মেইন ম্যেনু

বেনাপোল কাষ্টমসে ১১মাসে সাড়ে ২২শ’ কোটি টাকা রাজস্ব আয়

জসিম উদ্দিন, বেনাপোল ॥ বেনাপোল বন্দর গোডাউন থেকে পণ্যচুরি কাষ্টম ও বন্দরে কর্মরত কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা -কর্মচারিসহ সিএন্ডএফ মালিকদের কারসাজি, ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতি কমে গেছে বহুগুন। এর ফলে দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বানিজ্যে গতি ফিরতে শুরু করেছে। চলতি অর্থ বছরের ১মাস বাকি থাকতেই গত ১১মাসে বেনাপোল কাষ্টম হাউস থেকে সরকারের ২ হাজার ২শ’ ৫৬ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। এবার টার্গেট অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের আশা করছেন কাষ্টমস কর্তপক্ষ। গত ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট ছিল ২ হাজার ৬শ’ ২০কোটি টাকা। এসময়ে সরকার বেনাপোল কাষ্টস হাউস থেকে সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়। চলতি ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে ২ হাজার ৩’শ ৫০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের টার্গেট দিয়েছে রাজস্ব বোর্ড এনবিআর। যার মধ্যে ১১মাসে আদায় হয়েছে ২ হাজার ২শ’ ৫৬ কোটি টাকা। বেনাপোল স্থলবন্দর শুল্কভবনে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ৪০ কোটি ১১ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত বেনাপোল শুল্কভবনে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ২ হাজার ৩৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ হাজার ৭৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। গত তিন মাসে বন্দর দিয়ে উচ্চ শুল্কের পণ্য বেশি আমদানি হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বড় আমদানিকারকরাও বেনাপোল বন্দর ব্যবহারে পুনরায় আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আর এ কারণেই রাজস্ব আহরণ বেড়েছে বলে রাজস্ব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কাস্টম সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বেনাপোল শুল্ক ভবনে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের জুলাইয়ে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করেন ১শ’ ৮৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। আদায় হয় ২শ’ ৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগস্টে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১শ’ ৯৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আদায় হয় ১শ’৩৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বরে ১শ’ ৮৩ কোটি ১৬ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ২শ’ ১৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অক্টোবরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১শ’ ৯৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। আদায় হয় ১শ’ ৬৮ কোটি ৫ লাখ টাকা। নভেম্বরে ১শ’ ৮৭ কোটি ৯০ লাখ টাকার লক্ষ্য মাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ১শ’ ৬১ কোটি ১০ লাখ টাকা। ডিসেম্বরে লক্ষ্য মাত্রা ছিল ১শ’ ৮৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা,আদায় হয় ১শ’ ৪৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এ ছাড়া চলতি জানুয়ারি মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ শ’ ৯৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, আদায় হয় ১ শ’ ৯১ কোটি ১ লাখ টাকা। ফেব্র“য়ারিতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ শ’ ৮৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। আদায় হয় ২ শ’ ৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। মার্চে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ শ’ ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা । আদায় হয় ২ শ’ ৪৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং এপ্রিলে ১ শ’ ৮৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ২ শ’ ৬১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। বেনাপোল শুল্কভবনে যুগ্ম কমিশনার-১ ফাইজুর রহমান বলেন, গত তিন মাসে উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য গাড়ির চেসিস বেশি আমদানি হয়েছে। পাশাপাশি বড় আমদানিকারকরা বেনাপোল বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এ ছাড়া আমাদের বেশ কিছু অমিমাংসিত ব্যাংক গ্যারান্টি পড়ে ছিল সেগুলোও নিষ্পত্তি হয়েছে। যে কারণে লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। ১১মাসে আদায় হয় ২হাজার ২শ’ ৫৬কোটি টাকা। বাংলাদেশ-ভারতের চেম্বার অব কমার্সের উপ-কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমান জানান, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়েই সম্পন্ন হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সর্ববৃহৎ অংশ। সরকার বছরে পত্যাক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ৩ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছে এই বন্দর থেকে। তবে এ বন্দরের অবকাঠামো ও পরিকাঠামোগত বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা নিরসন করে কার্য্যক্রমকে আরো গতিশীল করলে বাড়বে রাজস্ব আয়। অনেক উদ্যোগ ফাইলবন্দি হয়ে থাকায় জটিলতা বাড়ছে। দীর্ঘদিনের বিরাজমান সমস্যা গুলোর কারণে ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা নিত্যদিন হয়রানি ও নানা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এ ছাড়া বন্দর থেকে অব্যাহত পণ্য চুরির ঘটনায় অনেক আমদানিকারক এ বন্দর ছেড়ে অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছেন। বন্দর কর্তৃপক্ষ পণ্যচুরি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও তা বার বার ব্যার্থ হচ্ছে। চিটাগাং বন্দরের ন্যায় বেনাপোল বন্দরে আর্মি নিয়োগ করলে আমদানি-রফতানি বানিজ্যে প্রসার ঘটবে। বাড়বে রাজস্ব ঘুচবে অনেক বেতকারত্ব। দেশে শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিপ্লব ঘটবে। সরকার পাবে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা। এ ব্যাপারে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ্ব মফিজুর রহমান সজন বলেন, বেনাপোল বন্দরটি বার বার হরতাল, অবরোধ, ভারতের লিংক সমস্যা আর বন্ধের কবলে পড়ে টার্মিনালসহ বন্দরের অভ্যান্তরে পণ্যজট দেখা দেয়। এ সব সমস্যার কারণে অনেক আমদানিকারক এ বন্দর ছেড়ে অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছেন। কতিপয় অসাধু কাষ্টম ও বন্দর কতৃপক্ষের খামখেয়ালিপনা ও অসহযোগিতার করনে এখনও রাজস্ব আয় বাধাগ্রস্ত হচেছ।






মন্তব্য চালু নেই