মেইন ম্যেনু

মেসির জীবন পাল্টে দেওয়া ফোন

এক দশক পূর্ণ হলো মেসির। বার্সার জার্সি গায়ে ফুটবল বিশ্বকে একের পর এক বিস্ময় উপহার দিয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন ক্ষুদে তারকা। কিন্তু কিভাবে আজকের এই মেসি! কোথা থেকেই বার এমন উত্থান। নানা জন নানাভাবে বের করার চেষ্টা করছেন মেসির আজকের এই মেসি হিসেবে উঠে আসার গল্প। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য টেলিগ্রাফ বের করলো, গার্দিওলার এক ফোন কলই পাল্টে দিয়েছিল মেসির জীবন। কী ঘটেছিল সেদিন?

দিনটা ছিল শুক্রবার। ২০০৯ সালের ১ মে। পরের দিন রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে শ্বাসরূদ্ধকর এল ক্ল্যাসিকো। এ নিয়ে বেশ চিন্তিত বার্সা কোচ পেপ গার্দিওলা। আক্রমণের ছক আঁকছেন। পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু মনে ধরছে না তার। হঠাৎ কি যেন মাথায় আসলো। তুলে নিলেন ফোনের রিসিভার। ডায়াল করলেন। একটু অপেক্ষা। অপরপ্রান্তে ফোন ধরার পরই তিনি বললেন, ‘লিও (মেসি), পেপ বলছি। আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তোমাকেও দেখাতে চাই। এখুনি চলে আস। প্লিজ এখনই!’

রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ মেসি ছুটে এলেন। প্রবেশ করলেন গার্দিওলার রুমে। মেসি তখনও জানতেন না। কী অধ্যায় রচিত হতে চলেছে তার ক্যারিয়ারে। শুধুই কি তার ক্যারিয়ার! গার্দিওলার রুমে তার ওই পদক্ষেপ পাল্টে দিয়েছে যেন ফুটবলের মানচিত্রও।

গার্দিওলা মেসিকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন তার পরিকল্পনা। লিওকে বললেন, ‘কাল মাদ্রিদের ম্যাচে বরাবরের মতো উইংয়েই শুরু করবে। কিন্তু যে মুহূর্তে আমি ইশারা করব, তখনই তুমি মাঝমাঠের ওপরের দিকে উঠে আসবে…।’ শিক্ষক-ছাত্রের মধ্যে কথা হলো আরও কিছুক্ষণ।

ব্যস! তৈরী হয়ে গেল ফুটবলের নতুন পজিশন, বিখ্যাত ফলস নাইন। এতদিন উইংয়ে খেলা মেসি এবার থেকে খেলবেন ছদ্ম স্ট্রাইকার হিসেবে। পুরো স্ট্রাইকার নন, অথচ মেসিই এখন আসল স্ট্রাইকার।

পরদিনই, ২ মে বার্নাব্যুতে বাস্তবায়িত হয়েছিল মেসিকে নিয়ে গড়া গার্দিওলার বিখ্যাত সেই রণকৌশল। যা প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদের জন্য ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। হতবিহ্বল রিয়াল নিজেদের মাঠেই সেদিন বার্সেলোনার কাছে হেরেছিল ৬-২ গোলের ব্যবধানে!

ম্যাচের দশম মিনিটেই গার্দিওলা তার সেই বিশেষ ‘ইশারা’টি করেছিলেন। তখনই ফরোয়ার্ড থেকে ডান উইংয়ে সরে আসেন স্যামুয়েল ইতো। আর ইতোর জায়গা নেন মেসি। রিয়াল রক্ষণে থাকা তখনকার ডিফেন্ডার ফ্যাবিও কানাভারোর তো চক্ষু চড়কগাছ। ওই সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করে ক্যানাভারোর সঙ্গী ক্রিস্তোফ মেৎজেলদার বলেছিলেন, ‘ফ্যাবিও আর আমি কেবল একে অপরের মুখের দিকে তাকাচ্ছিলাম। আমরা এখন কী করব? এগিয়ে গিয়ে ওকে মাঝমাঠে সামলাব, নাকি নিচেই অপেক্ষা করব মেসির উঠে আসার জন্য? আসলে আমরা কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না।’

শুধু ক্যানাভারো না, মেসিকে হুট করে ফলস নাইন পজিশনে তুলে নিয়ে আসা গার্দিওলার এই কৌশল আর কেউই সামলাতে পারেনি। ওই এক কৌশলেই বদলে গিয়েছিলো মেসির জীবন। এরপর একে একে এগিয়ে গেছেন তিনি আর প্রতিপক্ষকে ভাসিয়েছিলেন গোলবন্যায়। সূত্র: টেলিগ্রাফ।






মন্তব্য চালু নেই