মেইন ম্যেনু

সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

সন্ত্রাসী হামলার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের চরম ঝুঁকিপ্রবণ ১৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিসের (আইইপি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী হামলার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্বের এমন ১৩টি দেশ চিহ্নিত করেছে আইইপি। বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ধর্মীয়, ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত, ও তৃণমূলে রাষ্ট্র কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘন, উচ্চমাত্রায় সহিংসতা এবং দুর্বল আইনের কারণেই দেশগুলোতে সন্ত্রাস মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে দেশগুলোতে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা নিঃসন্দেহে দিন দিন বাড়বে।

এ ছাড়া বিচার বর্হিভূত হত্যাকাণ্ডে, সেনাবাহিনীর আধিপত্য, রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এ হামলার আশঙ্কা আরো তীব্র হচ্ছে। সন্ত্রাসী হামলার চরম ঝুঁকির তালিকায় বাংলাদেশের উপরে রয়েছে আফ্রিকার দেশ অ্যাঙ্গোলা। দ্বিতীয় নম্বরে থাকা বাংলাদেশের পরে আছে যথাক্রমে বুরুন্ডি, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র, আইভেরি কোস্ট, ইথিওপিয়া, ইরান, ইসরায়েল, মালি, মেক্সিকো, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা এবং উগান্ডা।

একইসঙ্গে ২০১৩ সালে বিশ্বে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যাও বেড়েছে বলে দাবি সংগঠনটির। ২০১৩ সালে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ হাজার। যা আগের বছরের চেয়ে শতকরা ৬১ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে বিশ্বে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যাও ৪৪ শতাংশ বেড়েছে।

অধিকাংশ হামলা ও হত্যাকাণ্ডের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ইসলামিক স্টেট (আইএস), আল-কায়েদা ও আফ্রিকার বোকো হারাম, আল শাবাব এবং এশিয়ার তালেবান জড়িত বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সংগঠনগুলো উগ্র মৌলবাদী এবং ইসলামিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত।

প্রতিবেদন বলা হয়, ২০১৩ সালে অন্তত ১৮ হাজার লোক সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছে। বিশ্বে শুধু সন্ত্রাসী হামলার তীব্রতা বাড়ছেই না, এর আয়তনও প্রতিনিয়ত প্রসারিত হচ্ছে। এ সব হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে ইরাক।

সন্ত্রাস হামলায় হতাহত, হামলার সংখ্যা ও এর প্রভাবের উপর ভিত্তি করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের র‌্যাঙ্কিং করা হয়। সন্ত্রাসে আক্রান্ত দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে যথাক্রমে ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া ও সিরিয়া। ২০১৩ সালে সন্ত্রাসী হামলায় বিশ্বে মোট হতাহতের ৮০ শতাংশই হয়েছে এ দেশগুলোতে। এ দেশগুলোর পরই রয়েছে ভারত, সোমালিয়া, ফিলিপাইনস, ইয়েমেন ও থাইল্যান্ড।
আইইপির নিবার্হী চেয়ারম্যান স্টিভ কিল্লিলিয়া বিবিসিকে বলেন, ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই মূলত বিশ্বে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে। আর একইসঙ্গে মানুষ মারা যাওয়ার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। অস্থিতিশীল সিরিয়া ও ইরাক থেকে সৃষ্ট সন্ত্রাসবাদ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সর্তক করেছেন তিনি।






মন্তব্য চালু নেই