মেইন ম্যেনু

সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে বাঁকানো হবে : খালেদা

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি সোজা কথায় না মানলে ‘শক্ত’ আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করা হবে বলে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল বাঁকা করতে হবে।’

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে নীলফামারী জেলা শহরের বড় মাঠে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

 

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এখনই নয়, সময় মতো আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। সেই ডাকে বৃদ্ধ-তরুণ সব বয়সী মানুষের জেগে উঠতে হবে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে দাবি আদায় করে ঘরে ফিরতে হবে।’

 

অতীতে সারাদেশে ব্যাপক সরকার বিরোধী আন্দোলন হলেও ঢাকায় আন্দোলন হয়নি জানিয়ে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘ঢাকাকে এবার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সারা দেশের মতো এবার ঢাকায়ও আন্দোলন হবে। আপনারা প্রস্তুতি নিন।’

 

দেশে জনগণের সরকার নেই মন্তব্য করে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। তাই এরা অবৈধ। নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশ পরিচালনার অধিকার নেই। সেজন্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়।’

 

এ সময় এ সরকারের অধীনে উপজেলা নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরেন বিএনপি প্রধান। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপেরও সমালোচনা করেন তিনি।

 

খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশন অথর্ব। তাদের দ্বারা নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এই কমিশন বাতিল করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি কমিশন করার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি নির্বাচনের সময়ে প্রশাসন, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরপেক্ষ থাকার দাবি জানান সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, এইসব প্রতিষ্ঠান নিরপেক্ষ না থাকলে মানুষের ভোটের অধিকার ফিরে পাবে না।

 

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ সবকিছুর দাম কমানোর বিষয়ে আওয়ামী লীগ সরকার তার ওয়াদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি জিনিসের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। জনগণের সরকার নয় বলেই বর্তমান সরকারের জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। সেজন্য তারা লুটপাট আর কমিশন নিয়ে ব্যস্ত। বিএনপির আমলে সার ও কৃষি উপকরণের দাম হাতের নাগালে থাকলেও এখন সারের দাম ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে গার্মেন্ট সেক্টর, পাট ও ওষুধ শিল্পসহ সব শিল্প ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

সরকার দেশকে দেউলিয়া করে দিতে চায় অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘ব্যাংকগুলো ও শেয়ার বাজার থেকে তারা হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। সে টাকা দেশে আছে কিনা সন্দেহ আছে। শোনা যায়, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা বেড়েছে। এই টাকা কাদের জনগণ এগুলো জানতে চায়।’

 

সরকার মিথ্যার ওপর ভর করে টিকে আছে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এভাবে বেশি দিন টিকে থাকা যাবে না। দেশের মানুষ ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে আছে। আগামীতে তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তার প্রমান দেবে।’

 

এ সময় জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে ক্ষমতাসীনদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সাহস থাকলে নির্বাচন নিয়ে প্রমান করুন। জনগণ আপনাদের নির্বাচিত করলে আমরা মেনে নেব। চুরি করে ক্ষমতায় থাকা যাবে না।’

 

নিজেদের অস্তিত্ব পাকা করতে সরকার নতুন নতুন আইন করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সরকার সম্প্রচার নীতিমালা, অভিশংসন আইন করছে। কিন্তু অনির্বাচিত হয়ে আইন করা যায় না। এগুলো অবৈধ হয়ে যাবে। জনগণ সঙ্গে নেই বলে তারা এইসব আইন করছে।’

 

তিনি বলেন, ‘এর আগেও তারা বাকশাল কায়েম করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে। এখন আবারো ঘুরে ফিরে একই জায়গায় আসছে। তাদের বিশ্বাস করা যায় না।’

 

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আনিসুল আরেফিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমেদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. ইব্রাহিম, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইসহাক, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানিসহ ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

 

এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জনসভাস্থলে আসেন। বুধবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে তিনি তার গুলশানের বাসভবন থেকে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে রাত যাপন করে দুপুরে নীলফামারীর উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।

 

চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনকে গতিশীল করতে দেশব্যাপী গণসংযোগের অংশ হিসেবে আরো তিনটি জেলায় জনসভা করবে বিএনপির নেতৃত্বধীন ২০ দলীয় জোট। নীলফামারী জনসভার পর আগামী ৩০ অক্টোবর নাটোরে, ৬ অথবা ৭ নভেম্বর কুমিল্লায় এবং ১২ নভেম্বর কিশোরগঞ্জে ২০ দলের জোটের উদ্যোগে মহাসমাবেশ হবে।






মন্তব্য চালু নেই