মেইন ম্যেনু

রাজনীতিতে যুব সমাজ

রাজনীতি এবং যুব সমাজ অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে। যুব সমাজকে বাদ দিয়ে রাজনীতি অস্তিস্তহীন বলা চলে। কারন রাজনীতি এবং রাজনৈতিক অংগনে গতিশীলতা আনয়নের অন্যতম উৎস যুব সমাজ। যুব সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহন রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের কাংখিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে চালিকা শক্তি হিসাবে কাজ করে। যুব সমাজকে উপেক্ষা করে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচী  বাস্তবায়িত হতে পারে না। তাই রাজনীতি এবং রাজনৈতিক দলে যুব সমাজের সম্পৃৃক্ততা অনস্বীকার্য। যুবকরাই দেশ গড়ার হাতিয়ার। দেশ উন্নয়ন, দেশের সমস্যা চিহ্নিতকরন তথা সমস্যা সমাধানে যুব সমাজই রাজনীতি এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অগ্রনী ভূমিকা পালন করে। উপমহাদেশের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে যুব সমাজ সর্বাগ্রে এবং সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। এ দেশের সুসংগঠিত যুব সমাজই সকল আন্দোলনের সুত্রপাত করেছে, আন্দোলনে প্রান সঞ্চার করেছে, আন্দোলনের সফলতা এনেছে। বৃটিশ বিরোধী আন্দেলনে হাজী শরীয়তউল্লাহ, তিতুমীর, সূর্যসেন, ক্ষুদিরাম, নেহেরু, গান্ধী, শের-ই-বাংলা,মওলানা ভাসানীসহ স্বদেশী আন্দোলনের অগ্রসেনানী দেশদরদী নাম না জানা অসংখ্য বীরেরা তাদের যুব বয়সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বৃটিশদের কাছে এদেশের সাহসী যুব সমাজ ছিল মুর্তিমান আতংক।

পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মূল নেতৃত্বের পুরোধা ছিল বাঙ্গালী যুব সমাজ। স্বাধীনতার সংগ্রামে বাঙ্গালী যুব সমাজ পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় থেকে বাঙ্গালীর চির কাংখিত স্বাধীনতার লাল সূর্যটাকে ছিনিয়ে আনতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছিল।

১৯৭১ এর ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানীদের অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে এদেশের যুব সমাজই এগিয়ে এসেছিল সর্বাগ্রে। সে সময় যুবকরা প্রথমে বিচ্ছিন্নভাবে পরে সংগঠিত হয়ে পাকিস্তানীদের প্রতিরোধের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে। পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে বাঙ্গালী যুব সমাজের সশস্ত্র আন্দোলনের ফসল স্বাধীনতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে যুব সমাজের বলিষ্ট ভূমিকা ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ব রাজনীতি এবং স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনৈতিক অংগনেও যুব সমাজের উপস্থিতি ছিল প্রশংসনীয়। সদ্য স্বাধীন দেশে যুব সমাজের প্রয়োজনীতা উপলব্ধি করেই তৎকালীন আওয়ামী লীগ তার অন্যতম অংগ সংগঠন হিসাবে যুবলীগের গোড়াপত্তন করেছিল। তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক অংগনে যুবলীগ ছিল শক্তিশালী অংগ সংগঠন। স্বাধীনতা পূর্ব পরাধীন পুর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা অর্জন। কাংখিত  স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যেই এদেশের রাজনীতির সকল কর্মসূচীর লক্ষ্যই ছিল  পাকিস্তানীদের বর্জন। আর পাকিস্তানীদের তর্জন-গর্জনের বিরুদ্ধে এদেশের যুব সমাজের অগ্রনী ভূমিকা ছিল। স্বাভাবিকভাবেই স্বাধীনতা পূর্ব আর স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনীতি ভিন্নতর হয়। আর এ কারনেই সদ্য স্বাধীন দেশের রাজনীতিতে যুব সমাজের অংশগ্রহনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় দেশ গড়ার রাজনীতি। দেশ গড়ার  কাজে যুব সমাজের গুরুত্ব উপলব্দি করেই রাজনৈতিক দলগুলো যুব সমাজকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে যুব সংগঠন গড়ার  উপর জোর দেয়। আওয়ামী লীগের অংগ সংগঠন আওয়ামী যুবলীগ ছিল সর্ববৃহৎ সংগঠিত যুব সংগঠন। সে সময় জনগন ছাত্রলীগের চেয়ে যুবলীগের প্রভাব প্রতিপত্তি দেখেছে বেশি। যুবলীগের সংগঠনের গুরুত্ব উপলব্দি করেই পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট জিয়া তার গঠিত বিএনপি’র অন্যতম যুব সংগঠন হিসাবে যুবদলের প্রতিষ্ঠা করেন। বিএনপিতে তখন ছাত্রদলের চেয়ে যুবদল গুরুত্ব বেশি পাওয়ার কারনে যুবদলের সাংগঠনিক তৎপরতা-পরিধি বেশি ছিল। জিয়ার আমলে ছাত্রদলের চেয়ে যুবদল ছিল বেশি সুসংগঠিত। এভাবেই বাংলদেশের রাজনীতিতে যুব সমাজের সম্পৃক্ততা ঘটে।

রাজনীতিতে যবু সমাজ বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। রাজনীতিতে যুব সমাজের প্রয়োজন আছে আবার যুব সমাজও রাজনীতিতে অংশগ্রহনের করে নিজেদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের গতি সঞ্চার করার সুযোগ পায়। তাই যুব সমাজ এবং রাজনীতি একে অপরের পরিপূরক। যুব সমাজ রাজনীতিতে অংশগ্রহন করে যুব সমাজকে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, বেকারত্ব ঘুচিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য রাজনৈতিক  দল-সরকারকে উদ্ধুৃদ্ধ করতে পারে। আমাদের মতো বিশাল জনগোষ্টির উন্নয়নশীল দেশের যুব সমাজের সাবির্ক কল্যানে রাজনীতিতে যুব সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা অনস্বীকার্য।

এটা বাস্তব সত্য যে, রাজনীতির প্রভাব-প্রয়োজনীয়তা সর্বত্রই। রাষ্ট্র এবং রাজনীতি মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। কারন রাষ্ট্রের জন্যই রাজনীতি আবার রাজনীতিইতো রাষ্ট্রকে সুন্দরভাবে পরিচালিত করতে সক্ষম। রাজনীতি বিহীন রাষ্ট্র পরিচালিত হতে পারে না। রাজনীতিকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন সম্ভবপর নয়। অস্থিতিশীল রাজনীতি রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে সক্ষম। আর রাজনীতির অন্যতম শক্তি  যুব সমাজ তাই রাজনীতি-রাজনৈতিক দলগুলো তাদের স্বার্থে যুব সমাজকে সম্পৃক্ত  করে। যুব সমাজও নিজেদেরকে  রাজনীতিতে  সম্পৃক্ত  করে নিজেদের অধিকার আদায়ের কাজটি সহজতর করতে পারে। কিন্তু দুঃখজনক সত্য ইদানিং রাজনীতিকে ব্যবহার করে যুব সমাজ তাদের সার্বিক উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ না করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক  উন্নয়নের দিকে ঝুঁকছে। আর এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তা চেতনা থেকেই রাজনীতিতে প্রতিহিংসার চর্চা বাড়ছে। অনৈতিকতা বাড়ছে। ফলে রাজনীতির প্রতি আস্থা নষ্ট হচেছ। আদর্শ, লক্ষ্য উদ্দেশ্য কেবল সংগঠনের গঠনতন্ত্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে     বাস্তবে নেই। যেন কেতাবে আছে গোয়ালে ্েনই দশা। যুব সংগঠনের নেতাদের নিজেদের সাংগঠনিক ব্যর্থতার কারনেই আজকে রাজনৈতিক দলগুলোর যুব সংগঠনের  তেমন গুরুত্ব  দেখা যাচেছ না।

যুব সমাজকে তাদের নিজেদের প্রয়োজনে তথা দেশ-জনতার প্রয়োজনে রাজনৈতিক অংগনে নিজেদের সৎ, নির্ভীক দেশপ্রেমিক, কল্যাণমূলক মনোভাব প্রকাশের বাস্তব প্রয়োগের মধ্য দিয়েই রাজনীতিতে যুব সমাজের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। রাজনীতি বিমূখ যুব সমাজকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করে রাজনীতির গুনগত মান বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহনের প্রক্রিয়টিও যুব সমাজকেই নিতে হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল তথা দলের নেতৃত্বকেও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। দেশের জনসংখ্যার বৃহৎ অংশ তরুন-যুব সমাজকে উপেক্ষা করে রাজনীতি এগিয়ে যেতে পারে না। আবার যুব সমাজও রাজনীতিতে অংশগ্রহন করে রাজনীতির চরিত্র হননে অনৈতিক ভূমিকা পালন করার অধিকার রাখতে পারে না। এসব বিষয়গুলো এড়িয়ে না গিয়ে সমাধান করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হলে রাজনীতি এবং যুব সমাজের সম্পর্ক একে অপরের পরিপূরক হয়ে  উঠতে পারে  এবং অন্ধকার কেটে গিয়ে আলো আসতে পারে।

লেখক-কলামিস্ট



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই