মেইন ম্যেনু

মস্তিষ্কের ‘জিপিএস’ বের করে নোবেল জয়

আমরা কোথায় আছি তা আমাদের মস্তিষ্ক কীভা্বে বুঝতে পারে? কোথায় যেতে হবে সে নির্দেশনাই বা কীভাবে দেয়? এসব প্রশ্নের মীমাংসা করে চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তিন বিজ্ঞানী।

সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইন্সটিটিউট সোমবার চিকিৎসা বিজ্ঞানে চলতি বছরের নোবেল বিজয়ী এই তিন গবেষকের নাম ঘোষণা করে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জাননো হয়।

এই তিনজন হলেন- যুক্তরাজ্যের গবেষক জন ও’কিফ এবং নরওয়ের বিজ্ঞানী দম্পতি মে-ব্রিট মোসার ও এডওয়ার্ড মোসার। তারা তিনজনই স্নায়ুবিজ্ঞানী।

এক বিবৃতিতে নোবেল কমিটি বলেছে, “শত শত বছর ধরে দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা যে সমস্যার উত্তর খুঁজছেন তারই সমাধান করেছেন এই তিনজন।”

আলঝেইমার রোগীরা কেন তাদের চারপাশের পরিবেশ চিনতে পারেন না- তা বুঝতে এই তিন বিজ্ঞানীর গবেষণা পথ দেখাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে নোবেল কমিটি।

১৯৩৯ সালে নিউ ইয়র্কে জন্ম নেয়া জন ও’কিফ বর্তমানে কাজ করছেন লন্ডন ইউনিভার্সিটি কলেজে। তিনি তার গবেষণার প্রথম অংশটি শেষ করেন সেই ১৯৭১ সালে।

ওই গবেষণায় তিনি দেখতে পান, ইঁদুর যখন ঘরের এক অংশে থাকে, তখন তার মস্তিষ্কের একটি অংশ উদ্দীপ্ত হয়। আর ঘরের অন্য কোথও থাকলে উদ্দীপ্ত হয় মস্তিষ্কের ভিন্ন একটি অংশ।

এ থেকে ও’কিফের ধারণা হয়- আমাদের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে মস্তিষ্কে একটি মানচিত্র তৈরি হয়, যা আমাদের চলাফেরায়ও সাহায্য করে। তিনি এর নাম দেন ‘স্পেইস সেল’।

এরপর ২০০৫ সালে গবেষক দম্পতি মে-ব্রিট ও এডওয়ার্ড মস্তিষ্কের অন্য একটি অংশ খুঁজে বের করেন, যা অনেকটা সমুদ্রগামী জাহাজের মানচিত্রের মতো কাজ করে।

এই অংশটি আমাদের আশেপাশের বিভিন্ন বস্তু ও সেগুলোর দূরত্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণা দেয়, যার ফলে কোন দিকে কীভাবে যেতে হবে তা আমরা বুঝতে পারি। দুই বিজ্ঞানী এর নাম দেন ‘গ্রিড সেল’।

নোবেল কমিটি বলছে, এই স্পেইস ও গ্রিড সেল যৌথভাবে আমাদের মস্তিষ্কে একটি ‘পজিশনিং সিস্টেম’ বা ‘জিপিএস’ হিসাবে কাজ করে। আলঝেইমার বা স্মৃতিলোপ পাওয়ার মতো রোগের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের এই জিপিএস ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে রোগী তার আশেপাশের পরিবেশ চিনতে পারেন না।

মে-ব্রিট জন্মগ্রহণ করেনে ১৯৬৩ সালে নরওয়েতে। আর এডওয়ার্ড জন্মেছেন তার ঠিক আগের বছর। তারা দুজনেই কাজ করছেন নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে।

নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য বাবদ ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনারের মধ্যে অর্ধেক পাবেন অধ্যাপক ও’কিফ। বাকি অর্ধেক ভাগ করে নেবেন মে-ব্রিট ও এডওয়ার্ড দম্পতি।

আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।






মন্তব্য চালু নেই