মেইন ম্যেনু

যশোরে যুবলীগ নেতা আলমগীরকে হত্যা চেষ্টা করার কথা স্বীকার করছে ॥ আটক সুজন

যশোরে যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেনকে হত্যা প্রচেষ্টায় নিজেকে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে আটক সুজন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ি সুজনসহ আরো ১৭ জন সন্ত্রাসী ওই কিলিং মিশনে অংশ নিয়ে বোমা মেরে ও গুলি করে হত্যা চেষ্টার কথা স্বীকার করে। সুজন রামনগর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে।
শনিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু ইব্রাহিমের এজলাসে জবানবন্দিতে সে এ কথা স্বীকার করে।
সূত্রে জানাগেছে, সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আলমগীর হোসেন গত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। অল্প ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজয় বরন করেন। আগামি নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারেন এমন আশংকায় প্রতিপক্ষরা তাকে পথের কাঁটা সরাতে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২৫ মে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে আলমগীর হোসেন রাজারহাট বাজারে সরদার ট্রের্ডাসের পূর্ব পাশে একটি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় এলাকার পাগলা শাহিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসীরা হঠাৎ আলমগীর হোসেনকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। মুখে ও বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে বেশ কয়েকটি বোমার বিস্ফোরন ঘটিয়ে পালিয়ে চলে যায় সন্ত্রাসীরা।
আলমগীর হোসেনের মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে সন্ত্রাসীরা চলে গেলেও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরদিন সকালে তাকে জরুরী ভিত্তিতে ঢাকার এপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আলমগীর হোসেনের ভাই আলতাপ বিশ্বাস বাদী হয়ে ২৯ মে ২৯ জনকে আসামি দিয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। আটক সুজন এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
পুলিশ আলমগীর হত্যা চেষ্টাকারীদের আটক করতে না পারায় সাধারন মানুষের মাঝে নানান ধরনের পশ্নের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে শুক্রবার রাতে সবেবরাত উপলক্ষে গোপনে বাড়িতে আসে সুজন। স্থানীয় লোকজন দেখে তার বাড়ির চারিদিকে ঘেরাও করে রেখে পুলিশকে সংবাদ দেয়। কোতোয়ালি থানার এসআই ইয়াছিন মুন্সি বাড়ি থেকে তাকে আটক করেন। শনিবার আলমগীর হোসেনকে হত্যার চেষ্টা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই আবুল খায়ের মোল্যা আটক সুজনকে আদালতে সোপর্দ করেন। সুজন আদালতে আলমগীর হোসেনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হত্যা চেষ্টার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। সে জবানবন্দিতে আরো জানায় গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে আলমগীর পরাজয় হলেও এবারের নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। সেকারনে তাকে দুনিয়া থেকে চির দিনের জন্য সরিয়ে দিয়ে আগামি নির্বাচনের পথ পরিস্কার করে নেয়ার জন্য তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ মামলার অন্য আসামিরা এখনও পলাতক রয়েছে।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই