মেইন ম্যেনু

নারীসহ আটক ২৭, ৩৮টি মোটরসাইকেল জব্দ : মামলা

মাগুরায় জুয়া, অশ্লীল নৃত্যে ও মাদকের আসর গুড়িয়ে দিল পুলিশ

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নের চর কালিশংকরপুর গ্রামে অশ্লিল নৃত্য-গান, জুয়া ও মাদকের আসর বসানোর অভিযোগে নারীসহ ২৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত এ অভিযান চলে। পুলিশের উপর জুয়াড়ীরা আক্রমণ করলে ৩ পুলিশ আহত হয়। পুলিশ ৭ রাউন্ড গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় জুয়াড়ীদের ব্যবহৃত ৩৮টি মোটর সাইকেল ও জুয়ার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। জুয়ার আসরসহ আস্তানাটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় পুলিশ । পুলিশ জুয়া, মাদক, অশ্লিলতা ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে।

মাগুরা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, মহম্মদপুর উপজেলার কালিশংকরপুর গ্রামের মধুমতি নদীর দূর্গম চরাঞ্চল চর কালিশংকরপুর এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে অশ্লিল নৃত্য-গান, জুয়া ও মাদকের আসর বসিয়ে আসছিলেন। প্রায় সারা বছর জুড়ে চলে এ আসর। দূর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় আস্তানাটি উচ্ছেদ করা যাচ্ছিল না। বুধবার দিবাগত রাতে পুলিশ সুপার মো. মুনিবুর রহমানের নেতৃত্বে ডিবিসহ মহম্মদপুর ও শালিখা থানা পুলিশের কয়েকটি দল চর কালিশংকরপুর এলাকায় রাত পৌনে বারোটায় গোপনে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় ওই জায়গায় প্রায় চার শতাধিক বিভিন্ন বয়সের লোকজন টিকিট কেটে অশ্লীল নাচগান দেখছিলেন। কমপক্ষে দশটি জুয়ার কোর্টে কয়েকশ লোক জুয়া খেলছিলেন। সামনের পূর্ব পাশে চলছিল মাদকের আসর। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রথমে জুয়াড়ীরা পুলিশকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে। এ সময় ডিবি পুলিশের এসআই মুস্তাফিজুর রহমানসহ ৩পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ ৭ রাউন্ড গুলি করে। এসময় পুলিশ আস্তানার অন্যতম আয়োজক কালিশংকরপুর গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে নাজমুল ও একই গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে নান্নু মিয়াসহ ১৯ পুরুষ জুয়াড়ী ও অশ্লিল নাচের সাথে জড়িত ৮ নারীকে আটক করে। তবে মুলহোতা কবির হোসেন পালিয়ে গেছে । আটক নারীরা টাকার বিনিময়ে এখানে অশ্লীল নৃত্যে ও অসামাজিক কাজকর্মে অংশ নিতেন বলে পুলিশ জানায়।

পুলিশ এসময় জুয়াড়ীদের ব্যবহৃত ৩৮টি মোটর সাইকেল জব্দ করে। এর মধ্যে কয়েকটি চোরাই মোটর সাইকেল রয়েছে বলে জানান ডিবি ওসি এনামুল।

অভিযানে পুলিশ, জুয়ার আসরের তাবু, পাঁচশতাধিক প্লাস্টিকের চেয়ারসহ নানা আসবাবপত্র, খাবারের দোকান এবং টিকিট কাউন্টারসহ কয়েকটি স্থাপনা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের এসআই সালাউদ্দিন জুয়া ও অশ্লীল নৃত্যের আসর বসানো ও তাতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আটক ২৭ জনের নামে ও অজ্ঞাত আরও ৫০জনের বিরুদ্ধে মহম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কালিশংকরপুর গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন তার ছেলে নাজমুল ও একই গ্রামের নান্নু দীর্ষদিন ধরে এখানে জুয়া ও অশ্লীল নৃত্যের আসর বসিয়ে মোটা অংকের টাকা আয় করছিল। জুয়াকে ঘিরে তারা নানা অপরাধের একটি চক্র তৈরী করেছিল। এদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা বিচারধীন রয়েছে। তাদের অত্যাচারে অনেকেই এলাকাছাড়া হয়েছেন।






মন্তব্য চালু নেই