হয় আগামী দিন থেকে আপনি আর এই চেয়ারে বসবেন না। এ কথা বলার সাথে সাথে তাকে কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রভাষক রফিকুল ইসলাম লাঞ্চিত করে। এ ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে একটি গ্র“প প্রভাষক রফিকুল ইসলামকে দিয়ে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে কলারোয়ায় থানায় আবুল খায়ের, রেজাউল ইসলাম, শাহাদাৎ হোসেন, আনারুল ইসলাম, আবু তৈয়ব, ইউনুছ আলী খানসহ ৬জন শিক্ষকের হয়রানী করার জন্য একটি(মামলা নং-১৭)দায়ের করে।
একই ঘটনায় সহকারী অধ্যাপক আবুল খায়ের বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় লিখিত ভাবে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু দুই পক্ষ থেকে দুটি অভিযোগ দাখিল হলেও রফিকুল ইসলামের অভিযোগটি পুলিশ আমলে নিয়ে মামলা হিসাবে রেকর্ড করে। সর্ব শেষে শেখ আমানুল¬াহ ডিগ্রী কলেজের ৬জন শিক্ষক বিষয়টি সঠিক ভাবে তদন্ত করে দেখার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করেছেন।






মন্তব্য চালু নেই