মেইন ম্যেনু

শ্রমিক লীগের দু’গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

টেম্পু স্ট্যান্ডের দখল নিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা শ্রমিক লীগের দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে মাওনা-ফুলবাড়ীয়া আঞ্চলিক সড়কে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মোতালেব মিয়া জানান, টেম্পু স্ট্যান্ডের দখল নিয়ে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে মাওনা চৌরাস্তার পূর্ব অংশে শ্রীপুর উপজেলা আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান ও পশ্চিম অংশে শ্রমিক লীগের কর্মী লিটন ফকিরের লোকজন অবস্থান নেয়। পরে থেমে থেমে দুই পক্ষের মধ্যে লাঠি সোটা, হকিস্টিক, ইটপাটকেল নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এতে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

দলীয় কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাওনা চৌরাস্তার বিভিন্ন স্ট্যান্ডের শ্রমিক-যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য বন্টন করে দেন। কিন্তু মাওনা-ফুলবাড়ীয়া-আঞ্চলিক গাজীপুর সড়ক লিটন ফকির জোর করে গত এক মাস যাবত তা দখল করে রাখেন। উপজেলা শ্রমিক লীগের সদস্যরা স্ট্যান্ডে গেলেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে লিটন ফকিরের লোকজন পুলিশের সহায়তায় শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

তার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আঞ্চলিক শ্রমিকলীগের কার্যকরী সদস্য পরিচয়দানকারী লিটন ফকির বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা শ্রমিক লীগের কর্মীদের মাওনা চৌরাস্তা এলাকার বিভিন্ন সড়কের মোড় নেতাকর্মীদের মাঝে ভাগাভাগি করে দেয়। দীর্ঘদিন যাবত আমি ও আমার লোকজন মাওনা-ফুলবাড়ীয়া-গাজীপুর সড়কের সিএনজি-লেগুনা-টেম্পু স্ট্যান্ড দেখাশুনা করে আসছি। শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক তার লোকজন নিয়ে মাওনা-ফুলবাড়ীয়া-গাজীপুর সড়কের মাওনা চৌরাস্তা টেম্পু স্ট্যান্ড জোরকরে দখল করার পাঁয়তারা করছে।’

তবে শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল আলম প্রধান বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কাউকে চাঁদাবাজি করার ইজারা দেয়নি। শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ব্যাপারে মনগড়া কথা বলেছে।’

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিন উল কাদির বলেন, ‘স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে শ্রমিক লীগের দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজেনা দেখা দেয়। পুলিশ দুই পক্ষের লোকজনকে ঘটনাস্থল থেকে ধাওয়া করে সরিয়ে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।’

শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। ওই স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

এর আগে গতকাল সোমবারও ওই স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে শ্রীপুর আঞ্চলিক শাখা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান ও শ্রমিক লীগকর্মী লিটন ফকিরে মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় লিটন ফকিরের পক্ষের কর্মী কবির হোসেন খন্দকার প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে আহত হন। পরে তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ ঘটনায় আহত কবির খন্দকার বাদী হয়ে বাবুল, বাচ্চু, শামীম ও তাদের আরো চার সহযোগীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে অভিযুক্ত করে শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।






মন্তব্য চালু নেই