মেইন ম্যেনু

বিহারি ক্যাম্পে হামলা

‘সন্ত্রাসী এমপিকে গ্রেপ্তার করুন’

বিহারি ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ইলিয়াস মেল্লার প্রতি ইঙ্গিত করে গণতান্ত্রিক বামমোর্চার নেতারা বলেছেন, ‘এই সন্ত্রাসী এমপিকে গ্রেপ্তার না করলে সরকারের ক্ষমতা বেশিদিন টিকবে না।’ তারা বলেন, হামলাকারী সন্ত্রাসীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। নইলে স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার কালশী বিহারি ক্যাম্পের সামনে বিমানবন্দর নতুন রাস্তায় বিহারিদের অবস্থান কর্মসূচিতে তারা এসব কথা বলেন।

বামমোর্চার কেন্দ্রীয় নেতারা বেলা পৌণে ১২টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত কালশি ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। এসময় তারা পুড়ে যাওয়া ঘর পরিদর্শন করেন ও ক্ষতিগ্রস্ত বিহারিদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে রাস্তায় অবস্থানরত বিহারিদের মাঝে এসে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন।

এসময় গণতান্ত্রিক বামমোর্চার সমন্বয়ক শুভ্রাংসু চক্রবর্তী বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সমস্ত মানুষের দুঃখ দুর্দশা অবসানের জন্য। কিন্তু আজ স্বাধীন বাংলাদেশে হত্যাকারী শাসক লুটেরা সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুরা নিরীহ মানুষজনের ওপর জুলুম করছে। সরকারের কাছে আমরা দাবি জানাই, বিহারি হত্যাকাণ্ডে যারা জাড়িত তাদেরকে যথাযথ শাস্তি দেয়া হোক।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বামমোর্চার কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল হক বলেন, ‘যে প্রশাসনের দায়িত্ব মানুষের নিরাপত্তা প্রদান করা সেই প্রশাসনই যদি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে এক হয়ে নিরীহ মানুষের ওপর হামলা করে তাহলে এর চেয়ে লজ্জার আর কি হতে পারে? সারা দেশবাসী, প্রশাসন এবং সরকারও জানে, কোন গডফাদার এ হামলা চালিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এদের গ্রেপ্তার দেখতে চাই। যদি গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হন তাহলে স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। সরকার যদি তার সন্ত্রাসী এমপিকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয় তাহলে নিপীড়িত জনগণ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠবে।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও বামমোর্চার কেন্দ্রীয় নেতা জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘এটা একটা জাহেরের রাজত্ব চলছে। এ কারণে কোনো বিচার নাই। হামলাকারীরা নিশ্চিন্তে বাসায় বসে আছে। আর যারা আগুনে পুড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্টো তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এসকল সন্ত্রাসী এমপিকে প্রশ্রয় না দিয়ে তাদেরকে বয়কট করুন। তা না হলে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। যেসব পুলিশ নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে উপরন্তু তাদের ওপর গুলি করেছে, সেই সকল পুলিশের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

ইউনাইডটেড কমিউনিস্ট লিগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু বলেন, ‘গত ৪৩ বছরে বিহারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। কালশী বিহারি ক্যাম্পে যে নৃশংসতা হয়েছে তা নারায়ণগঞ্জের ঘটনা থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। উভয় ক্ষেত্রেই দলীয় সন্ত্রাসীরা অধিপত্য বিস্তারের জন্য এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’

বামমোর্চার কেন্দ্রীয় নেতা মোশরেফা মিশু বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ যে অধিকার পায় বিহারিদের সেই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

বিহারিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আপনারা যারা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেছেন আপনারা মাথা উঁচু করে একজন বাংলাদেশি হিসেবে বেঁচে থাকবেন। বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক শক্তি আপনাদের সঙ্গে আছে।’

সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক বিহারিদের উদ্দেশে বলেন, ‘যে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে তারপরও প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আপনাদের দেখতে আসে নাই।’






মন্তব্য চালু নেই