মেইন ম্যেনু

বেনাপোল চেকপোষ্টে সাড়ে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দু’টি টার্মিনাল উদ্বোধন হলেও কার্যক্রম বন্ধ

জসিম উদ্দিন, শার্শা ( যশোর ) প্রতিনিধি ॥ দেশের বৃহহত্তর স্থলবন্দর বেনাপোলে প্রায় সাড়ে ৯কোটি টাকা ব্যয়ে দু’টি আধুনিক মানের টার্মিনাল নির্মিত হলেও তার কার্যক্রম না থাকায় পূর্বের ন্যায় প্রতিনিয়ত যানজটের ভয়াবহ রুপ নিয়েছে এখানে। বর্তমানে সরকারের রাজস্ব আদায় না হয়ে এই বন্দরে বন্দর কর্মকর্তারা তাদের অফিস হিসেবে ব্যবহার করছে । জানা গেছে, স্থল বন্দর বেনাপোল দেশের অন্যতম অতি ব্যস্ততম এলাকা হওয়া সত্বেও রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকা বিভিন্ন পরিবহনের বাস ও ছোট ছোট যানবাহনের কারনে পথচারীদের চলাচলে দারুন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যার অবসান ঘটাতে ও যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে বর্তমান সরকার ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে বেনাপোল বন্দরে আর্ন্তর্জাতিক মানের দু’টি বাস টার্মিনাল নির্মানের কার্যক্রম শুরু করে। আর্ন্তজাতিক মানের দু’টি টার্মিনাল চালু করা হলে এখানে চির দিনের জন্য যানযট নিরসন ও মানুষের দুর্ভোগ অনেকটা কমবে। পাশাপাশি সরকারের মোটা অংকের রাজস্ব আদায় হবে এই টার্মিনাল থেকে। আরো জানা যায়, সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বেনাপোল চেকপোষ্ট রোড ইমিগ্রেশনের পূর্ব পাশে ৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যায়ে একটি টার্মিনাল নির্মিত হলেও টার্মিনালটি অলস পড়ে রয়েছে। আর আগের মতো দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এখানকার সাধারন মানুষ, ছোট ছোট যানবাহন ও আমদানি-রফতানি কারক ব্যবসায়ীদের। ২০১৩ সালের ২৩ আগষ্ট নৌ ও পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান, বেনাপোল চেকপোষ্টে ইমিগ্রেশনের পাশে নির্মিত টার্মিনালটি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর হতে আজও পর্যন্ত টার্মিনালটি চালু হয়নি। বেনাপোল চেকপোষ্ট থেকে বেনাপোল বাজার মাত্র দেড় কিলোমিটার। এর মাঝখানে অবস্থিত দেশের বৃহৎ স্থল বন্দর। প্রতিদিন এই বন্দর থেকে ৩/৪ শ’ ট্রাক আমদানি পন্য নিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে যাচ্ছে। অপরদিকে, প্রতিদিন ১৫০/২০০ ট্রাক পন্য রপ্তানি হয় । এত স্বল্প জায়গায় বিভিন্ন পরিবহনের বাস, লোকাল বাস, ট্রাক, ছোট ছোট যানবাহন থাকায় যানযট লেগেই থাকে সরকারের রাজস্ব আদায়ের অন্যতম এই বন্দরে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে ভারত থেকে আগত যাত্রীদের মাত্র এই থেকে দেড় কিলোমিটার পথ যেতে চরম যানজটের কারনে অনেক সময় তাদের ল্যাগেজ নিয়ে ১ থেকে ২ ঘন্টা সময় লাগে। অথচ পায়ে হেটে যেতে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। অপরদিকে, আর্ন্তজাতিক বাস টার্মিনালের পাশে বেনাপোল স্থল বন্দর নামে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যায়ে অপর একটি বাস টার্মিনাল নির্মিত হয়েছে ইতিমধ্যে। এখন বেনাপোল বন্দরের এই জোড়া বাস টার্মিনাল নির্মিত হলেও এর কোন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না । বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্প ও কাষ্টমস অফিসের সামনে ঢাকা, খুলনা, চট্রগ্রাম, বরিশাল, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাস অধিকাংশ সময় দাঁড়িয়ে থাকে। আর এই বন্দর থেকে আমদানি পন্য নিয়ে ট্রাক বের হলে দেখা দেয় ভয়াবহ যানজটের। কোন কোন সময় তীব্র যানজটের কারনে বন্দর থেকে ট্রাক বের হতে দুই দিন সময় লেগে যায়। আর ভারত থেকে আমদানি পন্য নিয়ে মাল আনলোড করতে না পেরে অলস সময় পার করে অধিকাংশ ট্রাক ড্রাইভাররা। প্রতিদিন তাদের ভাড়া ছাড়া মাল আনলোড না হওয়া পর্যন্ত ট্রাক প্রতি গুনতে হয় ২/৩ হাজার টাকা। এখানকার সচেতন সুধী সমাজের প্রশ্ন যদি টার্মিনাল কাজে না লাগে তবে কেন এত টাকা ব্যয়ে দু’টি টার্মিনাল নির্মাণ করা হলো। সরকার বেনাপোল থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও বেনাপোল বন্দরে লাগেনি কোন উন্নয়নের ছোয়া এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৫ ই জানুয়ারী বেনাপোল চেকপোষ্ট বাস টার্মিলাল দু’টির নির্মান কাজ শুরু হয়। চালু না হওয়া দু’টি টার্মিনালে বর্তমানে মদ, গাজা, আফিন ও হিরোইন সেবিদের আস্তানায় পরিনত হয়েছে। আর আর্ন্তজাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল এর অফিসে অতি আরামে অফিস করছে বন্দর কর্মকর্তারা।






মন্তব্য চালু নেই