মেইন ম্যেনু

লোকসান ১৫ লাখ, মন্ত্রী বললেন ৫ লাখ!

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) হিসেবে বুড়িগঙ্গায় ওয়াটার বাসে মাসে লোকসান হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। কিন্তু নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান বললেন, মাসে এই ক্ষতি মাত্র ৫ লাখ টাকা।

লোকসানের মুখেও আগামী ১৬ নভেম্বর সদরঘাট-গাবতলীর রুটে নামানো হচ্ছে আরও ৬টি ওয়াটার বাস। এ নিয়ে ওয়াটার বাসের সংখ্যা দাঁড়াবে ১২। আয় বাড়াতে না পারলে মাসে লোকসানের অংক দ্বিগুনে দাঁড়াবে।

নৌ-মন্ত্রী শাহজাহান খান বলেন, বিআইডব্লিউটিসি লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়। এর আগে কখনো যাত্রীসেবার জন্য ওয়াটার বাসের মত প্রকল্প হাতে নেয়া হয়নি। এ খাতে মাসে ৫ লাখ টাকা ক্ষতি হলেও বিআইডব্লিউটিসির ফেরি সার্ভিস থেকে বছরে ২৫ কোটি টাকা আয় হচ্ছে। তবে একে ক্ষতি বলা ঠিক হবে না।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিআইডব্লিউটিসির উন্নয়ন পরিকল্পনা শীর্ষক এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তহীনতা এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় ধ্বংসের পথে বিআইডব্লিউটিসি। তবে ক্ষতি হলেও যাত্রীদের সেবা দেয়ার মানসিকতা নিয়েই ওয়াটার বাস চালাতে হবে।

জানা যায়, সদরঘাট-গাবতলী নৌরুটে ৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকায় নির্মিত ৬টি ওয়াটার বাস চলছে। ভালো ব্যবস্থাপনা এবং সেবার মান ভালো না হওয়ায় তা এখনও জনপ্রিয়তা পায়নি। জনপ্রিয় করে তুলতে সরকার কোনো উদ্যোগও নেয়নি। ফলে লোকসান দিচ্ছে বিআইডব্লিউটিসি।

বিআইডব্লিউটিসির হিসেব অনুযায়ী ২০১০ সালের আগস্ট মাস থেকে প্রতিমাসে গড়ে ১৫ লাখ টাকা লোকসান দিচ্ছে সংস্থাটি। এ হিসেবে বছরে লোকসান হচ্ছে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ৪ বছর ২ মাসে লোকসান দিয়েছে সাড়ে ৭ কোটি টাকা।

রাজধানীর যানজট নিরসনে ২০১০ সালের আগস্ট মাসে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২টি ওয়াটার বাস এমএল বুড়িগঙ্গা ও এমএল তুরাগ উদ্বোধন করেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। প্রতিটি ওয়াটার বাসে আসন ৩৫টি।

আগে নামানো ওয়াটার বাস পর্যাপ্ত যাত্রী না পেলেও বিআইডব্লিউটিসি পুনরায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আরও ৪টি ওয়াটার বাস নামায়।

২০১০ সালে প্রথম দফায় দুটি ওয়াটার বাস দিয়ে পরীক্ষামূলক সেবা চালু করলেও অব্যাহত লোকসানের মুখে ১১ মাসের মাথায় তা বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর পুনরায় চারটি ওয়াটার বাস বানায় বিআইডব্লিউটিসি। পুরনো দুটিও মেরামত করা হয়।

গত বছর ৪ জুলাই এগুলো চালু করা হলেও লোকসানের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে ছয়টি ওয়াটার বাসই গত ২২ ফেব্রুয়ারি ছয় মাসের জন্য বুড়িগঙ্গা ফ্লোটিং নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়া হয়।

কিন্তু এক মাসের মাথায় গত ২৩ মার্চ বাসগুলো ফিরিয়ে দেয় বুড়িগঙ্গা ফ্লোটিং। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, প্রতি ট্রিপে (যাওয়া-আসা) একটি ওয়াটার বাসে ডিজেল লাগে প্রায় ১২০ লিটার। এক ট্রিপে জ্বালানিই লাগে ৮ হাজার টাকার বেশি। কিন্তু কোনো কোনো ট্রিপে ১ হাজার টাকাও আয় হয় না।

চুক্তি অনুযায়ী, দিনে ছয় ট্রিপ দিলে ওয়াটার বাসগুলোর জ্বালানি বাবদই খরচ হয় প্রায় ৪৯ হাজার টাকা। পরিচালন ব্যয়সহ দৈনিক ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৫২ হাজার টাকা। আর দিনে আয় হয় না ১০ হাজার টাকাও।






মন্তব্য চালু নেই