মেইন ম্যেনু

স্ত্রীর কাছে স্বামী যে কথা বলতে ব্যর্থ

বোধদয়ের পর জীবনের সব চেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হল দাম্পত্য জীবন।আমাদের সমাজের রীতি অনুসারে সংসারের সকল দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে একজন নারীকে সঙ্গী করে পুরুষ। এর মধ্য দিয়েই দাম্পত্য জীবনের সূচনা।চলার পথের সফলতা-বিফলতায় সব কিছুরই সঙ্গী হতে পারে একটা মেয়ে। কিন্তু সবার অজান্তেই এমন কিছু কথা স্বামীর মনে থেকে যায় যা কখনোই স্ত্রীকে বলা হয়ে ওঠে না।তাই একজন সচেতন স্ত্রীর দায়িত্ব স্বামীর মনের না বলা সেই কথা গুলো বুঝে নেয়া।কারন স্বামী হয়তো অনেকবারই বলতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন নিজের অজান্তে লালিত আড়ষ্ঠতার জন্য। অথচ এগুলি জানা থাকলে একজন স্ত্রী তার স্বামীকে মনের মতো করে ভালবাসতে পারেন সহজেই।

স্বামীর কাছে স্ত্রীই সব, তাকে ঘিরেই স্বামীর স্বপ্ন, তাকে ছাড়া অন্য কারও কথা ভাবতে পারেননা তিনি। এই কথা গুলি মনের মধ্যে ঝড় তুললেও মুখে আনতে পারেন না পুরুষ মানুষ। সব কথা সরাসরি মুখে না বলে অন্য ভাবে বোঝাতে চান অনেকবার।স্ত্রী হয়তো তার কাছ থেকে একটা মিষ্টি আলিঙ্গন বা আবেগঘণ কথা আশা করেন। সেখানে পুরুষরা স্ত্রীর প্রিয় খাবার কিনে আনে, সাজগোজের জিনিস উপহার দেয় বা ঘরের কাজে সাহায্য করে। তখন বুজতে হবে মনের সেই না বলা কথায় জানান দিতে এতো প্রচেষ্টা তার।

স্বামী বিরুদ্ধে স্ত্রী অভিযোগের শেষ থাকে না। বিশেষ করে বাপের বাড়ির লোকদের সামনে বা নিজের বান্ধবীদের সামনে স্বামীকে নিয়ে ঠাট্টা পর্যন্ত হয়।সব শুনে মুখে কিছু না বললেও মনে মনে কুঁকড়ে যান পুরুষটি।এভাবে বেশিদিন চলতে থাকলে স্বামীর মনে হতাশার জন্ম দিবে। বিষয়টি এক সময় মারাত্মক আকার ধারণ করবে।উভয়ের কাছে উভয়ের গুরুত্ব কমতে শুরু করবে।তাই স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কোন অভিযোগ থাকলে সেটা সরাসরি বলা উচিৎ। অযথা অন্যের সামনে স্বামীর বদনাম করে তাকে ছোট করা ঠিক নয়।

স্বামী-স্ত্রী

নিজের সন্তানদের প্রতি স্ত্রীর দায়িত্বশীলতা দেখে খুশি হলেও মনে মনে নিজেকে অনেক সময় একা ভাবতে পারেন একজন স্বামী। শিশুদের জীবনে মায়ের ভূমিকা জানা সত্ত্বেও স্ত্রীকে যেন কিছুতেই অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাননা তিনি। তিনি চান হাজার কাজের মাঝেও স্ত্রী তাকে সময় দিক।স্বামীকে প্রতিমুহুর্তের ভালোবাসায় সিক্ত রাখুক।স্বামী হয়তো চান শুধু স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে যেতে।তাই স্ত্রীর উচিৎ হাজার কাজের মাঝে সময় বের করে তাকে সময় দেয়া।

স্বামীর হঠাৎ করে যদি চাকরি চলে যায় বা কর্মক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে তবে দাম্পত্য জীবনে তার প্রভাব দেখা দেয়। স্বামী চান স্ত্রী তাকে মানসিক ভাবে সাহস জোগাবে।স্ত্রী বেশি চিন্তিত হলে স্বামী আরও বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। তাই একজন সচেতন স্ত্রীর উচিৎ স্বামীকে সাহস জোগানো। তার পাশে থেকে সঙ্গ দেয়া। চিন্তা থেকে বের করে এনে নতুন পরিকল্পনায় সাহায্য করা।

সব ভাল কাজের জন্য প্রশংসা পেতে কেনা চায়।ভাল কাজের জন্য একজন স্বামীর সব চেয়ে বড় স্বীকৃতি স্ত্রীর প্রশংসা। এমনকি স্ত্রীর জন্য কিছু করলেও সেই কাজের প্রশংসা পেতে আশা করেন স্বামী। তাই স্বামীকে প্রশংসা করতে কার্পণ্য না করে উদারতা দেখানোই ভাল।এতে দুজনেরই সম্পর্ক ভাল থাকবে।

একজন স্ত্রীর উচিৎ তিনি যেমন তাকে সেভাবেই ভালবাসেন সেটা বুঝিয়ে দেয়া। কারণ একটানা যদি স্বামীর ভুল নিয়েই অভিযোগ উঠতে থাকে তবে তিনি বুঝেই উঠতে পারেননা স্ত্রী আদৌ তাকে মূল্য দেন কিনা।তাই গল্পের সময় হালকা কথায় স্বামীকে বুঝিয়ে দেয়া ভাল তার সমস্যার কথা।এতে একদিন প্রায় সব সমস্যারই সমাধান হবে। সংসার হবে সুখের।






মন্তব্য চালু নেই