মেইন ম্যেনু

কিডনি বিকলের ঝুকিতে জনসাধারন

ভারত থেকে আনা গবাদিপশুর শরীরে প্রয়োগ করা হচ্ছে ডাইক্লোফেনাক

সাতক্ষীরা সীমান্তে খাটালে রাখা গবাদিপশুর শরীরে নির্বিচারে প্রয়োগ করা হচ্ছে আমদানী নিষিদ্ধ ডাইক্লোফেনাক জাতীয় পেইন কিলার। মানব শরীরে জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এ ঔষদ প্রয়োগ করা হচ্ছে প্রতিটি গরুর বিভিন্ন অঙ্গে । অশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত এক শ্রেনীর ডাক্তার জমজমাট এ ব্যবসা চালালেও প্রতিরোধে কারো উদ্যোগ নেই।
সাতক্ষীরা সীমান্তে ৯ টি গরুর খাটাল রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সদর উপজেলার তলুইগাছা,কুশখালী,বৈকারী,ঘোনা, গাজীপুর,ভোমরা,ৃপদ্মশাখরা অন্যতম। এ সমস্ত খাটালে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ হাজার গরু উঠানো হয়। ত্রিশ থেকে চল্লিশ কিলোমিটার পর্যন্ত হাটিয়ে এ সমস্ত গরু খাটালে তোলা হয় বলে গরুগুলোর পাঁসহ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ফুলে যায়। গরুগুলিও হয়ে পড়ে ক্লান্ত-শ্রান্ত। তাদেরকে খদ্দেরদের সামনে তরতাজা দেখাতে ব্যথা নাশক ঔষদ প্রয়োগ করা হয়। তবে ব্যথানাশক ঔষদের মধ্যে বেশীর ভাগই প্রয়োগ করা হয় ডাইক্লোফেনাক পেইন কিলার। স্থানীয় ও জেলার বাইরে থেকে আসা অশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত এক শ্রেনীর ডাক্তাররা নির্বিচারে ও নির্দয়ভাবে সেগুলো প্রয়োগ করেন। এ নিয়ে খাটালগুলিতে গড়ে তোলা হয়েছে জমজমাট একটি প্রতারনা চক্র। এচক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। ২০ থেকে ৫০ টাকায় ইনজেকশান পুশ করা হয়। কোন প্রকার প্রশিক্ষন ছাড়াই গবাদি পশুর যেখানে-সেখানে ইনজেকশান পুশ করা হয় নির্দয়ভাবে। গবাদিপশুর লেজেও প্রয়োগ করা হয় ইনজেকশান। তথাকথিত এসব ডাক্তাররা গবাদি পশুর এ্যালার্জী,গ্যাসের জন্যও ইনজেকশান প্রয়োগ করেন! বৈকারী খাটালে দেখা হয় যশোরের কেশবপুর থেকে আগত ডাক্তার জুলফিকার আলী। প্রশিক্ষনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে মৃদু হেসে বলেন, অনেকেই করে,তাই আমিও গবাদি পশুর চিকিৎসা করি। অল্প এগুতেই দেখা মিলল আরেক ডাক্তারের,যার এক হাতে ছাতা,অন্য হাতে ঔষদের ব্যাগ। ব্যাগের মধ্যে কি কি ঔষদ আছে,জিজ্ঞাসা করতেই বললেন,এখানে যত ডাক্তার আছে,সবাই পিন নাশ ( ব্যথা নাশক) ব্যবহার করে। আমি মিথ্যা কথা ক’ব না। দৈনিক পাঁচ/সাতটি ডাইক্লোফেন ব্যবহার করি। হঠাৎ এ প্রতিবেদকের চোখে পড়ল,দু’টি গরুর পেছনে পেছনে ব্যাগ হাতে লুঙ্গি পরা এক ডাক্তার ছুটছেন। প্রায় আধা কিলোমিটার দুরে যেয়ে গরু দু’টি বেধে নির্বিচারে ডাইক্লোফেনাক ইনজেকশান দিচ্ছেন আব্দুর রউফ নামের বৈকারী গ্রামের ওই ডাক্তার। এমনকি গরুর লেজেও ইনজেকশান পুশ করলেন তিনি। এভাবে সীমান্ত এলাকার সকল খাটালে ভারত থেকে আসা গবাদি পশুগুলোর শরীরে ব্যথা নাশক ইনজেকশানের নামে আমদানী নিষিদ্ধ ডাইক্লোফেনাক ব্যবহার করা হচ্ছে নির্বিচারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত গবাদি পশুর চিকিৎসক ডাঃ আমিনুর রহমান জানান, এভাবে চলতে থাকলে পুরো জাতি একদিন ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে।
ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ঔষদ প্রয়োগকৃত গবাদি পশুর মাংস খেলে কিডনী নষ্ট হয়ে যাবে বলে সেল ফোনে জানান সাতক্ষীরা জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শিশির কুমার বিশ্বাস। তিনি আরো জানান,গবাদি পশুর শরীরে ডাইক্লোফেনাক ঔষদ প্রয়োগের ফলে মরে যাওয়া গরুর মাংস খেয়ে অধিকাংশ শকুন মারা গেছে। তাই এদেরকে এখন তেমন চোখে পড়ে না।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)মোঃ মহসিন আলী এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত জন গুরুত্বপুর্ন বিষয়। জেলা প্রশাসন অবিলম্বে এ প্রতারক চক্রকে উৎখাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।






মন্তব্য চালু নেই