মেইন ম্যেনু

বুলগেরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বিবাহ প্রথা

নর-নারীর মধ্যে বিবাহ প্রথা অনেক প্রাচীন। তবু মানব সভ্যতার সূচনা লগ্ন থেকে এই প্রথার উদ্ভব না হলেও ধীরে ধীরে কালের আবর্তে বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিবাহ প্রথা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই বিবাহ প্রথা ভিন্ন ভিন্ন কায়দায় উদযাপন করা হয়। কোথাও ধর্মীয় রীতি মোতাবেক আবার কোথাও লোকজ রীতি অনুযায়ী। যেমন এশিয়ার কয়েকটি দেশ ছাড়া বেশিরভাগ দেশেই ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে হয়। কিন্তু আমেরিকা মহাদেশ, আফ্রিকা মহাদেশের অনেক দেশেই বিয়ে মানে দুইটি ভিন্ন ভিন্ন গোত্রের মেলবন্ধন ও লোকজ রীতির সম্মিলন।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বুলগেরিয়া ইতিহাস এবং ঐতিহ্য চর্চায় অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে দীর্ঘদিন ধরেই। দেশটির একদিকে রোমান সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ, অন্যদিকে সার্বিয়া, মেসেডোনিয়া, গ্রীস এবং তুরস্কের মতো দেশগুলো অবস্থিত। অর্থাৎ প্রকৃতিগত ভাবেই বুলগেরিয়া হাজারো বছরের ঐতিহ্যের কোলে বসে আছে। সম্প্রতি বুলগেরিয়ার শতাধিক মানুষ তাদের পেছনের ফেলে আসার বিবাহ প্রথার ঐতিহ্য পালন করতে আয়োজন করেছিল এক ব্যাতিক্রমী অনুষ্ঠানের। সেই বিবাহ অনুষ্ঠানটি করা হয়েছিল ১৭শতকে অনুষ্ঠিত বুলগেরিয়ার তৎকালীন বিবাহ প্রথা অনুযায়ী।

বুলগেরিয়ার প্রাচীন রীতি অনুযায়ী নববধূ বিয়ের দিনের আগে তাদের জন্য নির্ধারিত বিয়ের পোশাক পরতে পারে না। কারণ, দেশটির প্রাচীন রীতি অনুযায়ী বিয়ের আগেই যদি কনে তার বিয়ের পোশাক পরিধান করে তাহলে সেটা দুই গোত্রের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনে। এমনকি বর চাইলেও বিয়ের অনুষ্ঠানের আগে কনেকে দেখতে পারে না। প্রাচীন ‍বুলগেরিয় বিবাহ প্রথায় বর-কনের জন্য নির্ধারিত পোশাকের রং হয় মূলত লাল। আর কনের গলায় থাকে মুক্তোর মালা। এই মুক্তোর মালা কনেকে তার পূর্ব পুরুষদের আর্শীবাদ পেতে সাহায্য করে এবং সকল বাধা থেকে দূরে রাখে। ঐতিহ্য অনুযায়ী বিয়ের দিন কনেকে ডান পা এগিয়ে চার্চের প্রধান ফটক পেরোতে হয়। চার্চে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর কনে যে পথে চার্চে ঢুকেছে সেই পথে আবার বের হতে পারে না। তাকে বের হওয়ার জন্য ভিন্ন রাস্তা ব্যবহার করতে হয় কারণ বিয়ের পর থেকে তার বাপের বাড়ির রাস্তা তার জন্য বন্ধ হয়ে যায়। আর বরের বাড়িতে ঢোকার সময় বর কনেকে কোলে করে বাড়ির প্রধান ফটক পার হয়। আর এসময় আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশী ও গোত্রাধিপতিরা নতুন দম্পতির সুন্দর ভাবিষ্যতের আশায় অনেক ফুল ও অর্থ ছুড়ে দেয় তাদের দিকে। এরপরই প্রায় হঠাৎ করেই শুরু হয়ে যায় নৃত্য আর গান। নাচ আর গানের তালে তালে সুখ দুঃখের গল্প বলতে বলতে গভীর রাত অবধি চলে আনন্দ উদযাপন।






মন্তব্য চালু নেই