মেইন ম্যেনু

রাজনীতিতে ছাত্র সমাজ

রাজনীতি এবং ছাত্র সমাজ। বর্তমান রাজনীতিতে বহুল আলোচিত দুটি শব্দ। এই দু’য়ের মাঝের সম্পর্ক নির্নয় করতে গেলে বিষয়টি  দুইভাবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। রাজনীতিতে ছাত্র সমাজের ভূমিকা অথবা ছাত্র সমাজে রাজনীতির ভূমিকা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছাত্র সমাজের বর্ননাতীত অনন্য ভূমিকা রয়েছে। ছাত্র সমাজের ইতিবাচক-নেতিবাচক ভুমিকা অনেক ক্ষেত্রে রাজনীতির গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করে থাকে। স্বাধীনতা পূর্ব তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পরাধীনতার শিকল ভেংগে স্বাধীনতার সংগ্রামে ছাত্র সমাজের অগ্রনী ভূমিকা বাংগালীর রাজনীতিকে করেছিল গতিশীল। বিজাতি পাক সরকারেরর বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজের অব্যাহত লড়াকু সংগ্রাম বাংলাদেেেশর স্বাধীনতার সংগ্রামকে সফল করে তুলেছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে বাংগালী ছাত্র সমাজের অবদান ইতিহাস স্বীকৃত। তেজোদীপ্ত বাংগালী ছাত্র সমাজ স্বৈরশাসক পাক সরকারের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে মুক্তিকামী মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে শানিত ও সার্থক করে তুলেছিলো। রাজনৈতিক অংগনে ছাত্র সমাজের ভূমিকাকে করে তুলেছিল গৌরবান্বিত।।

স্বাধীনতা পূর্ব রাজনীতিতে ছাত্র সমাজের স্বতঃস্ফ’র্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহনের ফলে রাজনীতি এবং ছাত্র সমাজ হয়ে উঠেছিল মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। পুরো পাকিস্তান আমলে আমাদের পরাধীনতার শৃংখল ভেংগে বাংগালীর আজন্ম লালিত স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার  লক্ষ্যে স্বাধীকার আন্দোলন, স্বাধীনতার আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তিই ছিল বাংগালী ছাত্র সমাজ। ’৫২র ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাততো বাংগালী ছাত্র সমাজের উদ্যোগেই হয়েছে। এরপর ’৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬ এর ছয় দফা, ১১ দফার আন্দোলন এর মাধ্যমে স্বাধীনতার লক্ষ্যে এক দফার আন্দোলনে     রুপান্তরিত করার মূল কাবিগর ছিল এদেশের ছাত্র সমাজ। ছাত্ররাই প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তৈরী করা এবং পতাকা উত্তোলন করাসহ মহান স্বাধীনতার সংগ্রামে গৌরবময় ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দূর্ভাগ্য আমাদের সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি এবং ছাত্র সমাজ এর মধ্যকার সম্পর্ক নতুন আংগিকে রুপ নেয়। ছাত্র সমাজ বিশেষ করে সরকার দলীয় ছাত্র সমাজকে দেশ গড়ার কাজে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করার চেয়ে দলীয়করন তথা নেতৃত্বে আধিপত্য বিস্তারের প্রতি প্রাধান্য দিতে দেখা যায়। ফলে নেNazmul copyতৃত্ব বিভক্ত হয়ে পড়ে। ছাত্র সমাজও বিভক্ত হয়ে পড়ে। তৎকালীন সরকার সমর্থিত ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা চার খলিফা নামে পরিচিত ছাত্র নেতারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সদ্য স্বাধীন দেশে ছাত্র সমাজের মাঝে প্রথম  বিভক্তি সূচনা করে। একপক্ষ সরকারের অংগ সংগঠনের নেতৃত্ব থাকে অন্য পক্ষ সরকার বিরোধী ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ব দেয়। যাদের মাধ্যমেই পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতিতে একটি বিরোধী দলের উদ্ভব ঘটে ছিল। এভাবেই সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছাত্র সমাজের অংশগ্রহনে নতুন মাত্রা যোগ হতে থাকে। তখন থেকেই সরকারের অংগ সংগঠন হিসাবে পরিচিত ছাত্র নেতা-কর্মীদের  কর্মকান্ড একভাবে পরিচালিত হতো আর বিরোধী রাজনৈতিক দলের সংগঠনগুলো অন্যভাবে পরিচালিত হতে থাকে। সরকারী দলের আর্শিবাদপুষ্ট ছাত্র নেতারা ক্রমশ: ছাত্র সমাজ সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ডের চেয়ে মূল দলের প্রতিনিধিত্ব  করতে স্বাচছন্দ্য বোধ করে। অপরদিকে  দুর্বল বিরোধী শিবিরের ছাত্র নেতাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হতে থাকে ভিন্ন দিকে। তবে তখনও ছাত্র সংসদগুলো সচল ছিল। যদিও অনেকক্ষেত্রে  সরকার দলের ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে জোর করে ছাত্র সংসদ দখলের অভিযোগ উঠছিল। ’৭২-’৭৫ এ ছাত্র রাজনীতিতে ছাত্র সংসদ দখলের মহোৎসব ছিল নিত্য ঘটনা। তখন জাতীয় রাজনীতিতে ডান ও বাম পন্থী দু’টি শিবির থাকায় ছাত্র রাজনীতিতেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। একদিকে ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সমার্থিত ছাত্র সংগঠন। অপরদিকে বামপন্থী দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠন। কিন্তু এর বাইরে বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে দল নিরপেক্ষ ছাত্র সংগঠনের অস্তিস্ত দেখা যায়নি। ’৭৫ পূর্ব রাজনীতিতে ইসলামী দলগুলো নিস্ক্রিয় ছিল বিধায় এ ধারার ছাত্র সংগঠনের অস্তিস্ত দেখা যায়নি। ’৭৫ পূর্ব ছাত্র রাজনীতিতে সরকার বিরোধী ছাত্র সংগঠন বলতে মুলতঃ জাসদের ছাত্র সংগঠনকে ধরা হতো এর বাইরে  অন্যদের অবস্থান ছিল নাম স্বর্বস্ব। ’৭৫ পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতির পট পরিবর্তনের ছোঁয়া ছাত্র রাজনীতিকেও প্রভাবিত করে। ’৭৫ এর ২৫ শে জানুয়ারীতের গনতান্ত্রিক বাংলাদেশের সংবিধান পরিবর্তনের কারনে বহুদলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেসময় রাজনৈতিক অংগনে সেক্যুলারিজম এর প্রভাব থাকায় ধর্ম ভিত্তিক দল এবং দলের সমর্থনপুষ্ট ছাত্র সংগঠনের অস্তিস্তই দেখা যায় নি এবং বাম সংগঠনগুলোর অধিকাংশই বাকশালে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বাম ছাত্র রাজনীতিও সীমিত ছিল। তবে নতুন জন্ম নেয়া জাসদের রাজনৈতিক দর্শন বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র এবং সমাজতান্ত্রিক আদর্শ ভিত্তিক সংগঠনের কিছুটা সরব উপস্থিত ছিল। আর ছিল পিকিংপন্থী ছাত্র ইউনিয়নের সংগঠনটি।’৭৫ পরবর্তীতে পরিবর্তিত রাজনৈতিক ধারায় বহুদলীয় গনতন্ত্রের চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় ছাত্র সংগঠনগুলোর  মধ্যে প্রান সঞ্চারিত হয়। তবে এ সময় অনেক দলের মাঝে ভাংগনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফলে ছাত্র সংগঠনে তার প্রভাব পড়ে। তবু ছাত্র রাজনীতি সচল ছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রাজনীতিতে নতুন ধারার প্রবর্তন করে অবাধ বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতার শুভ সূচনা করলে রাজনীতিতে নতুন করে প্রান সঞ্চারিত হয়। জিয়া ও তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি এ সময়  ছাত্রদল নামে ছাত্র সংগঠন চালু করে। তবে জিয়ার শাসনামলে ছাত্রদলের যাত্রা শুরু করলেও দেশব্যাপী  সংগঠনটির প্রচার-প্রসার ঘটে নি। তবে স্বল্প সময় পেলেও আওয়ামী ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদল ক্ষমতার দাম্ভিকতা দেখায়নি যা বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে ব্যতিক্রমি বলা চলে। জিয়ার আমলে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠিত হলেও এর প্রকৃত সফলতা-বিকাশ ঘটে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়।

স্বৈরশাসক এরশাদও পূর্বসূরীদের অনুসরনে নিজ দলের অংগ সংগঠন হিসাবে ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠিত  করেছিল। এরশাদের প্রথম ছাত্র সংগঠনের নাম ছিল নতুন বাংলা ছাত্র সমাজ যা পরবর্তীতে জাতীয় ছাত্র সমাজ নামে কাজ করছে। ক্ষমতাসীন সরকারী মদদপুষ্ট জাতীয় ছাত্র সমাজকে তৎকালীন সচেতন ছাত্র সমাজ গ্রহন করেনি। যা ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে অন্যরকম উদাহরণ। ফলে এরশাদের ক্ষমতাকালীন সময়ে জাতীয় ছাত্র সমাজকে সরকারের পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহন করা ছাড়া জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গঠিত সরকার বিরোধী রাজনৈতিক ভূমিকায় অংশগ্রহন করতে দেখা যায়নি। এরশাদ স্বৈরাচার আক্ষায়িত হওয়ায় জাতীয় ছাত্র সমাজও তখন দাঁড়াতে পারেনি। দেশের জাতীয় রাজনীতি উত্তপ্ত  থাকায় ছাত্র রাজনীতিও সক্রিয় ছিল। এরশাদের স্বৈরশাসনে দেশব্যাপী অস্থিরতা বিরাজ করলেও ছাত্র রাজনীতির সচলতার কারনে ছাত্র রাজনীতির সূতিকাগার ছাত্র সংসদগুলো সক্রিয় ছিল। তখন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের কারনে দক্ষ ছাত্র নেতৃত্ব তৈরী হওয়ার সুযোগ থাকতো অর্থাৎ ছাত্র রাজনীতির চর্চা ছিল। বর্তমানে ছাত্র সংগঠনের মধ্যে প্রথম সারির নেতৃত্বে আছে ছাত্রদল, ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবিরের পর অন্যান্য সংগঠনগুলোর অবস্থান। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বৈরশাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়ই এদেশের ছাত্র সমাজ তথা ছাত্র সংগঠনগুলোকে আন্দোলনের সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থান  করতে দেখা যায়। সেসময় ছাত্র সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে এরশাদ হটাও আন্দোলনে অনড় অটল থেকে ছাত্র রাজনীতিকে  আন্দোলনমূখী  করেছিল। স্বৈরশাসক এরশাদ পতনের পর ছাত্র রাজনীতিতে তেমন সচলতা দেখা যায়নি। ছাত্র রাজনীতিতে এখন সহাবস্থানের রাজনীতির চর্চা নেই। ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনগুলো সাধারন মানুষের কাছে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ হিসাবে গন্য হচেছ। ছাত্র সংগঠনগুলো নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য প্রয়োজনে নিজ সংগঠনের কর্মীদেরকেও  হত্যা করছে। রাজনীতির নামে নষ্টামী  অপ-রাজনীতি প্রয়োগ করে ছাত্ররাই ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত করে তুলছে।

আজকাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত শিক্ষক সমাজের বিরুদ্ধেও তাদের ব্যক্তি স্বার্থে ছাত্র সংগঠনগুলোকে  ব্যবহার করার অভিযোগ উঠছে যা অপ ছাত্র রাজনীতির ক্ষেত্রে যোগ করছে নতুন মাত্রা। বাংলাদেশে শিক্ষাঙ্গনে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে ছাত্র রাজনীতি চর্চার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু  ছাত্র সংসদগুলোতে নির্বাচন না হওয়ার কারনে আশির দশকের পরে  ছাত্র রাজনীতিতে আগের মতো গতি দেখা যাচেছ না। ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ার নেতা তৈরি হচেছ না।  ছাত্র জীবনে রাজনীতি সম্পৃক্ত না থেকে ভবিষ্যত নেতা হলে তাদের রাজনীতির প্রতি দরদ থাকে না কিংবা রাজনৈতিক  অভিজ্ঞতার  ভীত মজবুত হতে পারে না।  প্রশ্ন উঠতে পারে এখন কি ছাত্র রাজনীতি নেই। ছাত্র সমাজে রাজনৈতিক চর্চা নেই। উত্তরটা হলো এখনও ছাত্র রাজনীতি আছে তবে ছাত্র রাজনীতির ধরন-ধারন অনেকটাই পাল্টে গেছে।এক সময় ছাত্রদের রাজনীতির চর্চা ছিল তৃনমূল রাজনীতির প্রানকেন্দ্র। শহর-গ্রামের সাধারন মানুষ ছাত্রদের কাছ থেকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা বিশ্লেষন পেতো। মেধাবী ছাত্ররাই তখন ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকতো। রাজনীতি-অর্থনীতির সম্পর্কে ছাত্র নেতারা ব্যাপক ধারনা রাখতো। তারা সব বিষয়ে পড়াশুনা করতো। এখন ছাত্র রাজনীতির সেই চিত্র নেই। এখন আর ক্লাসের মেধাবী ছাত্ররা ছাত্র রাজনীতি করে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই  অছাত্র, ক্লাসের লাষ্ট বেঞ্চের ছাত্র, এমনকি ব্যবসায় জড়িত থেকেও ছাত্রদেরকে ছাত্র সংগঠনে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। দেশের মূল সমস্যা নিয়ে আজকাল আর ছাত্রদেরকে ভাবতে দেখা যায় না।  আলোচনার টেবিলে বসে দেশের সমস্যা নিয়ে  কারো প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতেও দেখা যায় না। কিংবা দেশ নিয়ে, ছাত্র সমাজের নিজস্ব সমস্যা নিয়ে ভাবতে দেখা যায় না। অবশ্য ইদানিং অনেকক্ষেত্রে ছাত্ররা তাদের নিজস্ব সমস্যা মোকাবিলায় এগিয়ে আসছে যার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে নয় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগেই পরিচালিত হচেছ। এখন ছাত্র নেতা হয়ে গিয়ে নিজেদেরকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তে দেখা যায়। ছাত্র নেতাদের অধিকাংশই বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক হয়ে যাচেছ। পত্রিকার পাতা খুললেই পাওয়া যায় ছাত্র নেতাদের টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি-অস্ত্রবাজির খবর। সেসাথে অপহরন, মুক্তিপন আদায় এমনকি শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্র ট্রেনিং দেয়ার মতো অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো। ছাত্র রাজনীতিকে লাভজনক পেশা হিসাবে গণ্য করতে অনেকেই কর্মজীবন কিংবা বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করেও ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব বহাল রেখে যাচেছ। এসব দেখতে দেখতে স্বাভাবিক কারনেই ছাত্র রাজনীতির প্রতি সাধারন মানুষের আস্থা কমে যাচেছ। ছাত্র সংগঠনগুলো ছাত্রবান্ধব কর্মসূচী  পালনের চেয়ে মূল রাজনৈতিক  দলগুলোর কর্মসূচী বাস্তবায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। অতীতে সমাজ সচেতন বোধ এর ব্যাপক চর্চা থাকার কারনে ছাত্র রাজনীতিতেও এর প্রভাব ছিল। কিন্তু আজকে সর্বত্র নিঃস্বার্থ সমাজ সচেতনতা বোধ এর অভাব ছাত্র রাজনীতিকেও প্রভাবিত করেছে।

আজকাল সমাজ-দেশ সচেতনতা থেকে ছাত্ররা রাজনীতিতে অংশ গ্রহন করছে বলে অনেকেই মনে করছে না। সাধারণ মানুষের ধারনা বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলগুলোর জৌলুস, পৃষ্টপোষকতা করাসহ ক্ষমতার প্রতি লোভ সেসাথে সমাজে নিজেকে জাহির করাসহ আর্থিক লাভবানের তাগিদেই ছাত্র সমাজের কতিপয় অংশ ছাত্র রাজনীতিতে  সংযুক্ত হওয়ার অন্যতম কারন বলে গণ্য করা হয়। এর ফলে ছাত্র রাজনীতি কলুষিত হচেছ, সুস্থ ছাত্র রাজনীতির পরিবেশ নষ্ট হচেছ। অথচ এই ছাত্র রাজনীতি, ছাত্র নেতাদের আত্মত্যাগ, সংগ্রামী চেতনা, মেধা-মননের সফল প্রয়োগের ইতিহাস স্বীকৃত অজস্র উদাহরন রয়েছে। রাজনৈতিক অংগনে আজকে যে প্রচলিত শ্লোগান- ’জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো’ এই শ্লোগানটির উৎপত্তি করেছিল ছাত্র নেতারা (ঢাবিতে পরীক্ষা বর্জন করার লক্ষ্যে জনৈক শহিদুল হকের হাঙেরীয় ভাষা মাডো মাডো চিৎকারটি থেকেই এর উৎপত্তি) এছাড়াও  পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে দেয়াল লিখন যা  চিকা মারা নামে পরিচিত তা ছাত্র নেতা-কর্মীদেরি আবিস্কার। এরকম অনেক কাজ মিছিল, মিটিংএর শ্লোগান বানানো, আকর্ষণীয় পোষ্টার-ফেষ্টুন এসবি ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছাত্র নেতা-কর্মীদেরি অবদান। যা জাতীয় রাজনীতিতে ব্যবহৃত হচেছ।

ছাত্ররা রাজনীতিতে আসে আসবে এটা স্বাভাবিকি বলা চলে। অতীতে আগ্রাসন-ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন, বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে, এমনকি শোষন বৈষম্য দূরীকরনের  গণআন্দোলনেও ছাত্রদেরকেই  অগ্রনী  কিংবা নিয়ামক ভূমিকা পালন করতে দেখা গিয়েছিল আগামীতেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে অর্থাৎ জাতীয় চেতনা বোধ থেকে ছাত্র সমাজকেই এগিয়ে আসতে দেখা যাবে। আর এভাবেই ছাত্ররা রাজনীতিতে জড়িয়ে যায়, যাবে। এছাড়াও আমাদের দেশে অধিকাংশ ছাত্রই নিু মধ্যবিত্ত বা নিু বিত্ত আসায় তারা বৈষম্যের যন্ত্রনা বুঝে, হলে দল বেধে থাকার কারনে সংঘবদ্ধ হওয়ার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়া থেকেও সাংগঠনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে যায়। সেসাথে ছাত্রদের সাংসারিক ঝামেলা না থাকায় এবং জীবনের জটিলতার ঝুঁকি কম থাকায় ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।

ছাত্র রাজনীতি অতীতে ছিল বর্তমানে আছে ভবিষ্যতেও থাকবে। দূর্ভাগ্য জাতির বর্তমানে দেশে সুস্থ ছাত্র রাজনীতির চর্চা নেই। দেশ-জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ছাত্র রাজনীতিতে সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে হবে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ছাত্ররই যেহেতু জাতির ভবিষ্যৎ তাই দেশ-জাতির ভবিষ্যত এই সম্ভাবনাময় ছাত্র সমাজকে  ছাত্র রাজনীতির  ঐতিহ্যমন্ডিত গৌরব ফিরিয়ে আনতে কার্যকরী পদক্ষেপ দিতে হবে দ্রুত। বিরাজমান সমস্যা চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানে  সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে মত বিরোধ ভুলে। ছাত্র রাজনীতিই জাতীয় রাজনীতির সুতিকাগার। তাই রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে হলে দেশ-জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ছাত্র রাজনীতির দূর্নাম-বদনাম ঘুচিয়ে কলঙ্কিত ছাত্র রাজনীতিকে সুষ্ঠু রাজনীতির ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে আনতে  সততা, নীতি-নৈতিকতার চর্চা, দেশাত্ববোধ এর মূল্যবোধ সদা জাগ্রত রাখার মনোভাবের অলংকারে অলঙ্কিত করতে হবে। সুষ্ঠু ছাত্র রাজনীতির চর্চার মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিকে ফিরিয়ে নিতে হবে ছাত্র রাজনীতির ঐতিহ্যবাহী ধারায়। ছাত্র সংগঠনগুলোকে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ডের প্রতি আরো বেশি করে সম্পৃক্ত করতে হবে, ছাত্র বান্ধব রাজনীতির চর্চা করতে হবে। আর এ কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে ছাত্র রাজনীতির স্বার্থে, জাতীয় রাজনীতির স্বার্থে।

লেখক- কলামিস্ট






মন্তব্য চালু নেই