মেইন ম্যেনু

সাতক্ষীরার খবর (২/৯/১৪)

## সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সেমি ইনটেনসিভ) পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ,৩০গুন বেশি উৎপাদন:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পরীক্ষামূলক ভাবে চলতি বছর আধা নীবিড় (সেমি ইনটেনসিভ) পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করে ব্যাপক সফলতা এসেছে। সাধারন পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করে যে উৎপাদ হয়, তার চেয়ে প্রায় ৩০ গুন বেশি চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে। সাধারন চাষ পদ্ধতিতে বছরে যেখানে মাত্র ৩০০ কেজি চিংড়ি উৎপাদ হয়ে থাকে, সেখানে আধা নীবিড় চিংড়ি চাষ পদ্ধতিতে হেক্টরপ্রতি প্রায় ১০ হাজার কেজি চিংড়ি উৎপাদন হচ্ছে। ফলে এলাকার বাগদা চিংড়ি চাষীরা অল্প জমিতে অধিক উৎপাদনের আশায় আধা নীবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষে উদ্বোদ্ধ হচ্ছেন।
সরেজমিন গিয়ে জানাগেছে, থাইল্যান্ড থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নওয়াবেকী এলাকায় ৩০০ বিঘা জমি লীজ নিয়ে আধা নীবিড় (সেমি ইনটেনসিভ) পদ্ধতিতে ৯ মাস আগে বাগদা চিংড়ি চাষ শুরু করেন রেডিয়েন্ট শ্রীম্প কালচারের মালিক সফিকুর রহমান চৌধুরী। তার বাড়ী কুমিল্লায়। তার মালিকানাধীন এই চিংড়ি খামারে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার কেজি বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হচ্ছে। যার পাইকারী বাজার মূল্য ২৫ লাক্ষাধিক (প্রতি কেজি মাছের দাম ১১০০/=) টাকা।
এই পদ্ধতিতে একরপ্রতি (তিন বিঘা) বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা খরচ হবে। সেখানে উৎপাদন হবে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের চিংড়ি।
চিংড়ি চাষী সফিকুর রহমান চৌধুরীর দেখাদেখি এলাকায় একাধিক চিংড়ি চাষি আধা নীবিড় পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষে উদ্বোদ্ধ হচ্ছে।
রডিয়েন্ট শ্রীম্প কালচারের মালিক সফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, ১৪ বছর আগে থেকে তিনি শ্যামনগরের নওয়াবেকী বাজার এলাকায় একটি উন্নত প্রযুক্তির বাগদা চিংড়ি পোনার হ্যাচারী স্থাপন করেন। পিসিআর ল্যাব টেষ্টের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন করায় তার পোনার চাহিদাও বেশ। উন্নত মানের এই বাগদা পোনা দিয়ে তিনি গত বছর নভেম্বর মাসে নওয়াবেকী বাজার এলাকায় ৩০০বিঘা জমি হারী লীজ নিয়ে সেখানে ৬০টি পুকুর খনন করেন। প্রতিটি পুকুরের আয়তন এক একর। সম্প্রতি তার ওই চিংড়ি খামারে বাগদা চিংড়ি উৎপাদন শুরু হয়েছে। প্রতিটি পুকুর (এক একর আয়তনের ) থেকে তিনি ২৩’শ থেকে ২৫’শ কেজি চিংড়ি উৎপাদন পাচ্ছেন। যার বাজার মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। তিনি আরোও জানান, প্রতিটি পুকুরে বছরে ২ বার মাছ ধরা যাবে।অর্থাৎ প্রতিটি পুকুর থেকে বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মূল্যের বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হবে। আর প্রতিটি পুকুরে খরচ হবে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা। অল্প জমিতে অধিক মাছ উৎপাদনের একটি অন্যতম প্রযুক্তি এটি।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: আব্দুল অদুদ বলেন, অল্প জমিতে অধিক মুনাফা লাভের জন্য এই প্রযুক্তির কোন বিকল্প নেই। ইতিমধ্যে আধা নীবিড় পদ্ধতিকে চাষি পর্যায় জনপ্রিয় করতে মৎস্য বিভাগ কাজ করছে। নওয়াবেকী শ্রীম্প কালচারের দেখাদেখি এলাকার অনেক চিংড়ি চাষি এই পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করতে আগ্রহী হয়েছেন। আধা নীবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষের অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। একটি খামারে প্রায় দুই শতাধিক মানুষের প্রতিদিনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এই চাষ পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়লে দারিদ্রতা নিরসনে ব্যাপক ভূমীকা রাখবে।
তিনি আরো বলেন, সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে, এই জেলায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বাগদা চিংড়ি চাষ হয়। এ বছর ২২ হাজার মে: টন চিংড়ি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। সাধারন চাষ পদ্ধতিতে হেক্টরপ্রতি বছরে গড়ে ৩০০ কেজি চিংড়ি উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু আধা নীবিড় পদ্ধতি ব্যবহার করে হেক্টরপ্রতি বছরে (দুই চক্রে) প্রায় ১০ হাজার কেজি চিংড়ি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এই চাষ পদ্ধতিতে বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। বিদ্যৎ যে খানে নেই সেখানে ইঞ্জিন চালিত মেশিনের সাহায্যে চাষ করা হয়ে থাকে। চাষী পর্যায় ক্ষ্রদ্র ঋণের ব্যবস্থা এবং বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা গেলে চিংড়ি চাষীরা ব্যাপক লাভবান হবে।

## ৪৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী:
৪৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জেলা পর্যায়ের সমাপনী অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকাল ৫টায় সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে জেলা শিক্ষা অফিসের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল ও মাদরাসা ক্রীড়া সমিতি আয়োজনে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক শেখ নিজাম উদ্দীনের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান। এসময় তিনি বলেন, “গ্রামীণ বিভিন্ন খেলা ধুলার মধ্যে ফুটবল খেলা জনপ্রিয় একটি খেলা। আজকের এ খেলায় মাঠের কানায় কানায় দর্শক দেখে তার প্রমাণ মেলে। একজন শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশের পাশাপাশি খেলা ধুলার গুরুত্ব অনেক বেশি। লেখা পড়ার পাশাপাশি ছাত্র ছাত্রীকে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করতে হবে। শরীর ও মন ভালো রাখতে খেলা ধুলার বিকল্প নেই। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ গড়ার কারিগর। এজন্য শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য গঠন করতে ও দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার মনোভাব নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম টুকু। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, কালিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ওহেদুজ্জামান, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক রহমান, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সায়েদ মোঃ মঞ্জুরুল আলম।
৪৩তম গ্রীষ্মকালীন এ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ফাইনাল ফুটবল (ছাত্র) খেলায় অংশ গ্রহণ করেন শ্যামনগর কাঠালবাড়ীয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় বনাম কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়। উক্ত খেলায় হাড্ডাহাড্ডি লড়ায়ের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত সময়ে উভয় দল গোল দিতে না পারায় টাইবেকারে ৪-৩ গোলে শ্যামনগর কাঠালবাড়ীয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। খেলায় রেফারীর দায়িত্ব পালন করেন মোশারফ হোসেন, আবু ওহিদ, আনিসুর রহমান ও জাহিদ হাসান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া অফিসার এনামুল হক বিশ্বাস, জেলা শিক্ষা অফিসের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, সহকারী পরিদর্শক তাপস কুমার দাশ, প্রভাস কুমার দাশ, মোঃ হাসানুজ্জামান, প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিউদ্দীন, রেজাউল করিম, রেজাউল ইসলাম, ক্রীড়া শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, এম. ঈদুজ্জামান ইদ্রিস, আমিনুর রহমান উল্লাস, ফারুক হোসেন, ভদ্র কান্ত সরকার, জাহিদ হাসান, আব্দুর রউফ, মোবাশ্বেরুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, মনোরঞ্জন মন্ডল, রফিকুল ইসলাম খান, আবু সাঈদ, ইমরান ফকির, জাহাঙ্গীর আলী প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফিফা রেফারী তৈয়্যেব হাসান বাবু ও ক্রীড়া শিক্ষক এম ঈদুজ্জমান ইদ্রিস।

## সাতক্ষীরায় ইঞ্জিন ভ্যানের ধাক্কায় এক বৃদ্ধা নিহত:
সাতক্ষীরার তালার জেয়ালা নলতায় ইঞ্জিন ভ্যানের ধাক্কায় মালঞ্চ বিবি (৭০) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত জোহর আলী ফকিরের স্ত্রী। সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। তালা থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিকী জানান,মালঞ্চ বিবি ইঞ্জিন ভ্যান থেকে নেমে রাস্তা পার হয়ে বাড়ী যাচ্ছিলেন। এসময় তালার দিক থেকে আসা অপর একটি ইঞ্জিন ভ্যানের ধাক্কায় তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ময়না তদন্তের জন্য তার মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে ওসি জানান।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই