মেইন ম্যেনু

মেধা তালিকায় ১৩৮ তম হয়েও কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবে না খালেদা?

দারিদ্র্যকে পেছনে ফেলে এসএসসি ও এইচএসসি দুটো পাবলিক পরীক্ষাতেই জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন খালেদা। সেই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এবারের ভর্তি যুদ্ধে জয় পেয়ে অধিকার করেছেন ১৩৮তম স্থান। কিন্তু বারবার বিজয়ী হওয়া খালেদা ঢাবিতে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে কি পরাজিত হবেন?

হ্যাঁ পাঠক, দারিদ্র্যকে জয় করা মেধাবীছাত্রী খালেদা এখন ঢাবিতে ভর্তি হতে পারছেন না টাকার অভাবে। উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পেয়েও তার দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন যেনো ভাঙতে বসেছে।

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের হতদরিদ্র আলাল উদ্দিনের মেয়ে খালেদা আক্তার। পাঁচ সন্তানসহ ৭ সদস্যের ওই পরিবারের নেই কোনোও জায়গা-জমি। পরের জমিতে কাজ করে কোনো রকমে চলছে তাদের পরিবার। এর মধ্যেই তিনি টিউশনি করে চালিয়ে এসেছেন পড়ালেখা। কিন্তু ঢাবিতে ভর্তি হতে মোটা অংকের টাকা দরকার। সে টাকা জোগার করতে না পারায় এখনও ভর্তি হতে পারেন নি। মেয়ের পড়ালেখা নিয়ে এখন শঙ্কিত খালেদার বাবা।

মেধাবীছাত্রী খালেদা জানান, এ বছর হোসেনপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে তিনি মানবিক শাখায় জিপিএ গোল্ডেন-৫ লাভ করেন। এর আগে ২০১২ সালে হারেঞ্জা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। চলতি ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘খ’ ইউনিটে মানবিক শাখায় ভর্তি পরীক্ষার মেধা তালিকায় ১৩৮তম স্থান লাভ করেছেন খালেদা। (ভর্তি পরীক্ষার রোল নং-৫০২২৮৮) কিন্তু অর্থাভাবে এখনো তিনি ভর্তি হতে পারেননি।

তবে টাকার ব্যবস্থা হলে এ বছরই ঢাবিতে ভার্তি হতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

খালেদা আরও জানান, ঢাবিতে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েও ভর্তি ও পড়ালেখার খরচ চালানোর সামর্থ তার বাবার নেই। তাই বিত্তবানদের সহযোগিতা চান এ মেধাবীছাত্রী। তবে এ পর্যায়ে এসে অর্থাভাবে এখনো ঢাবিতে ভর্তি হতে না পাড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন খালেদা।

তার বাড়িতে গেলে খালেদার বাবা আলাল উদ্দিন আবেগ জড়িত কণ্ঠে জানান, ভিটেবাড়ি ছাড়া তার কোনো সহায়-সম্পত্তি নেই। অন্যের জমি চাষ করে কোনো রকমে সংসার চলে। তিন মেয়ে-দুই ছেলের মধ্যে খালেদা দ্বিতীয়। বড় মেয়ে উম্মে হাবিবা কামিল পাশ করে বাড়িতে দর্জির কাজ করছেন। তৃতীয় মেয়ে পলি আক্তার স্থানীয় হারেঞ্জা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ছে। দুই ছেলে আজাদ রহমান সপ্তম শ্রেণীতে ও সাজ্জাদ হোসেন দ্বিতীয় শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। এমতাবস্থায় মেয়ের উচ্চ শিক্ষার প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অর্থাভাবে তার শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় তিনি দিশেহারা। তাই খালেদার লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সাহায্যের জন্য মানবিক আবেদন জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে হোসেনপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোসলেহ উদ্দিন খান জানান, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিয়মিত ক্লাস করতো খালেদা। শত বাধার মাঝেও ভাল রেজাল্ট করে সে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। প্রবল ইচ্ছার কাছে দারিদ্র্য তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। সে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে কলেজের মধ্যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বিত্তবানদের আর্থিক সহযোগিতা পেলে সে বড় কিছু হতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ ব্যাপারে মেধাবী ছাত্রী খালেদার বাবা আলাউদ্দিনের এই নাম্বারে (০১৭২৮-৪৩৪৭৮৬) যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।






মন্তব্য চালু নেই