মেইন ম্যেনু

রাজনীতি নিষিদ্ধ হলো দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজে

দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজে রাজনীতি নিষিদ্ধ হলো। ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনের পর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাস এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়।

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের ডা. তৈয়বুর রহমান হলসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালিয়েছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। পরিস্থিতি অবনিতির কারণে মেডিক্যাল ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের বাইরে যখন উভয় গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে তখন পুলিশ ক্যাম্পাসের ভেতরে হলগুলোতে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে মুজাহিদুল হাসানকে সভাপতি ও কৌশিককে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি ঘোষণা করেন জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক পারভেজ আহম্মেদ চৌধুরী পরাগ ও সদস্য রুবেল।

এর দুদিন পর গত শনিবার আশফাকুর রহমান তুষারকে সভাপতি এবং এস.এম. আশফিকার সাম্সকে সাধারণ সম্পাদক করে অপর একটি কমিটি ঘোষা করে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম, সৈকত পাল ও সাদেকুর রহমান বিপ্লব। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দুই গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষ শুরু হয়। দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে শাহাদৎ হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শাহাদাৎ হোসেনকে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় কুপিয়েছে বলে তিনি জানান। এ ছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন ইব্রাহীম খলিল, আদনান, সৌরভ, রাশেদ, হিল্লোল, সোহান, জিসান প্রমুখ।

খবর পেয়ে দিনাজপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. কামরুল হাসানের সভাপতিতে একাডেমিক কাউন্সিলের রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে মেডিক্যাল কলেজে ৩ মাসের জন্য সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ কলেজের প্রধান ফটকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে । এ ছাড়াও ৭ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন ক্যাম্পাসে সংর্ঘষের বিষয়টি নিশ্চিত করছেন।






মন্তব্য চালু নেই