মেইন ম্যেনু

অবশেষে লতিফ সিদ্দিকীর আত্মসমর্পণ

অবশেষে রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন বহিষ্কৃত মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।

ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, বেলা পৌনে ১টায় এসে তিনি থানায় আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাকে সিএমএম আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ডিএমপি এডিসি (মিডিয়া) সাইদুর রহমান জানান, আত্মসমর্পণের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে নেয়া হয়েছে।

একাধিক আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা সত্ত্বেও গত রোববার রাতে দেশে ফেরার পর তাকে গ্রেপ্তার না করায় সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে নানা কথা বলা হয়। স্বারষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রথমে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য স্পিকারের অনুমতির প্রয়োজনের কথা বললেও স্পিকার তা নাকচ করে দেন।

এরপর মঙ্গলবার সকালের দিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারে কোনো বাধা নেই। তাকে যেকোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তার করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে নিউইয়র্কে বসবাসরত টাঙ্গাইলবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন লতিফ সিদ্দিকী।

এসময় তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করলো এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কীভাবে চলবে? তারাতো ছিল ডাকাত। তখন সে একটা ব্যবস্থা করলো যে আমার অনুসারীরা প্রতিবছর একবার একসঙ্গে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে একটা আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি হজ আর তাবলীগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী, জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী, তবে তার চেয়েও বেশি হজ ও তাবলীগ জামাতের।’

হজ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এ প্রবীণ নেতা বলেন, ‘হজের জন্য ২০ লাখ লোক সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।’

এ সময় তাবলীগ জামাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তাবলীগ জামাত প্রতিবছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদেরতো কোনো কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেন তিনি।

এরপরই দেশে-বিদেশে ব্যাপক তোপের মুখে পড়েন লতিফ সিদ্দিকী। ধর্মীয় অনভূতিতে আঘাত দেয়ার জন্য লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ঢাকা ও দেশের ১৮টি জেলায় ২২টি মামলা হয়। নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় প্রায় প্রতিটি মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে প্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরে তাকে মন্ত্রিসভা এবং দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেই থেকে আর দেশে ফেরেননি লতিফ সিদ্দিকী। তিনি ভারতের অবস্থান করছিলেন বলে অনেকে দাবি করেন।






মন্তব্য চালু নেই