মেইন ম্যেনু

মানবপাচারকারীদের আর্থিক দুর্নীতি খতিয়ে দেখবে দুদক

মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের অবৈধ সম্পদ ও নিয়মবহির্ভুত লেনদেনের বিষয়ে শিগগিরই অনুসন্ধানে নামবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে রবিবার কমিশনের মাসিক ব্রিফিংয়ে দুদক পরিচালক মো. নূর আহাম্মদ এ কথা জানান।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মো. নূর আহাম্মদ বলেন, ‘মানবপাচারের বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় অনেক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতের সম্পদ ও অর্থ পাচারের বিষয়টি উঠে এসেছে। কমিশন ওইসব সংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। শীঘ্রই এ বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।’

কমিশনের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) ড. শামসুল আরেফিন বলেন, ‘মানবপাচার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যেখানে দুর্নীতি পাওয়া যাবে সেখানেই দুদক তার আইনী পদক্ষেপ নেবে।’

হলমার্ক-ডেসটিনি প্রসঙ্গ:

হলমার্ক ও ডেসটিনির দুর্নীতির তদন্তের বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে দুদকের মহাপরিচালক বলেন, ‘মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি ডেসটিনির বিরুদ্ধে চার হাজার ১১৯ কোটি টাকা দুর্নীতির দুই মামলায় ইতোমধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এমডি রফিকুল আমীনসহ অনেকেই কারাগারে রয়েছেন।’

অন্যদিকে, হলমার্কের ফান্ডেড অংশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই দুর্নীতির ফান্ডেড এক হাজার ৯৪১ কোটি আত্মসাতের ঘটনায় ৩৮টি মামলা হয়েছে। অন্যদিকে নন-ফান্ডেড এক হাজার ৭১০ কোটি আত্মসাতের অনুসন্ধান নথিভুক্তি হলেও এ সংক্রান্ত সোনালী ব্যাংকের ২৮ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদেনের ভিত্তিতে দুদক পুনরায় সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

মুসা বিন শমসেরের সম্পদের অনুসন্ধানের বিষয়ে দুদক মহাপরিচালক বলেন, ‘তার (মুসা) বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করা হযেছে। তিনি দুদকের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। তাকে আগামী ৭ জুন পর্য্ন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।’

দুদকের মামলায় আসামী খালাসের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যথাযথ অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে মামলা আদালতে যায়। তবে মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে দুর্বলতা থাকার কারণে অনেক সময় আসামী খালাস পায়। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্তে কোন দুর্বলতা রয়েছে এমন পর্যবেক্ষণ আদালত থেকে পাওয়া যায়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত কমিশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে বলা হয়, ওই সময়ে দুদকে প্রাপ্ত অভিযোগের সংখ্যা দুই হাজার ৭৯৮টি। এর মধ্যে গৃহীত অভিযোগের সংখ্যা ২৩২টি। এ ছাড়া ওই সময় মোট ১২৬টি মামলা ও ২১৬ চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে, শুধু এপ্রিল মাসে মোট ২৫টি মামলা ও ৪২টি চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ মাসে মোট মামলা নিষ্পত্তি হয় ১২টি। এর মধ্যে ৫টি মামলায় সাজা ও ৭টি মামলায় আসমীরা খালাস পেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দুদকের পরিচলাক মো. বেলাল হোসেন ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।






মন্তব্য চালু নেই