মেইন ম্যেনু

শেকৃবিতে ১৪ বছরেও হয়নি সমাবর্তন!

দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ তের বছর অতিক্রম করলেও এখনো সমাবর্তনের মুখ দেখেনি এখানকার শিক্ষার্থীরা। ২০০১ সালের ১৫ জুলাই বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউট থেকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শেকৃবির ইতিহাস মাত্র ১৩ বছর হলেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষি শিক্ষার সর্বপ্রাচীণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর ইতিহাস দীর্ঘ ৭৬ বছরের।

উচ্চ শিক্ষা, গবেষণাসহ প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্য দিয়ে আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগিয়ে গেলেও এখনো কোনো সমাবর্তন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত কয়েক বছর ধরে সমাবর্তনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বিভিন্ন বিভাগের অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করা প্রায় ৩ হাজার ৪০৫ জন শিক্ষার্থী। পাশাপাশি সমাবর্তনের স্বপ্নে বিভোর রয়েছে শেকৃবিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যায়নরত ৩ হাজার ১৫ জন শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গত ১৫ জুলাই তের বছর পেরিয়ে চৌদ্দ বছরে পা রাখলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়নি।

জানা যায়, প্রতি চার বছর পর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণকালে সমাবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা যেন মরিচীকাই রয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত চারজন উপাচার্যের আগমন ঘটে। তাদের প্রত্যেকেই সমাবর্তন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার কথা দিলেও তা করে যাননি। তবে ২০১১ এবং ২০১২ সালে সমাবর্তন করার কথা থাকলেও উপাচার্য পরিবর্তনের কারণে তা আর হয়নি। আগের উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নতুন উপাচার্যের নিয়োগের কারণে আবারো তা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মামুন-উর-রশীদ অভিযোগ করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সব শিক্ষার্থীর ইচ্ছা থাকে জাকজমকপূর্ণ পরিবেশে নিজের সার্টিফিকেট নেয়া। আজ থেকে দুই বছর আগে অনার্স জীবন শেষ করেছি। অনার্সের শেষের দিকে সমাবর্তনের কথা শুনলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতায় তা আজও রয়ে গেছে দুঃস্বপ্নের মতো।’

তার মতো অনেক শিক্ষার্থী, যারা আজ দেশে বিদেশে বড় বড় জায়গায় চাকরি করছেন তারাও সমাবর্তন না হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করলেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যেই কোনো সমন্বয় নাই, আর তাই সমাবর্তনের মতো এত বড় আয়োজন সম্ভব না।’

তিনি আরো বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত শিক্ষকরা তাদের নিজেদের মধ্যকার ঝামেলা মিটিয়ে ফেলতে না পারবে ততদিন শেকৃবিতে সমাবর্তন সম্ভব নয়।’

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর মো. শাদাত উল্লাও দায়িত্ব গ্রহণকালে একই প্রতিশ্রুতি দেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের আড়াই বছর অতিক্রম করলেও সমাবর্তন করার কোনো নাম গন্ধ নেই।

এ ব্যাপারে উপাচার্য প্রফেসর মো. শাদাত উল্লা বলেন, ‘আগের ভিসিরা না পারলেও তিনি চেষ্টা করছেন সমাবর্তন অনুষ্ঠান করার। খুব শিগগিরই সমাবর্তন অনুষ্ঠান করা হবে।’

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি অনুষদ থেকে প্রতিবছর স্নাতক পর্যায়ে ৫শত শিক্ষার্থী পাস করে বের হচ্ছেন। স্নাতকোত্তর আর পিএইচডি পর্যায়ে বের হচ্ছেন এক হাজার শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৪০৫ শিক্ষার্থী যার মধ্যে ২ হাজার ১২২ জন স্নাতক ও ১ হাজার ২৮৩ জন স্নাতকোত্তর পাস করে বের হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সনদ লাভ করেনি।






মন্তব্য চালু নেই