মেইন ম্যেনু

মাছ খেয়ে পঙ্গু গোটা পরিবার

মাছের বিষে পক্ষাঘাতগ্রস্ত একই পরিবারের ১১ জন। ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

সোউজা পরিবার তার এক বন্ধুর কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছিল ফিশপেপার বা পটকা মাছ। যা দেখে জিভে জল এসেছিল পরিবারের লোকদের। তাই পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বসে হইচই করে নৈশভোজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছিলেন সোউজা কর্তা-গিন্নি। কিন্তু সেই আনন্দঘন মুহূর্তে বিষাদের বিষ মিশে যাবে, তা তারা ভাবতেও পারেননি।

সায়ানাইডের চেয়েও ১২০০ গুণ বেশি মারাত্মক নিউরোটক্সিন রয়েছে ফিশপেপারে। যার এক ফোঁটা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাণ কেড়ে নিতে পারে। পৃথিবীর সবচেয়ে মারাত্মক মাছের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে রয়েছে এ মাছ।

পাফার মাছ জাপানের অত্যন্ত বিরল এক ডেলিকেসি। এই মাছ রাঁধার জন্য শেফদের দুই বছরের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া পুরো করতে হয়। লাইসেন্সড শেফরাই এই মাছ রাঁধার অনুমতি পান। মাছের লিভারেই থাকে মারাত্মক নিউরোটক্সিন। সোউজা পরিবারের বৃদ্ধ মারিয়া ডো কারমো জানিয়েছেন, ‘আমরা জানতাম না যে এটা ফিশপেপার। প্রত্যেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। আমার নাতি, মেয়ে, জামাই- তারা সবাই হাসপাতালে ভর্তি। আমরা মাছটিকে টেবিলে রাখি। তারা সবাই বলছিল খুব সুস্বাদু মাছ। আমি খাইনি, কারণ সবার খাওয়ার অপেক্ষা করছিলাম।’

এক টুকরো মাছ মুখে পোরার পরই বমি শুরু করে দেন অনেকে। তারপর ধীরে ধীরে মুখ, হাত, পা- সবই আড়ষ্ট হয়ে যায়।

ক্রিস্টিয়ান সোউজা জানিয়েছেন, ‘মাছটি দেখতে খুব সুস্বাদু ছিল, তাই আমি পরিবারের বাকি সদস্যদেরও নৈশভোজের জন্য আমন্ত্রণ জানাই। মাছ ভাজার পরই সবাই খেতে শুরু করে দেয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার স্বামী হোসে অগাস্টো (৪১) প্রথমে জানান যে তিনি নিজের জিহ্বা অনুভব করতে পারছেন না। তারপর ক্রমেই তার মুখ এবং হাত অবশ হয়ে আসে।

এর পর তিনি নিজের পা-র ওপর দাঁড়াতেও অক্ষম হয়ে পড়েন। আমার দেবরেরও একই দশা হয়।’ আক্রান্ত ১১ জনের মধ্যে ৪ জন শিশু। তাদের প্রত্যেকের বয়স ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে। জানা গিয়েছে, হাসপাতালে পৌঁছানোর জন্য গাড়িতে ওঠার আগেই তারা প্যারালাইজড হয়ে যায়।

ত্যথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই