মেইন ম্যেনু

দেবকে ভালবেসে চারতলা থেকে লাফ দিল ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী

ঢাকার স্কুল ছাত্রী সুমির ভালবাসার জবাবে যা বললেন দেব

কলকাতার হার্টথ্রব নায়ক দেবের জন্য স্কুলের চারতলা ভবন থেকে ঝাঁপ দেয়া রাজধানীর পূর্ব জুরাইনের ১৪ বছরের কিশোরী সুমি রানী দাসের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন দেব। দ্রুত তার আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি। বুধবার ভোররাতে দেব তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে কিশোরী এই ভক্তের উদ্দেশে একটি পোস্ট করেন। তাতে তিনি সুমির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে অন্য কাউকে এ ধরনের কাজ হতে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর পূর্ব জুরাইনে ঋষিপাড়া এলাকার ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী সুমি রানী দাস স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারতলা ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়ে গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় তার বাঁ পা ভেঙে যায়। সুমি তার স্বজনদের জানিয়েছে, চিত্রনায়ক দেবকে আকর্ষিত করার জন্য সে এ কাজ করেছে। সুমির পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই ওপার বাংলার ছবির পাগল সুমি। বিশেষ করে সেখানকার হার্টথ্রব দেব তার প্রিয় নায়ক। ছবি দেখতে দেখতে দেব হয়ে ওঠে তার স্বপ্নের ‘হিরো’। তার শিয়রের কাছেই দেবের দু’টো বড় ছবি টাঙানো। দেবের মুক্তি পাওয়া কোন ছবিই আর দেখতে বাকি নেই তার। সেই স্বপ্নের নায়ক দেবের সঙ্গে দেখা করার অদম্য বাসনা জন্মে তার মধ্যে। একটা কিছু উপায় তো খুঁজে বের করতে হবে! নিজেকে নিয়ে এমন কিছু করতে হবে যাতে দেব সব কিছু শুনে তার কাছে ছুটে আসে, তাকে দেখতে আসে। যেই ভাবা সেই কাজ। কিশোরী সুমি মঙ্গলবার স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়। ভাগ্য ভাল ছিল সুমির। উপর থেকে পড়ে দোতলার টিনের ছাদে। এ যাত্রা রক্ষা পেয়েছে সে। তবে বাঁ পায়ে গুরুতর জখম হলে স্বজনরা তাকে নিয়ে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে লালবাগ তার এক আত্মীয়ের বাসায়। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার বাঁ পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। হাতে ও পিঠ কেটে গেছে। গুরুতর আহত হয়ে সে এখন শয্যাশায়ী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতীয় টিভি চ্যানেলে দেবের সিনেমা দেখে তাকে মনে প্রাণে ‘ভালবেসে’ ফেলে কিশোরী সুমি। স্বপ্নের নায়কের দেখা কখনওই পাবে না ভেবে সুমি লাফ দেয় স্কুলের ছাদ থেকে। তার ধারণা ছিল এ ঘটনা শুনে হয়তো তার স্বপ্নের নায়ক তাকে দেখতে আসবে। তবে আঘাত পাওয়ার পর তার ভুল বুঝতে পেরেছে সুমি। প্রিয় স্বজনদের সে জানিয়েছে, সে এখন অনুতপ্ত। গতকাল পূর্ব জুরাইনের ৬৪৪ নম্বর সুমিদের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তার স্বজনরা হতভম্ভ। আদরের সুমি এমন একটি কাণ্ড করবে তা কোনমতেই মেনে নিতে পারছে না সুমির মা, বাবা, ঘনিষ্ঠজনরা। সুমির বাবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শশীমোহন দাস ও স্বজনরা জানান, তার দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে সুমি দ্বিতীয়। স্থানীয় আলফা কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী সুমি পড়ালেখায় ভাল। ছোট মেয়ে সোমা (১০) জুরাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। মঙ্গলবার দুপুরে সোমাকে স্কুল থেকে আনতে যায় সুমি। সেখানে গিয়ে স্কুলের চতুর্থ তলার ছাদ থেকে লাফ দিলে পাশের দোতলা টিনশেডের ওপর পড়ে সে। আহত সুমি তার ঘনিষ্ঠজনদের জানায়, জি বাংলায় নিয়মিত দেবের ছবি দেখতো সে। দেখতে দেখতেই দেবের প্রতি এক ধরনের ভাললাগা জন্মে তার। কিন্তু দেবের দেখা পাওয়ার কোন সুযোগ নেই, এটাও জানতো সে। তাই আর কোন উপায় খুঁজে পায়নি সুমি।

সুমির কাকা সজীব দাস জানান, একটু ছবিপ্রিয় সুমি। বিশেষ করে কলকাতার দেবের ছবি হলে সে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিতো। কিন্তু এরকম একটি কাজ করবে আমরা ঘুনাক্ষরেও বুঝতে পারিনি। কদমতলী থানার এসআই ওমর ফারুক জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখান থেকে স্বজনদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে জেনেছি, বিষয়টি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত। তবে এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

এদিকে সুমিকে সান্ত্বনা দিয়ে কলকাতার চিত্রনায়ক দেব গতকাল তার ফেসবুক পেজে লিখেছে- কিছুক্ষণ আগে শুনলাম, সংবাদ সৃষ্টির মাধ্যমে আমার নজর কাড়তে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়েছে সুমি নামে এক বাংলাদেশী। খবরটি আমাকেও আঘাত করেছে নিঃসন্দেহে। আজ ‘আমি’ বলতে যাকে দেখছো, মনে করে দেখো এটা শুধু এবং শুধুই ভক্তদের জন্য। তাই আজ যদি তুমি নিজেকে আঘাত করো, সে আঘাত আমারও লাগে। আমি অনুরোধ করছি সবাইকে এবং মিনতি করে বলছি, আমার জন্য ভালবাসার প্রমাণ দিতে গিয়ে কেউ নিজেকে আঘাত করো না। আমাকে ভালবাসো কারণ জেনে রেখো দেব সবসময় আছে তোমাদের পাশে, ঠিক তোমাদের হৃদয়ে। দেব আরও লিখেছেন জীবন খুবই সুন্দর, জীবনকে উপভোগ করো। আর একজন ভক্তের চলে যাওয়া মানে আমি একজনের ভালবাসা হারালাম।






মন্তব্য চালু নেই