মেইন ম্যেনু

সত্যিই কী এলিয়েন আছে?

হলিউড কিংবা বলিউড, ভিনগ্রহীদের নিয়ে সিনেমা রীতিমতো জনপ্রিয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভিনগ্রহে কি আদৌ প্রাণ রয়েছে? নাকি পিছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও ফন্দি?

আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট (ইউএফও) এর যে সব ছবি এ পর্যন্ত প্রকাশ্যে এসেছে, তার বেশিরভাগই ঝাপসা। শব্দও স্পষ্ট নয়। বিশ্বের তাবৎ ইউএফও বিশেষজ্ঞও এই প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি।

ক্রপ সার্কল নিয়ে বিতর্ক
ভিনগ্রহের প্রাণীদের আকাশযান নামার কারণেই কি ক্রপ সার্কলের সৃষ্টি? অনেক চেষ্টার পরেও প্রামাণ্য কোনও তথ্য পাননি বিশেষজ্ঞেরা। ক্রপ সার্কলের ঘটনার সূত্রপাত সত্তরের দশকের শুরু থেকে। উত্তর ইংল্যান্ডের এক গ্রামে ফসল ক্ষেতের উপর রাতারাতি করা নকশা দেখে চমকে গিয়েছিলেন স্থানীয়রা। কে বা কারা এই নকশা তৈরি করেছে, বার করা যায়নি। গ্রামবাসীদের মনে বিশ্বাস জন্মায়, ঘটনাটার সঙ্গে ভিনগ্রহের যোগ রয়েছে।

এরপর থেকে প্রায়ই ইংল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রপ সার্কলের দেখা মিলতে থাকে। ধীরে ধীরে ইউরোপের অন্যত্রও ক্রপ সার্কল ব্যাপারটা ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯১ সালে দুই ব্রিটিশ প্র্যাঙ্কস্টার বাওয়ার এবং কর্লে ঘোষণা করেন, তারাই নাকি ইংল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রপ সার্কল তৈরি করেছেন। ঘড়ির কাঁটা ধরে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় তারা ক্রপ সার্কল বানিয়েও দেখিয়েছিলেন!

হঠাৎ সংকেত!
মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর প্রায়ই দাবি করেন, মহাকাশ থেকে আসা ক্ষীণ রেডিও সংকেত নাকি তারা ধরতে পেরেছেন। অন্য কোনও গ্রহে কি প্রাণ রয়েছে? মুহূর্তে এই আলোচনা শিরোনামে! কিন্তু কিছুদিনই। তারপর সব ধামাচাপা! যদি আদতে সংকেত পাওয়াই যায়, তাহলে পরবর্তী কোনও ঘোষণা বা পদক্ষেপ কেন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তরফে করা হয় না? নিন্দুকেরা অবশ্য অন্য কথা বলেন। তাদের মতে, বিভিন্ন দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো যে বিপুল পরিমাণ অর্থসাহায্য সংশ্লিষ্ট দেশের কাছ থেকে পায়, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এহেন জল্পনা ইচ্ছাকৃতভাবে রটানো হয়।

এলিয়েন যে নেই তার সপক্ষে কিছু যুক্তি

দূরত্ব : সৌরমণ্ডলে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। যদি ভিনগ্রহে প্রাণের উপস্থিতির কথা মেনে নেওয়া হয়, তাহলে এটাও মেনে নিতে হয় যে, তাদের গ্রহ অন্য কোনও সৌরমণ্ডলে অবস্থিত। পৃথিবী থেকে যার দূরত্ব অন্তত কয়েক আলোকবর্ষ। প্রশ্ন ওঠে, এলিয়েনদের গড় আয়ু কত, যাতে তারা এতটা পথ পার হয়ে আসতে পারে?

নেভিগেশন : কোনও উড়ন্ত চাকি যদি কয়েক আলোকবর্ষ পথ পার হয়ে পৃথিবীতে আসে, তাহলে সেই যানের নেভিগেশন সিস্টেম যথেষ্ট উন্নত ধরে নিতে হবে। যাতে নিজের গ্রহ থেকে বসে, তারা উড়ন্ত চাকিকে চালনা করতে পারে। কয়েক আলোকবর্ষ দূরের কোনও বস্তুকে নেভিগেট করার মতো যন্ত্র নির্মাণ কি আদৌ সম্ভব?

কেন সফর : ধরে নেওয়া যাক, বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের অন্যত্র উন্নত সভ্যতা রয়েছে। সেখানকার অধীবাসীরাই উড়ন্ত চাকিতে চড়ে পৃথিবীতে বেড়াতে আসে। তাহলে এটাও স্বীকার করে নিতে হয়, তাদের তুলনায় মনুষ্য সভ্যতা অনেকটাই পিছিয়ে। প্রশ্ন আসে, তারা কোন আকর্ষণে একটি পিছিয়ে পড়া সভ্যতাকে প্রত্যক্ষ করতে পৃথিবীতে আসবে?

উড়ুক্কু চাকি : কোনও অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু নজরে এলেই, সেটাকে উড়ন্ত চাকি বলে ধরে নেওয়ার যৌক্তিকতা নেই। প্রতিবেশী দেশের গোপন খবর আনার কাজে একাধিক ক্লাসিফায়েড প্রজেক্ট চালায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ। তাই উড়ন্ত চাকি আদতে প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা বিমান কি না, সেটাও প্রশ্ন।

দর্শন শাস্ত্র : মহাকাশ গবেষণার কাজেই তৈরি করা হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল মহাকাশ স্টেশন। গবেষণার কাজে সৌরমণ্ডলের দূরতম প্রান্তে মহাকাশযানও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তাদের র‌্যাডারে কোনও উড়ুক্কু চাকির সন্ধান মেলে না। যাবতীয় ইউএফও দর্শন পৃথিবীর বুকেই হয় কেন?






মন্তব্য চালু নেই