মেইন ম্যেনু

মসুলের কয়েকটি গ্রাম ‘পুনুরুদ্ধার’ করেছে ইরাকি বাহিনী

বিমান হামলা ও কামানের গোলাবর্ষণ করে পশ্চিম মসুলে আইএসের অবস্থানগুলোর দিকে এগিয়ে যায় ইরাকি বাহিনীর শত শত সামরিক যান। রোববার ভোরে চালানো এ অভিযানে আইএস-এর হাত থেকে কয়েকটি গ্রাম উদ্ধার করেছে।

এর আগে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি মুসুলের পশ্চিমাংসে আইএস-এর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত কয়েক মাসে চলা সরকারি বাহিনী ও তার জোটের যৌথ আক্রমণের ফলে মসুলের পূর্বাংশ থেকে পিছু হটে আইএস। কিন্তু পশ্চিমাংশের রাস্তা অপ্রশস্ত হওয়ার সুযোগ নিয়ে সেখানে সর্বশেষ ঘাঁটি গেড়েছিল এই সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন। সর্বশেষ এ শক্ত অবস্থান থেকে আইএসকে হটাতে ইরাকের সরকারি বাহিনী পুরো শক্তি নিয়ে নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযান শুরু করার আগে থেকে পশ্চিম মসুলে বিমান হামলা শুরু করে আইএস-বিরোধী যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট বাহিনী। কয়েকদিন বিমান হামলা চালানোর পর স্থল অভিযান শুরু করে ইরাকি বাহিনী।

ইরাকি বাহিনীর ইমার্জেন্সি রেসপন্স ডিভিশন ও পুলিশের বিশেষ বাহিনীগুলো অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে। পশ্চিম মসুলের দক্ষিণে আইএসের দখলে থাকা গ্রামগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। ওই এলাকার উঁচু ভূমিগুলোর নিয়ন্ত্রণও নিতে চায় তারা, কারণ সেগুলো নিয়ন্ত্রণে এলে মসুল বিমানবন্দর ও শহরের দক্ষিণ প্রান্ত তাদের নজরদারির মধ্যে চলে আসবে।

কয়েকশ’ সাঁজোয়া যান ও হেলিকপ্টার গানশিপ নিয়ে ইরাকি বাহিনীর কয়েক হাজার সেনা প্রথম দিনেই পশ্চিম মসুলের দক্ষিণে অবস্থিত মসুল বিমানবন্দরে হামলা চালানোর মতো দূরত্বে পৌঁছে যায়। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুলামির ইয়ারাল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরাকি বাহিনীর র‌্যাপিড রেসপন্স ইউনিটগুলো মসুল বিমানবন্দরের দক্ষিণে আথবাহ ও আল লাজ্জাগাহ গ্রাম দুটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে।

স্পেশাল ফোর্সের ইউনিটগুলো ওই দুটি গ্রামে নিরাপদে আইএসের বেশ কয়েকটি গাড়িবোমা নিষ্ক্রিয় করেছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর সঙ্গে থাকা বিবিসির প্রতিনিধি। গাড়িবোমা ছাড়াও জঙ্গিরা এখানে সিম কার্ড, কাপড়, ইনস্ট্যান্ট কফির প্যাকেট ও অস্ত্রশস্ত্র ফেলে গেছে। তবে গ্রাম দুটিতে বেসামরিক মানুষজনের কোনো চিহ্ন নেই।

সরকারি বাহিনীর দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করলেও গ্রাম দুটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া শুরু করার পর তাদের গতি কমে যায়। কিন্তু তখনও ভারী মেশিনগানের গুলি, রকেট ও কামান থেকে গোলাবর্ষণ অব্যাহত ছিল। গত প্রায় তিন বছর পর এই প্রথম পশ্চিম মসুলের দক্ষিণে আবার ইরাকের পতাকা উড়ল।

অভিযান শুরুর আগে সরকারি বাহিনীর আসন্ন অভিযানের বিষয়ে পশ্চিম মসুলের বেসামরিক বাসিন্দাদের সতর্ক করতে বিমান থেকে হাজার হাজার লিফলেট ছাড়া হয়। শহরটির এই অংশে ছয় লাখ ৫০ হাজার বাসিন্দা রয়েছে বলে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে। দুপক্ষের লড়াইয়ের মাঝে শহরে আটকা পড়তে যাওয়া বেসামরিকদের কথা ভেবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল জাতিসংঘ।

ইরাকে আইএসের শেষ শক্ত ঘাঁটি ছিল মসুল। মাঝ বরাবার বয়ে যাওয়া তাইগ্রিস নদী শহরটিকে পূর্ব ও পশ্চিম অংশে বিভক্ত করে রেখেছে। সরকারি বাহিনীগুলো গত মাসে পূর্ব মসুল পুনরুদ্ধার করেছে। কিন্তু নদীর ওপরের সবগুলো সেতু ধ্বংস করে দেওয়ায় পূর্ব মসুল থেকে সরাসরি পশ্চিমে অভিযান শুরু করা যায়নি।

সরকারি বাহিনীর অভিযানের মুখে টিকতে না পেরে আইএসের জঙ্গিরা পশ্চিম মসুলে যেয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে আগে থেকেই জঙ্গিগোষ্ঠীটির শক্ত অবস্থান ছিল, পূর্ব পাশের জঙ্গিরা যোগ দেওয়ায় তাদের শক্তি আরও সংহত হয়েছে। তাই পশ্চিম মসুল মুক্ত করতে ইরাকি বাহিনীগুলোকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্টেফেন টাউনসেন্ড রোববার এক বিবৃতিতে বলেছেন, “মসুলের লড়াই বিশ্বের যে কোনো বাহিনীর জন্যই কঠিন হবে।” সূত্র: বিবিসি।






মন্তব্য চালু নেই