মেইন ম্যেনু

শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র বদলে দেবে উপকূলীয় দ্বীপজেলা ভোলার অর্থনীতি ও উন্নয়নের চিত্র

শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র বদলে দেবে উপকূলীয় দ্বীপজেলা ভোলার অর্থনীতি। বদলে যাবে সম্ভাবনাময় এ জেলার উন্নয়নের চিত্র। ভোলার বোরহানউদ্দিনে প্রাপ্ত শাহবাজপুর গ্যাস দিয়ে গড়ে উঠবে গ্যাসভিত্তিক শিল্প, কল-কারখানা সহ নানান ধরনের প্রতিষ্ঠা। বোরহানউদ্দিন উপজেলাসহ ভোলা জেলাকে গড়ে তোলা হবে শিল্পান্নয়ন জেলা হিসেবে। শুধু ভোলাই নয়, উন্নয়নের ছোঁয়া বইয়ে যাবে বরিশাল, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, যশোর, খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে ভোলার বোরাহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নে শাহবাজপুর গ্যাস কূপ খনন করা হয়। কিন্তু গ্যাস আবিস্কৃত হওয়ার দীর্ঘ দিনেও গৃহস্থালী কাজের জন্য ঘরে ঘরে গ্যাস না পৌঁছায় বহু আন্দোলন সংগ্রাম করেছিল ভোলাবাসী। দীর্ঘ ১৮ বছর পর বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১৩ সালের ২৮ আগষ্ট প্রথম ভোলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস সংযোগের উদ্বোধন করা হয়। অপরদিকে তোফায়েল আহমেদেরই ভাতিজা ভোলা-২ ( বোরহানউদ্দিন- দৌলতখান) আসনের এমপি আলী আজম মুকুলের অব্যাহত চেষ্টার ফলে বোরহানউদ্দিনবাসীও ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ পেতে যাচ্ছে। উপজেলাবাসীর ঘরে ঘরে যেন গ্যাস সংযোগ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এ বিষয়ে স্থানীয় এমপি আলী আজম মুকুল জানান, বোরহানউদ্দিনের মানুষ খুব শীগ্রই গ্যাস সংযোগ পাবে। ইতিমধ্যেই গ্যাস সংযোগের টেন্ডার হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ উপজেলায় ২শ’ ২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। খুব শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। বোরহানউদ্দিনে প্রাপ্ত শাহবাজপুর গ্যাস দিয়ে এ উপজেলায় শিল্প-কল কারখানা স্থাপনসহ ব্যাপক উন্নয়ন হবে। এলাকার শিক্ষিত ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তখন পাল্টে যাবে বোরহানউদ্দিনের জীবন-যাত্রার মান। বদলে যাবে উন্নয়নের চিত্র।

সূত্রে আরো জানা যায়, ২০১৩ সালে জেলা শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণে বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের সুর্য্যকান্দি গ্রামে প্রায় ৪০ একর জমিতে স্থাপন করা হয় ২শ’ ২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা পাওয়ার প্লান্ট। এ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। চায়না কম্পানির চেঙ্গাই গ্রুপ এ পাওয়ার প্লান্টের নির্মাণ কাজ শুরু করে। শুরু থেকেই প্রতিদিন চায়না ও বাংলাদেশী প্রায় এক হাজার শ্রমিক এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। দুইটি গ্যাস টারবাইন ও একটি স্টিম টারবাইনসহ পাওয়ার প্লান্টের নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে বলে পাওয়ার প্লান্টে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাওয়ার প্লান্টের দুই কর্মকর্তা জানান, পাওয়ার প্লান্ট থেকে বরিশাল পর্যন্ত বৈদ্যুতিক খুটি ও তার দিয়ে জাতীয় গ্রিড সঞ্চালন লাইনেও বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষায়। ওই কর্মকর্তারা আরো জানান, খুব শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাওয়ার প্লান্টের শুভ উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

এদিকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের মম্বব্য

উপকূলীয় দ্বীপজেলা ভোলা হচ্ছে একটি আধুনিক ডিজিটাল শিল্পান্নয়ন জেলা। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশীল একটি সম্ভাবনাময় এ জেলায় রয়েছে প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ শাহবাজপুর গ্যাস। যেখানে প্রায় এক ট্রিলিয়ন গ্যাস মজুদ রয়েছে। আর এ গ্যাস কাজে লাগিয়ে ভোলায় গড়ে তোলা হবে ইউরিয়া সার কারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, স্টিল মিল, শিপ বিল্ডিং, টেক্সটাইল মিল, কোল্ড স্টোরেজ, অটো রাইচ, অটো ব্রিক ফিল্ডসহ বিভিন্ন শিল্প, কল-কারখানা। এর মাধ্যমে জনগোষ্ঠীসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এতে করে অপার সম্ভাবনাময় দ্বীপজেলা ভোলাসহ বৃহত্তর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২১ জেলার উন্নয়নের দার উম্মোচনের পথ সুগম হবে। এমনটাই জানিয়েছেন দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন এফবিসিসিআই, পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান বিজিএমআই এর নেতৃবৃন্দ, শিল্পপতি এবং শিল্প উদ্যোক্তারা।

গত ৩১ জানুয়ারী শনিবার দুপুরে ভোলা জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে “লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অটোমোবাইল ইন্ডাষ্ট্রিয়াল টাউন এ্যাট ভোলা” শীর্ষক এক কর্মশালায় তারা ভোলায় প্রাপ্ত গ্যাস দিয়ে ভোলার উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিনিয়োগ বোর্ড ও ভোলা জেলা প্রশাসন এ কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ ও বন উপ-মন্ত্রী আব্দুল্ল্যাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি, আলী আজম মুকুল এমপি, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ গাউস, এফবিসিসিআই এর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, বিজিএমইএ এর সভাপতি মোঃ আতিকুল ইসলাম, নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল মাতলুব, এফবিসিসিআই এর সহ-সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, আব্দুর রাজ্জাক কচি, হেলাল উদ্দিন, খনিজ ও জ্বালানি সচিব ও সুন্দরবন গ্যাস কম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, দৈনিক সমকাল পত্রিকার সম্পাদক গোলাম সারোয়ার। বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এসএ সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় আরো বক্তৃব দেন বিনিয়োগ বোর্ডের অতিরিক্ত সচিব নাভাষ চন্দ্র মন্ডল, ভোলার জেলা প্রশাসক মোঃ সেলিম রেজা, জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুল মমিন টুলু, পৌর মেয়র মোঃ মনিরুজ্জামান প্রমূখ।

ওই কর্মশালায় প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেন, খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ ধান-সুপারীর জেলা ভোলা শিল্প নগরী হিসেবে আজ অর্থনৈতিকভাবে বীজ রোপন হলো। এ চারা থেকে ভোলা হবে দেশের সবচেয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধশীল একটি আধুনিক ডিজিটাল শিল্পান্নয়ন জেলা। তিনি আরো বলেন, ভোলায় প্রায় এক ট্টিলিয়ন গ্যাস মজুদ রয়েছে। এ থেকে ৪শ’ ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এ গ্যাস দিয়ে গড়ে ওঠেছে গ্যাসভিত্তিক ৩৪ দশমিক ৫ মেগাওয়াট রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নে তৈরী করা হয়েছে ২শ’ ২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাওয়ার প্লান্ট বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রায় দুই হাজার দুইশো কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ মাসের যে কোন দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী রশখ হাসিনা এর উদ্বোধন করবেন। বাপেক্স ও রাশিয়ান জয়েন্ট ভেনচার আরো চারটি কূপ খননের কাজ শুরু করবেন। প্রাপ্ত শাহবাজপুর গ্যাস দিয়ে সরকার এখানে একটি সারকারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার মাধ্যমে বছরে পাঁচ লাখ টন সার উৎপাদন সম্ভব। তিনি বলেন, ভোলাকে বিশেষ ইকোনমিক জোন চিহিৃত করা হলে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীরা এ জেলায় বিনিয়োগ করবেন।

তোফায়েল বলেন, খুব দ্রুত ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া থেকে বরিশালের লাহারহাট পর্যন্ত একটি ব্রীজ নির্মাণের মাধ্যমে ভোলা-বরিশাল মহাসড়ক নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া নদী ভাঙনের হাত থেকে ভোলাকে রক্ষা করতে ‘শাহবাজপুর গ্যাসফিল্ড রক্ষা’ প্রকল্প ও ‘ ভোলা শহর রক্ষা’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ভোলা বিনিয়োগ করার উত্তম স্থান উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ দেশ-বিদেশের বড় বড় শিল্পপতিদের এ জেলায় বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। ভোলায় একটি পোর্ট স্থাপনেরও ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি।

বক্তারা সবাই বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে উপকূলীয় এ দ্বীপজেলা ভোলায়। তাই এ জেলায় শিল্প কর কারখানা স্থাপনের জন্য দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা আগ্রহ প্রকাশ করেন। আগামী এক বছরের মধ্যেই ভোলায় বহু শিল্প কর কারখানা গড়ে ওঠবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।






মন্তব্য চালু নেই