মেইন ম্যেনু

স্বস্তিকার পাঁচ প্রেমিক

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় আজকাল কলকাতার বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বিতর্কিত নাম। কেরিয়ার গ্রাফে দুর্দান্ত সাফল্যের পাশাপাশি নানান রকম গসিপে বারবার উঠে এসেছে তাঁর নাম।সাধারণ মানুষর কাছে স্বস্তিকা মানেই সমালোচনা, নিত্যনতুন প্রেম, চরম সাহসী ফটোশুট, বিতর্ক, কুৎসা। এসব কিছুই যেন ঘিরে রয়েছে তাঁকে। এহেন স্বস্তিকার প্রেমজীবনটাও রূপালি পর্দার মতোই রঙিন এবং স্বপ্নময় হবে সে আর নতুন কি। আজকের ফিচার অভিনয় জীবনে স্বস্তিকার পাঁচ প্রেম ও প্রেমিক পুরুষকে। তাঁরা সবাই তারকা। কেমন ছিল তাঁদের প্রেম? আর কে কে আছেন তালিকায়?

জিৎ:

জিৎ এবং স্বস্তিকা দুজনেই মাত্র ক্যারিয়ার শুরু করছেন তখন। সময়টা ২০০৪ থেকে ২০০৮। এই চার বছরের মধ্যে মস্তান, ক্রান্তি, পার্টনার এই তিনটি ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা। স্বস্তিকার রিল লাইফ পার্টনার জিৎ ক্রমশ রিয়েল লাইফ প্রেমিক হয়ে উঠলেন। চারেক পর দুই জনের প্রেম ভেঙে যায়। প্রথমত, জিৎ খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করে স্বস্তিকাকে গৃহবধূ হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন যা নায়িকার একবারেই পছন্দ ছিল না। যদিও এই প্রেমের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে কোয়েল মল্লিকের নাম উঠে আসে। জিতের সঙ্গে তাঁর গাঢ় বন্ধুত্বে আপত্তি ছিল টেক ওয়ান নায়িকার। সে সময় মূল ধারা ছবিতে কাজ করাকালীন স্বস্তিকার কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কোয়েল।

দিব্যেন্দু:

মুম্বইয়ের বাসিন্দা গায়ক অভিনেতা দিব্যেন্দু কলকাতায় এসে স্বস্তিকার প্রেম পড়লেন। সুব্রত সেনের ছবি নন্দিনী-এর শুটিং করতে গিয়ে দুজনের সম্পর্ক গভীর হয়। যদিও বিষয়টা এতটা সহজ ছিল না। এই ছবিতে তাঁরা দুজন ছাড়াও মুখ্য চরিত্রে ছিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে স্বস্তিকার আগে থেকেই একটা দিব্যেন্দুর প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল। পরে অবশ্য রূপা একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন ওঁরা সম্পর্ক করলে করুক, আমি সরে দাঁড়াব। এরপর একটি রিয়েলিটি শোয়ে গিয়ে ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে দু-এক বছর দিব্যেন্দুর সঙ্গে স্বস্তিকার প্রেম টিকলেও তা আদতে বালির বাঁধ হয়ে যায়। আপাতত দিব্যেন্দু ক্যাকটাস ব্যান্ডের অন্যতম ভোকালিস্ট। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে অভিনয়ও করেন।

পরম:

একসময় নাকি একই স্কুলে পড়াশুনা করেছেন। সেসময় শুধু বন্ধু থাকলেও পরে সেই বন্ধুর সঙ্গেই গাঢ়তর সম্পর্কটা গড়ে উঠল স্বস্তিকার। ব্যক্তিটি পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। এর আগের প্রেমগুলোর থেকে একবারে আলাদা, দারুণ আধুনিক এক প্রেমিক পেলেন নায়িকা। পরমের সঙ্গে তাঁর প্রেম নিয়ে শুরু থেকেই দুজনে খোলামেলা ছিলেন। একটি সংবাদপত্রের জন্য যৌথভাবে প্রায় নগ্ন অবস্থায় শুট করেছিলেন তাঁরা। এরপরই স্বস্তিকার প্রাক্তন স্বামী প্রমিত সেন পরমের বিরুদ্ধে প্রাপ্তবয়স্ক বিবাহিত মহিলাকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টার অভিযোগ জানান। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পরমের বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর পরমব্রত ব্রিস্টলে ফিল্ম কোর্স করতে চলে গেলে দুজনের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে। ইতিমধ্যে পরমের নতুন প্রেমিকা ইকার আবির্ভাব। যদিও এত আইনি ঝামেলা সত্ত্বেও পরমের সঙ্গে স্বস্তিকার সম্পর্ক এখনো খুবই পেশাদার।

সৃজিত:

পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রেম ভেঙে যাওয়ার পরই পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন স্বস্তিকা। পরিচালকের মিশর রহস্য, জাতিস্মর-এ অভিনয় করেন তিনি। দুজনকে একাধিক জায়গায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল। পার্টি থেকে ডাইনিং রুম কোথাও দুজন দুজনকে কাছ ছাড়া করতেন না। কিন্তু মোহ ফুরোল একদিন। সৃজিতের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরল স্বস্তিকার।

সুমন:

এখন পর্যন্ত স্বস্তিকার সর্বশেষ এবং বর্তমান প্রেমিক সুমন মুখোপাধ্যায়। শেষের কবিতা-এর শুটিং চলাকালীনই দুজনের মধ্যে প্রেম গড়ে ওঠে। কিন্তু মাস তিনেক আগে হঠাৎই দুজনের মধ্যে বচসার কারণে অভিনেত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা সুমন-স্বস্তিকার প্রেমের কাহিনী প্রকাশ্যে চলে আসে। বিভিন্ন সংবাদপত্র দুজনের মধ্যে পারস্পরিক ঝগড়ার থেকেই স্বস্তিকার নিজেকে শেষ করে দেওয়ার রিপোর্ট লিখলেও ঘটনার পর থেকে আরো বেশি ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দুজনকে বিভিন্ন জায়গায় দেখা যেতে থাকে।

সূত্র : কলকাতা ২৪x৭






মন্তব্য চালু নেই