মেইন ম্যেনু

রোহিঙ্গা : ব্যাংকক সম্মেলনে জাতিসংঘ-মিয়ানমার বাগ্‌বিতণ্ডা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অভিবাসী সংকট উত্তরণের পথ নিয়ে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আয়োজিত সম্মেলনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতিসংঘ ও মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের মধ্যে তুমুল বাগ্‌বিণ্ডতা হয়েছে।

ব্যাংকক সম্মেলনে অংশ নিয়ে ১৭টি দেশের প্রতিনিধিরা। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন এর কর্মকর্তারা। বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগর হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পাড়ি দিচ্ছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের কিছু দরিদ্র মানুষ। এভাবে সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে দলে দলে প্রাণ হারাচ্ছে এসব অসহায় মানুষ।

তবে ব্যাংকক সম্মেলনে মন্ত্রী পর্যায়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। ফলে এর ফলাফল খুব বেশি সফল হবে না।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দিয়ে তাদের ঘর ছাড়া বন্ধ করতে জোর আহ্বান জানানোর পর জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক কর্মকর্তাদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মিয়ানমারের প্রতিনিধি।

গত মাস থেকে এ পর্যন্ত থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মাটিতে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি ভাগ্যহত ও অনাহারি মানুষ সাগরে ভেসে ভেসে এসে পৌঁছাছে। জাতিসংঘ বলছে, এখনো প্রায় আড়াই হাজার মানুষ এসব দেশের কূলে ভেড়ায় আশায় সাগরে ভাসছে। বিপদের বিষয় হচ্ছে, বর্ষাকাল আসতে চলেছে। ভারি বর্ষণ শুরু হলে তাদের হয়তো আর বাঁচানো যাবে না।

মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের দমন-পীড়নে অতিষ্ঠিত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে রোহিঙ্গারা। আর প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্যকবলিত কিছু মানুষও তাদের সঙ্গে সাগরে ভাসছে অর্থনৈতিক মুক্তির আশায়।

ব্যাংকক সম্মেলনে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক জেনারেল হটিন লিন জাতিসংঘের উদ্দেশে বলেছেন, সাগরভাসা অবৈধ অভিবাসীদের জন্য শুধু মিয়ানমার দায়ী হতে পারে না।’

এর আগে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সহকারী হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, সাগর পথে অবৈধ অভিবাসীদের ঠেকাতে হলে আগে এর মূল সমস্যার সমাধান করতে হবে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দিতে হবে। না হলে ‘দেশহীন’ অভিবাসীদের রোধ করা যাবে না। মিয়ানমারকেই এর দায় নিতে হবে।

রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না মিয়ানমার। রোহিঙ্গারাই অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি। কিন্তু মিয়ানমারের দাবি, তারা বাংলাদেশি। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারও তাদের স্বীকার করে না। কারণ রোহিঙ্গারা যে মিয়ানমারের মানুষ তার পক্ষে ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য মতে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম যে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে বসবাস করে আসছে, তাদের বিতাড়িত করা হচ্ছে।

শুক্রবারের ব্যাংকক সম্মেলনে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি আর আলোচিত হবে না। মিয়ানমার হুমকি দিয়েছে, এই প্রসঙ্গে আলোচনা হলে, তার সম্মেলনে ত্যাগ করবে।

তথ্যসূত্র : আলজাজিরা অনলাইন।






মন্তব্য চালু নেই