মেইন ম্যেনু

বেনাপোল দিয়ে সোনা পাচার থেমে নেই

বালাদেশের বিজিবি ও ভারতের বিএসএফ’র তৎপরতার পরও থেমে নেই বেনাপোল দিয়ে সোনা পাচার। বেনাপোল চেকপোস্টসহ সীমান্তের বিভিন্ন অবৈধ পকেট ঘাট দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে সোনা পাচার করছে সংঘবদ্ধ চোরাচালান সিন্ডিকেটগুলো। সোনা পাচারে দেশের বৃহত্তম রুট গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বেনাপোল চেকপোস্ট, পুটখালী, দৌলতপুর, গাতীপাড়া, সাদীপুর ও রঘুনাথপুর সীমান্ত। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার সোনা পাচার হচ্ছে এসব সীমান্ত দিয়ে। সীমান্তের সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল চেকপোস্টসহ সীমান্তের অবৈধ পকেট ঘাটগুলো ভারতে সোনা পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সোনা পাচারে বহন কারী হিসেবে শুধু পুরুষই নয়, নারী ও শিশুরাও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র জানায়, গত সাত মাসে এ সীমান্ত পথে ভারতে পাচারের সময় ১৮টি সোনার চালান আটক হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি আটক করেছে বিজিবি সদস্যরা। আর ৯টি চালান আটক করেছে বিএসএফ সদস্যরা। আর বাকি একটি চালান আটক হয় পুলিশের হাতে। তাও আবার সেখান থেকে ১৫টি সোনার বার আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে পোর্ট থানা পুলিশের সাবেক ওসি কাইয়ুম আলী সরদার ও এএসআই রফিককে পাঁচ মাস আগে যশোর পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। বিভিন্ন সময়ে আটক সোনা পাচারে বহন কারীরা বিজিবি ও পুলিশের কাছে রাঘব-বোয়ালদের নাম প্রকাশ করলেও রহস্যজনক কারণে তারা থাকছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও করিডোর থাকায় চোরাচালানিরা সোনা পাচারে এ পথ ব্যবহার করছে। বেনাপোল সীমান্ত পথে ভারতে পাচারের সময় গত ৭ মাসে আটক সোনা চালানের মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে- গত ২০ জুন বাংলাদেশ থেকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের সোনার বার পাচারের সময় ভারতীয় কাস্টমস কর্মকর্তারা সোনাসহ ৪ জন ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীকে আটক করে। ১৬ মে বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকা থেকে পাঁচটি সোনার বারসহ জসিম ও উত্তম নামে দুই পাচারকারীকে আটক করে বিজিবি। গত ১৮ জুন বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ৩৬ পিস সোনার বার ভারতে পাচারের সময় অপু নামে বাংলাদেশি সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীকে সোনাসহ আটক করে বিএসএফ। ২৬ মে বেনাপোলের পুটখালী সীমান্ত পথে ভারতে পাচারের সময় এক কেজি একশ গ্রাম ওজনের ১০টি সোনার বারসহ মিঠুন নামে স্থানীয় এক পাচারকারীকে আটক করে বিজিবি। ১৪ মে বেনাপোলের পুটখালী সীমান্ত থেকে ২০টি সোনার বারসহ শাহ আলম নামে একজনকে আটক করে বিজিবি। ২৪ এপ্রিল বেনাপোলের ঘিবা সীমান্ত পথে ভারতে পাচারের সময় পুতুল নামে ভারতীয় এক নারীকে পাঁচটি সোনার বারসহ আটক করে বিজিবি। ১২ এপ্রিল চেকপোস্ট নো-ম্যান্সল্যান্ড থেকে এক কেজি সোনার বারসহ টাক কামাল নামে এক বাংলাদেশি সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীকে আটক করে বিএসএফ। ৫ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল চেকপোস্ট নো-ম্যান্সল্যান্ড থেকে গোপাল হালদার নামে এক ভারতীয় রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীকে ২২টি সোনার বারসহ আটক করে বিএসএফ সদস্যরা। এরপরই ২১ পিচ সোনার বারসহ এক কুলিকে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত থেকে আটক করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। ১৪ জানুয়ারি বেনাপোলের কাগজপুকুর এলাকা থেকে ৩৬টি সোনার বারসহ মোমিন নামে এক বহনকারীকে আটক করে পুলিশ। গত ২৫ জানুয়ারি বেনাপোল চেকপোস্ট নো-ম্যান্সল্যান্ড এলাকা থেকে ২০টি সোনার বারসহ আলী কদর (৩২) নামে এক ভারতীয় লেবারকে আটক করেছিল বিএসএফ। ১৯জানুয়ারি বনগাঁর হরিদাসপুর সীমান্তে সাইকেলসহ এক যুবককে আটক করে বিএসএফ। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে সাইকেল হাঁটিয়ে নিয়ে ওই যুবক ভারতে ঢুকেছিল। বিএসএফ’র সন্দেহ হওয়ায় তল্লাশিতে প্রথমে কিছুই মেলেনি। পরে সাইকেলের টায়ারে হাত পড়তেই বেরিয়ে আসে সোনার বার। কোটি টাকা মূল্যের ২৮টি সোনার বার অর্থাৎ দুই কেজি ৮শ’ গ্রাম সোনা উদ্ধার হয় সাইকেলের টায়ারের ভেতর থেকেই। ডিসেম্বরে বনগাঁর হরিদাসপুর সীমান্তে ৩২ কেজি রূপা ও বেশ কিছু সোনা উদ্ধার করে বিএসএফ। এছাড়া ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর পুটখালী সীমান্ত থেকে কামরুল ইসলাম নামে এক যুবককে ১২টি সোনার বারসহ আটক করে বিজিবি। ২১ নভেম্বর পুটখালী সীমান্ত থেকে ১৫টি সোনার বারসহ তুহিন নামে এক পাচারকারীকে আটক করে বিজিবি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা মাঝে মধ্যে কিছু কিছু চালান আটক করলেও বিভিন্ন সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে পুলিশ সোনা আটক থেকে বিরত থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর ২৬ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মতিউর রহমান বলেন, ‘সোনা পাচার হচ্ছে, আমরা ধরছি। আরও কেউ পাচার করছে এমন তথ্য থাকলে আমাদের জানালে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বিজিবির একটি সূত্র জানায়, ভারতে সোনার চাহিদা বেশি থাকায় আন্তর্জাতিক সোনা পাচারকারী চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশকে সোনা পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে। সূত্রটি জানান, বিদেশ থেকে বিমান পথে সোনা আসার পর শুল্ক কর্মকর্তাদের নজর এড়িয়ে বেশ কিছু চালান দেশের ভেতরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সীমান্তের বৈধ ও অবৈধপথে বিভিন্ন ভাবে ভারতে সোনা পাচার হচ্ছে। বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, ‘সোনা পাচারের দু-একটি খবর আমরাও জানতে পারি। তাদের আটকের চেষ্টাও করি তবে নাগালে না পাওয়ায় অভিযান সফল হয়না।’ পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রতিদিন তাদের কাছে সোনা পাচারের তথ্য আসে। কিন্তু সোনার চালান আটক করলে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। এ কারণে সোনা আটকে পুলিশের আগ্রহ কম। তবে সরকার যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের নিয়ে বেনাপোলে একটি টাস্কফোর্স কেন্দ্র স্থাপন করে তাহলে সোনা আটকে পুলিশের কোনো ভয় বা সঙ্কোচ থাকবে না। বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, প্রয়ই সীমান্ত থেকে উদ্ধার হচ্ছে সোনা। তাদের মতে, যে পরিমাণ সোনা আটক হচ্ছে তার পাচার হয়ে আসা সোনার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। সীমান্তের সূত্রগুলো জানায়, বেনাপোল চেকপোস্টসহ সীমান্তের বিভিন্ন অবৈধ পকেট ঘাট দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে সোনা পাচার করছে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটগুলো। সোনা পাচারে দেশের বৃহত্তম রুটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বেনাপোল চেকপোস্ট, পুটখালী, দৌলতপুর. গাতীপাড়া, সাদীপুর ও ধান্যখোলা সীমান্ত। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার সোনা পাচার হচ্ছে এসব সীমান্ত দিয়ে। সীমান্তের পকেট ঘাট ছাড়াও পাসপোর্টধারী যাত্রীরা সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে হর-হামেশাই পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে সোনার বড় বড় চালান। এছাড়া, সিএন্ডএফ কর্মচারি, বর্ডার গার্ড, বিভিন্ন পরিবহণ কাউন্টার ও মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে পাচার হচ্ছে সোনার চালান। তিনদিনের ব্যবধানে দু’দেশে দুটি সোনার চালান আটকের ঘটনায় প্রমাণ করে সোনা পাচার সিন্ডিকেটগুলো কতটা বেপরোয়া।

## বেনাপোলে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ
বেনাপোলে অভিযান চালিয়ে ১৬ লাখ ৩৪ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চোরাই পথে এ সব পণ্য বাংলাদেশে আনার সময় বিজিবি সদস্যরা শুক্রবার এগুলো জব্দ করেন। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে- ২ লাখ ২ হাজার টাকার ভারতীয় গাড়ির যন্ত্রাংশ, ৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকার থ্রি-পিস, ৭ লাখ টাকার তৈরি পোশাক-প্যান্ট ও গেঞ্জি, ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭শ’ টাকার কসমেটিকস ও ইমিটেশন, ৪২ হাজার টাকার কিসমিস, ৩৬ হাজার টাকার পটকাবাজি এবং ৫০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র ২৬ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মোহাম্মদ লিয়াকত আলী সাংবাদিকদের জানান, বেনাপোলের ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন আমড়াখালী, সাদিপুর, শালবাগান এবং এমপির মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ সব পণ্য জব্দ করা হয়েছে । তিনি জানান, জব্দ করা পণ্য যশোর ও বেনাপোল শুল্ক গুদামে এবং মাদকদ্রব্য বেনাপোল পোর্ট থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই