মেইন ম্যেনু

বিদেশী যৌন ঘটনা নিয়ে মাতামাতি এগিয়ে আনছে অশুভ পরিনতি

সাম্প্রতিক বাংলাদেশে শিশুধর্ষণ ও গণধর্ষণ সহ বিভিন্ন যৌন নিপীড়নের ঘটনা বেড়ে গেছে বহুলাংশে। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ঘটে চলেছে যৌন কেলেংকারির নানা বর্বরোচিত ঘটনা। পত্রিকা, অনলাইন সংবাদমাধ্যম কিংবা স্যোশাল মিডিয়া খুলতেই যৌন নিপীড়নের নানা স্পর্শকাতর ঘটনা চোখে পড়ছে। ইদানীং এ ধরনের ঘটনা এত বেশি চোখে পড়ে যে, যৌন হয়রানি, ধর্ষন, গণধর্ষণের মত ঘটনা খুব সহজ ও স্বাভাবিক মনে হতে চলেছে। আগে কালে ভদ্রে কদাচিত যা ঘটতো তা এখন ঘটছে অহরহ। এতে আমাদের চারিত্রিক ও নৈতিক অবক্ষয় ও স্খলনের সুস্পষ্ট চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিশুধর্ষণ, গণধর্ষণ ও ধর্ষণশেষে হত্যার এসকল ঘটনা ক্রমশ: গ্রাস করছে আমাদের সভ্যতাকে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় এর পরিনতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা ভাবলে গা শিউরে উঠে।

গত সেপ্টেম্বরে রাজধানীর ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকায় পরকীয়া প্রেমকে টিকিয়ে রাখতে প্রেমিককে দিয়ে আপন ছেলেকে খুন করায় ৫৫ বছর বয়সী কামাতুর মা। সারুলিয়ার ওরিয়েন্টাল স্কুল সংলগ্ন এলাকায় আশোক আলীর স্ত্রী মরিয়ম তার পরকীয়া প্রেমিক আজিজুল ও তার সহযোগিদেরকে এক লক্ষ টাকা দিয়ে আপন ছেলে কামরুজ্জামানকে খুন করায়। কামরুজ্জামানের ফুটফুটে একটি শিশু সন্তানও রয়েছে। ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি কতটা মানবতা বিবর্জিত ও বর্বোরোচিত তা অভাবনীয়। চলতি অক্টোবরের গত বাইশ দিনে পত্রিকান্তরে প্রচারিত কিছু ঘটনা লক্ষ করি। ৬ অক্টোবর ঈদের দিনের মত পবিত্র একটি রাতে টাঙ্গাইলের মীর্জাপুরে একই পরিবারের মা ও তিন মেয়েকে পুড়িয়ে মারে সিঙ্গাপুর ফেরত বখাটে যুবক।

১০ অক্টোবর, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সত মা সুমাইয়া টয়লেটের ড্রামে চুবিয়ে হত্যা করে ৬ বছরের শিশু মাইমুনাকে। ১৩ অক্টোবর রাতে বাগেরহাটের রামপালে গণধর্ষনের শিকার হয় এক তরুণী। ওই রাতের প্রথম ভাগে রামপাল উপজেলার হোগলাভাঙ্গা গ্রামের আশ্রয়ন প্রকল্পের দরিদ্র বাসিন্দা ইউসুফ আলীর মেয়েকে পার্শ্ববর্তী গোবিন্দপুর গ্রামের এশা হাওলাদারের বাগান বাড়িতে ডেকে নিয়ে, একই গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস মল্লিকের ছেলে মাসুম মল্লিক ৮/৯ জন লম্পটকে নিয়ে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষন করে। একই দিনে কমলগঞ্জে বখাটে এক যুবক মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টমশ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে জোরপূর্বক অজ্ঞান করে ধর্ষন করে, ধর্ষণের নগ্ন ভিডিও চিত্র ধারণ করে তা মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হয়। আর জঘন্য এ কাজটি যে করেছে সেই নরাধম হচ্ছে পুরানবাড়ি গ্রামের ছমির মিয়ার বখাটে ছেলে নাছির যে পেশায় স্থানীয় বাজারের এক দর্জী।

১৪ অক্টোবর মানিকগঞ্জের ঘিওর থেকে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী চাঁদনী সরকারকে অপহরণের পর সিংগাইরে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। ১৫ অক্টোবর মোবাইল ফোনে তোলা নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে আপলোড করায় লোক লজ্জ্বার ভয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করে নওগাঁর এক কলেজ ছাত্রী বিথী রানী। বিথীর প্রেমিক রকি ও তার সহযোগীরা গোপনে বিথীর নগ্ন ছবি ধারণ করে বিথীর বাবার কাছে চাঁদা দাবী করে। টাকা না পেয়ে সেই নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে আপলোড করে দেয় তারা। ওই একই রাতে গাজীপুর মহানগরীর উত্তর খাইলকুর এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্যেও জেরে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে নেয় দ্বিতীয় স্ত্রী। ফেসবুকে বন্ধুত্ব গড়ে এক তরুণীকে দেড়মাস আটকে রেখে ধর্ষন করা হয় চট্টগ্রামের রাউজানে। চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নিয়ন্ত্রনাধীন মেমন হাসপাতালের মেডিক্যাল টেকনেশিয়ান নাছিরউদ্দিন (৫৫) ফেসবুকে ফেইক একাউন্টের মিথ্যা পরিচয়ের মাধ্যমে রাউজানের ১৭ বছর বয়সী ওই তরুনীর সাথে সম্পর্ক গড়ে। গত ১২ সেপ্টেম্বর তার অনুরোধে ওই তরুণী বাড়ির পাশে দেখা করতে আসলে তাকে অজ্ঞান করে তুলে নিয়ে এসে বিভিন্ন বাসায় ও আবাসিক হোটেলে রেখে গত দেড়মাস ধরে ধর্ষণ করা হয়।

১৯ অক্টোবর রাজধানীর কেরানীগঞ্জের পূর্ব আগানগর জেলা পরিষদ মার্কেটে অবস্থিত তাহফিজুল কোরআন নুরানি হাফেজি মাদ্রাসার হাফেজি বিভাগের ছাত্র রায়হানকে বলতকার করতে না পেরে হত্যা করে ওই মাদ্রাসার বাবুর্চি শাহ আলম। ২০ অক্টোবর সমুদ্রে মিলনরত দম্পতি একসঙ্গে জোড়া লেগে যাওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে সেই জোট খুলতে হয়। ওই দিনই নাতনীর উত্ত্যক্তকারীদের হাতে নানার প্রান যাওয়ার ঘটনা ঘটে গাজীপুরে এবং রাজীবপুর উপজেলার বালিয়ামারী গ্রামে স্ত্রীর গোপনাঙ্গে মরিচের গুড়া ঢুকিয়ে দিয়ে নির্যাতন করে পাষন্ড স্বামী। ২১ অক্টোবর শারিরীক সম্পর্ক করতে গিয়ে স্পেশাল ব্রাঞ্চের কাছে আটক হয় অভিনেত্রী শ্রাবনী। একই দিনে যশোরের শার্শার উলাশী-কুচেমোড়া এলাকায় ভাইকে বেঁধে রেখে বোনকে ধর্ষণ করে ছিনতাইকারীরা। উল্লিখিত ঘটনাগুলোতো মিডিয়ায় আসা আমার চোখে পড়া কিছু ঘটনা মাত্র। এদেশে খুব কম সংখ্যক ঘটনাই মিডিয়ার গোচরে আসে এবং বেশিরভাগ ঘটনাই মিডিয়ায় আসেনা। সে হিসেবে দেশে ঘটমান যৌন ঘটনা মিডিয়ায় প্রচারিত ঘটনা অপেক্ষা অনেক গুণ বেশি। কি ঘটছে এসব? কোনদিকে ধাবিত হচ্ছি আমরা? দিনান্তরে আমাদের মাঝ থেকে মনুষ্যত্ব, মানবতাবোধ ও বিবেক যেন বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারি মঙ্গলবারের আমারদেশ অনলাইন ডট কমের একটি শিরোনাম ছিল পুরো “বাংলাদেশ এখন ধর্ষিত”। ২০১২ সালের ৭ ডিসেম্বর, টাঙ্গাইলরে মধুপুরে এক স্কুলছাত্রীকে বন্দী করে বন্দী করে রেখে পরপর তিনদিন গণধর্ষণ করে ধর্ষকরা। মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে ১০ ডিসেম্বর ধর্ষকরা তাকে সদর উপজেলার রসুলপুর এলাকায় রেললাইনের ওপর ফেলে রেখে যায়। স্থানীয় লোকজন অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে মেয়েটিকে ঢামেক হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। ওসিসিতে চিকিত্সাধীন ওই স্কুলছাত্রীকে দেখতে এসে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, , পুরো বাংলাদেশ এখন ধর্ষিত। বীর উত্তমের এই বক্তব্যকে শিরোনামে আনা হয়েছিল পত্রিকায়। যে কোন দেশ নিয়ে কোন বাঘা নেতা সরাসরি এমন মন্তব্য করলে সচেতন জাতিতে যে সমালোচনার ঝড় উঠতো, এখানে তার ছিটেফোটাও ছিলনা। সেদিন তিনি আরও বলেছিলেন যে, পুলিশ ধর্ষকদের রিমান্ডে না নিয়ে রিমান্ডে নিচ্ছে সাংবাদিক, সম্পাদক ও ভাষা সৈনিকদের। দেশে অরাজকতা চলতে থাকায় ও মূল্যবোধের অবক্ষয় হতে থাকায় এ ধরনের ঘটে চলেছে। এ ঘটনার দীর্ঘ ২২ মাসের অতিক্রান্তিতে সেই মূল্যবোধের অবক্ষয় ও চরিত্রের স্খলন পূর্বের তুলনায় বহুলাংশে বেড়েছে।

আমাদের অবক্ষয় ও স্খলনের মাত্রা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীদেরকে উত্যক্ত করা, ধর্ষন করা, কুপ্রস্তাব দেয়া, এমন কি নানা কৌশলে ছাত্রীদেরকে যৌনকার্যে রাজী করিয়ে তা আবার গোপনে ভিডিও করে অসহায় ছাত্রীদেরকে দিনের পর দিন শারিরীক মিলনে বাধ্য করা, জিম্মি করে আর্থিক সুবিধা নেয়া, এমনকি এসকল ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার বেশ কয়েকটি ঘটনা দেশব্যাপী আলোড়নের ঝড় তুলেছে। শিক্ষকতার মত মহান পেশার আড়ালে এ সকল কুলাঙ্গারদের বর্বরতাতে স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও বাধ যায়নি। পথশিশুদের দিয়ে যৌনদৃশ্য ধারণ করে তা বিদেশে বিক্রি করে সুপরিচিত সংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গের কোটি কোটি টাকা কামানোর ঘটনা উম্মোচিত হয়েছে বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে। শিশু ধর্ষণ, গণধর্ষণ এবং ধর্ষণ শেষে হত্যার মত ঘটনা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেছে। বিষয়বস্তুকে আরও স্বচ্ছ করার জন্য গত সাত মাসে মিডিয়ায় প্রচারিত কিছু যৌন বর্বোরোচিত ঘটনা তুলে ধরছি।

গত ৩১ মার্চ রংপুরের পীরগঞ্জের চৈত্রকোল ইউনিয়নের ঝাড়বিশলা নয়াপাড়া গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্তা মঞ্জিলা বেগমের বাক প্রতিবন্ধি কন্যা- ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী শাল্টি ধর্ষনের শিকার হয়। একই গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র আল-আমিন ও তার বন্ধু রায়হান মিয়া সরকারী প্রাথমিক স্কুলের পেছনে ডেকে নিয়ে প্রতিবন্ধি শাল্টিকে ধর্ষন করে। ২৩ এপ্রিল বাঞ্চারামপুর থানাধীণ চর নিলিখি গ্রামে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী মাত্র নয় বছরের নাবালিকা শিশু সীমা রাণি দাস ওরফে তুলনাকে ধর্ষনের চেষ্টা করে, মুখে মাটি গুজে দিয়ে কাঁদা মাটিতে পিষে ফেলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সায়েব নগর গ্রামের বখাটে যুবক ফারুক ও ওহিদ। ২৫ এপ্রিল ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় কাচিয়া ইউনিয়নের মৃত- হানিফের ১৬বছরের যুবতী মেয়ে কুলসুমকে মুঠোফোনে বেড়াতে আসতে বলে পালাক্রমে ধর্ষন করে নয়া সিকদারের ছেলে শহিদ(২৮) ও আবুল কাশেমের ছেলে নিজাম সিকদার (২৬)। ২৬ এপ্রিল ঝালকাঠিতে ধর্ষিত হয় অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। কৃর্ত্তীপাশা ইউনিয়নের কুবিরকাঠি গ্রামের নবীন চন্দ্র বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী কিশোরী (১৪) রাত সাড়ে ৭ টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে ঘরের বাইরে বের হলে, পাশের বাড়ীর মৃত্যু আঃ গনি হাওলাদারের পুত্র মজিবুর রহমান মঞ্জুল (৫০) তাকে দেখতে পেয়ে ছুটে এসে ঝাপটে ধরে ও মুখ চেপে পার্শ্ববর্তী লাহারী বাড়ীর বাগানে নিয়ে মুখে কাপড় বেধে ধর্ষন করে। ২৫ মে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কামদিয়ায় পাশের বাড়িতে টেলিভিশন দেখতে গিয়ে বখাটে যুবক শ্রী মাখমের লম্পট পুত্র সুমন (২৪) কর্তৃক ধর্ষিত হয় পলাষট্রি গ্রামের শ্রী দুখুর মেয়ে আনন্দ স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী মাধবী। ২৭ মে রাজধানীর ডেমরার পশ্চিম ডগাইর এলাকায় চল্লিশোর্ধ বয়েসী লিটন মোল্লা ধর্ষণ করে ১১ বছরের এক শিশুকে। শিশুটির বাবা রিকশাচালক ও মা গৃহপরিচারিকা। ১ জুলাই রাতে রাজধানী ঢাকার মিরপুরে একজন পোশাক শ্রমিক বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন দুস্কৃতিকারী ফিল্মি স্টাইলে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। ৬ আগষ্ট ২০১৪ সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের শাদীপুর গ্রামের মারু মালিথার ছেলে জুয়েল (২৪) একই গ্রামের দরিদ্র নজির উদ্দির কিশোরী কন্যাকে (১৫) বাড়িতে থেকে তুলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী মাঠে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। ১৭ আগষ্ট রাতে ভাষানটেকের ১ নম্বর বস্তির ১৪ বছরের এক কিশোরীকে কয়েকজন বখাটে যুবক জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর একটি কক্ষে আটকে রেখে রাতভর পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। ২২ সেপ্টেম্বর সিলেট হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়িতে ডেকে নিয়ে এক বিধবা নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ফাঁড়ির পুলিশ সদস্য নায়েক কামাল হোসেনসহ তিনজন|

অত্যন্ত উদ্বেগজনক এ সকল যৌন ঘটনাগুলো ভেবে দেখলে যে কোন সচেতন লোকের রক্তই হীম হয়ে আসবে। এ কোন অশনী সংকেত আমাদের সামনে? আমাদের সভ্যতা ও উত্তোরণের এ কি বেহাল? দিন দিন আমরা কোথায় গিয়ে দাড়াচ্ছি? আমরা কি সভ্য হচ্ছি, নাকি অসভ্যতার মাঝে পতিত হচ্ছি? এমন নৈতিক স্খলন ও অবক্ষয়ের সময় কি করণীয় আর কি করা হচ্ছে? যেখানে এ সকল ঘটনার বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানো উচিত, সেখানে কি ঢাকঢোল পিটিয়ে এ অবক্ষয়কে আপেক্ষিক ভাবে আরও গতিশীল করা হচ্ছেনা? বর্তমান সময়ে যৌনতা কিংবা যৌন ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া, সংবাদ মাধ্যম, অনলাইন মিডিয়ার,যে মাতামাতি তাতে এটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

স্যাটেলাইট যুগে অগুনতি চ্যানেলে, সংবাদপত্রের রঙ্গীন পাতায়, চলচ্চিত্রে, বিজ্ঞাপনে, বাস্তবেই কিছু সোসাইটিতে নারীদের যে যৌন আবেদনময়ী খোলামেলা ভাব, খোলা বাজারে সিডি ডিভিডিতে, হাতে হাতে মোবাইল ফোনে, অসংখ্য ওয়েবসাইটে পর্ণ ছবির যে ছড়াছড়ি, তাতে যৌনতা আর এখন একটি বয়স পর্যন্ত অজানা গোপন বিষয় নেই। কিশোর বয়সে পা রাখার আগেই এখন অনেকে যৌনতার ব্যাপারে অকালপক্ক হয়ে উঠে। স্কুল পড়–য়া কিশোর শিক্ষার্থীদের কাছেও এখন মোবাইলে মোবাইলে নীল ছবি কালেকশানের গোপন প্রতিযোগিতা। তার উপর মাদকসেবিদের বৃহদাংশ যৌন উদ্দীপক ক্র্যাজী নেশা ইয়াবায় আসক্ত। যারা নেশা করেনা তাদের মাঝে বিভিন্ন হারবাল প্রতিষ্ঠানের যৌন উদ্দীপক টেবলেটের ছড়াছড়ি। তার উপর প্রিন্ট ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন চটকদার শিরোনামে যৌন বিষয়ক সংবাদসমূহ ইদানীং প্রায় প্রতিদিনের বিষয়বস্তু হয়ে দাড়িয়েছে। ভারত সহ বিদেশী বিভিন্ন যৌন নিপীড়নের ঘটনা প্রতিদিনই প্রচারিত হচ্ছে অনলাইনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সমূহে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিদেশী যৌন সংবাদগুলোর শিরোনাম এমন করা হয় যে, পড়ে বুঝা যায়না ঘটনাটি ভারত কিংবা সুদূর বিদেশের কোন ঘটনা। দেশ বিদেশের কোন যৌন বিষয়ক ঘটনা না পাওয়া গেলে সেদিন যৌন উদ্দীপক বিষয়বস্তুকে আর্কষনীয় আঙ্গিকে পরিবেশন করা হচ্ছে চতুর কৌশলে। পরিস্থিতি এমন যেন যৌন সুড়সুড়ি দেয়ার মত কিছু না থাকলে বিশেষ কিছু সংবাদ মাধ্যমের সেদিনের প্রচার ও প্রসার পরিপূর্ণ হয়না। আর এজাতীয় সংবাদ কেবল পরিবেশন করেই ক্ষান্ত থাকতে পারছেনা অনেকে, সেগুলো আবার নিজেরা উপযাজক হয়েই শেয়ার ও পোস্ট করছে ফেসবুক, গুগল প্লাস সহ বিভিন্ন স্যোশাল মাধ্যমে। নতুন ঘটনা না থাকলে পুরনো সংবাদকেই পরিবেশন করা হচ্ছে নতুন করে। ধিক্কার জানাই এ নোংরা অপমানসিকতাকে যা দেশ জাতি ও মানব সভ্যতাকে ক্রমান্বয়ে অন্ধকারের অতলে পতিত করে চলেছে।

ভারতের যে সকল যৌন বিষয়ক ঘটনা বিগত ছয় মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে তার কিছু শিরোনাম তুলে ধরছি। ‘ভারতে ইঞ্জিনিয়ারের কান্ড : ধর্ষনের জন্য বালিকা ক্রয়’, ‘ধর্ষনের মামলা না তুলায় বোনের সামনে খুন হলো ধর্ষিতা’, ‘ভারতে প্রতিদিন গড়ে ৯৩ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন, ‘ভারতে আবার বাসে গন ধর্ষন’, ‘ভারতে এবার ধর্ষনের শিকার পোল্যান্ডের নারী’, ‘ভারতের ধর্ষন গুলো ধর্ষণ নয় ভগবান শ্রী কৃষ্ণের লিলা’, ‘লোক দিয়ে ধর্ষণ করিয়ে দেবো: তাপস পাল’, ‘ভারত সীমান্তে বাংলাদেশি দুই বোন ধর্ষিত’, ‘টয়লেটের অভাবে ধর্ষণ বাড়ছে ভারতে’, ‘এবার নারী বিচারক ধর্ষিত’, ‘কিশোরীকে লাগাতার ধর্ষণ’, ‘ভারতের ত্রিপুরায় আট বছরের শিশু ধর্ষিত’, ‘চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ৯ বছরের শিশু ধর্ষন’, ‘স্বামীকে ছাড়াতে এসে ধর্ষিত’, ‘ভারতের উত্তর প্রদেশে কলেজ শিক্ষিকা ধর্ষিত’, ‘ভয় দেখিয়ে ছাত্রের সঙ্গে গৃহ শিক্ষিকার যৌন সর্ম্পক’, ‘দুই স্ত্রীর সহযোগীতায় চারদিন ধরে ধর্ষণ’, ‘এবার স্কুল শিকের যৌন লালসার শিকার কেজি শ্রেণীর ছাত্রী’-এ জাতীয় শিরোনামে ভারতের যৌন ঘটনা এ দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ও সামাজিক মাধ্যমে পো¯ট করা হয়েছে ফলাও ভাবে।

২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বন্ধুর সঙ্গে সিনেমা দেখে বাড়ি ফেরার পথে, চলন্ত বাসে ২৩ বছর বয়সী মেডিকেলের ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে বাসটির চালক ও আরোহীরা। ধর্ষণের পর মেয়েটি ও তার বন্ধুকে রাস্তায় ছুড়ে মারে তারা। ধর্ষণের ১৩ দিন পর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে মেয়েটির মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সাহসের পরিচয় দেওয়ায় ভারতের গণমাধ্যম ওই ছাত্রীকে ‘নির্ভয়া’ নামে অভিহিত করে।এ মর্মান্তিক ঘটনার পর দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষ। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই তামিলনাড়ুর ভিরুধাচালাম এলাকার মণিমুক্তা নদীর তীরে গণধর্ষণের শিকার হয় ২০ বছর বয়সী এক মেয়ে। নদীর তীরে মেয়েটি তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে আলাপ করছিল। একদল লোক মেয়েটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। মেয়েটির ওই আত্মীয় বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাকে মারধর করে ধর্ষকরা। সমসাময়িক আরেকটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা হচ্ছে স্যাটেলাইট শহর দিল্লির গুরগাওয়ে নামিদামি বাবা কর্তৃক ১৬ বছর বয়সী কিশোরীর দীর্ঘদিন যৌন হয়রানির শিকার হওয়া। বিষয়টি তার শিক্ষকদের জানালেও তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন। দিল্লিতে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ২৫ বছরের এক যুবক ৯ বছরের শিশুকন্যাকে জোর করে ধর্ষণ করে এবং মহারাষ্ট্রে এক লম্পট কিশোর এক কিশোরীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কিশোরীটিকে এক বছর ধরে লাগাতার ধর্ষণ করতে থাকলে অবশেষে মেয়েটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বিষয়টি সবার নজরে আসে। ১৫ এপ্রিল ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ঘানশুর শহরে ধর্ষণের শিকার হয় চার বছর বয়সী শিশু। এক খামার বাড়িতে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের দুইসপ্তাহ পর শিশুটি মারা যায়। ঘটনার একদিন পর পুলিশ উত্তরাঞ্চলীয় বিহার রাজ্য থেকে ৩৫ বছর বয়সী ধর্ষককে গ্রেফতার করে। দলিত সম্প্রদায়ের দুই মেয়েকে ধর্ষণের পর গাছে ঝুলিয়ে রাখা নিয়ে ভারতব্যাপী তীব্র ক্ষোভের মধ্যেই ৩ জুন ভারতের উত্তর প্রদেশে ধর্ষণের শিকার হন এক নারী বিচারক। ১২ জুন ভারতের উত্তর প্রদেশের হামিরপুর জেলায় স্বামীকে ছাড়াতে পুলিশ স্টেশনে এসে পুলিশের হাতেই ধর্ষণের শিকার হন ৩৫ বছর বয়সী এক নারী। ৭ জুলাই উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগরে বালওয়াখারি গ্রামে কলেজে পড়ুয়া যুবকদের ধর্ষণের শিকার হন এক শিক্ষিকা। ২৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকা পাঠদান শেষে বাড়ি ফেরার পথে যুবকরা ওই শিক্ষিকাকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে এর ভিডিওচিত্র ধারণ করে। জুনে এক উপজাতি মহিলাকে গণধর্ষণ করে তার স্বামীসহ ১০ ব্যক্তি। দামেনীর ঘটনার ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই ১৮ জুলাই দিল্লীতে আবার বাসে গন ধর্ষনের শিকার হয় ২৪ বছর বয়সী এক তরুনী। ওই দিনই ভারতের দিল্লিতে মথুরা শহর থেকে রাজধানী দিল্লিগামী একটি ট্যাক্সিতে পোল্যান্ডের এক নারীকে চেতনানাশক প্রয়োগ করে ধর্ষন করে কুলাঙ্গার ট্যাক্সি চালক। এই একবিংশ শতাব্দীতেও যৌন কামনা চরিতার্থ করতে বাবা-মায়ের কাছ থেকে ১৬ বছরের বালিকাকে কিনে ৭ মাস ধরে ধর্ষণ করে চেন্নাইয়ের এক ইঞ্জিনিয়ার । ২৭ অগাষ্ট উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগরের উত্তর রাধাপুর গ্রামে ত্রিপুরায় দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া আট বছরের এক বালিকা ধর্ষিত হয়। প্রতিবেশী যুবক ২৩ বছর বয়সী সুমন দাস শিশুটিকে তুলে নিয়ে ঘরে আটকে রাখে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সারা রাত তার উপর নির্যাতন চালায়। ২৬ আগস্ট উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল জেলার রামনগরে ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীকে তার বোনের সামনেই গলা কেটে খুন করা হয়। সম্প্রতি পাঞ্জাব রাজ্যে ১৪ বছরের ছেলেকে শারীরিক সম্পর্ক গড়তে বাধ্য করে এক শিক্ষিকা। ছেলেটি রাজি না হলে তাকে খুনের হুমকি দেন তিনি। এক পর্যায়ে ছেলেটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ভিডিও করে তাকে ভয় দেখাতে থাকেন ওই শিক্ষিকা। ভারতের গুজরাট প্রদেশের সুরত জেলার আম্রলিরে চৌহান নামের এক তান্ত্রিক তার দুই স্ত্রী মনা ও রামার সহযোগীতায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে চারদিন ধরে ধর্ষণ করে। বেশ কয়েকদিন যাবত নিখোজ বাবাকে খুঁজতে এক পরিচিত জনের পরামর্শে ওই তরুণী তান্ত্রিক চৌহানের কাছে গেলে এ ঘটনা ঘটে। ভারতের উত্তর বেঙ্গালুরুর একটি নামকরা স্কুলে কেজিতে পড়–য়া চার বছরের এক শিশু তার শিকের যৌন লালসার শিকার হয়।

ভারতে সংঘটিত নিত্য নতুন যৌন কেলেংকারির চমকপ্রদ ঘটনার পাশাপাশি বিদেশের অন্যান্য যৌন ঘটনাও এদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোয় অবলীলায় ফলাও করে প্রচারিত হচ্ছে। ১৫ বছরের শিশূকে ৩৮ জনে মিলে ধর্ষণ করেছে মালয়েশিয়ার কেলান্তানে, ৩৩ বছরের মার্কিন রিয়্যালিটি টিভি স্টার কিম কার্দাশিয়ান কোন অন্তর্বাস না পরেই তার বরের সঙ্গে রেস্তোরায় খেতে গিয়ে সকলের নজর কেড়েছেন, অভিনয়ের টোপে ফেলে প্রযোজক রজত স্যান্নাল ও তার দুই বন্ধু কলকাতার দুই বাঙ্গালী মডেলকে মুম্বাইয়ে রেখে ক্রমাগত ছয়মাস লাগাতার ধর্ষণ করেছে, কর্তব্যরত অবস্থায় চুমু খাওয়ার কারণে চাকুরি হারিয়েছে তিন তানজানিয় পুলিশ, জাপান এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমানের টয়লেটে এক পুরুষ যাত্রী এক নারী যাত্রীকে যৌন নির্যাতন করায় বিমানটিকে আবার ফেরত আসতে হয়েছে, এজাতীয় বিদেশের যৌন ঘটনাকে আকর্ষনীয় শিরোনামে ফলাও করে প্রচারিত হচ্ছে এদেশে।

যদি দেশ-বিদেশে এযাতীয় কোন ঘটনা না পাওয়া যায়, তবে যৌনতাকে আরও যৌনাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে ভিন্ন কৌশলে। অক্টোবরের প্রথম ২০ দিনে প্রচারিত এ জাতীয় কিছু শিরোনাম হচ্ছে- ‘গবেষনা; যে কারনে পরপরুষে মজেন গৃহবধুরা’, ‘শ্যালী মরগান সাক্স হাজব্যান্ড এন্ড সান ইন ল আফটার ফিল্ম ক্যাচ’, ‘পশুদের সঙ্গে যৌন মিলন বন্ধে বিশেষ আইন’, ‘ সন্ত্রাসীদের আস্তানা দৌলতদিয়া যৌনপল্লী’, ‘হিটলার যেভাবে সেক্স করতেন’, ‘বাড়ির চারিদিকে নগ্ন হয়ে ঘোরেন মার্কিন অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ’, ‘অল্প বয়সেই কুমারিত্ব হারিয়েছেন যেসব বলিউড তারকারা’, ‘মডেল প্রভার সেই ভিডিও এখনো চলছে’, ‘কণ্ঠশিল্পী পড়শীর সাথে অনুষ্ঠান উপস্থাপকের অশ্লীলতা’, ‘আসল পুরুষ চায় তরুণী’, ‘তসলিমা নাসরিনের ২০ বছরের ছোট নতুন বয়ফ্রেন্ড’, ‘অনকেটাই নগ্ন রূপে জ্যাকলিন’, ‘পুরুষ ম্যাগাজনিরে জন্য অর্ধনগ্ন হলেন আনুশকা’, ‘জেনে নিন যৌবন ধরে রাখার উপায়’, ‘নিরাপদ সেক্সের উপায় ও আধুনিক চিকিতসা’, ‘স্বপ্নদোষের অজানা তথ্য’, ‘নগ্ন হবেন বলিউড অভিনেত্রী রিচা চাড্ডা’, ‘খেতে বসে খাবারের মেনুতে মনোযোগ না দিয়ে সেক্স নিয়ে ভাবেন পুরুষ’।

মাঝে মাঝে কিছু পৈশাচিকতা আদিম বর্বরতাকেও হার মানায়। অথচ ঘৃন্য এ বর্বরতার কি বিচার হচ্ছে, বিচার হচ্ছে কি হচ্ছেনা, এ বিষয়ে নাগরিক সচেতনা বৃদ্ধিমূলক কোন কিছু সংবাদ মাধ্যমে আসছেনা। যেখানে শাসন চলছে সেখানেও চলছে শাসনের নামে ভিন্নস্বাদের পাশবিকতা। ধামরাইয়ে জয়পুরে সমাজপতি শহীদুল ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের কুপ্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় চরিত্রহীনা অপবাদে স্বামী পরিত্যাক্তা নাসিমার শরীরে প্রকাশ্যে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে ওই সমাজপতি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। দেশের কোন প্রত্যন্ত এলাকাতে নয়, খোদ রাজধানীর অনতিদূরের এলাকায় ঘটেছে এমন নারকীয় ঘটনা। কয়েক মাস আগে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঘটে আরেক শিশু নির্যাতনের ঘটনা। হেনা নামের একটি মেয়েকে গুনে গুনে ১০১ টি দোররা মারার স্বিদ্ধান্ত দেয় এলাকার ফতোয়াবাজরা। ১০১ টি দোররা মারার আগেই মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়লেও গ্রাম্য শালিসের হোতারা থেমে থাকেনি। অচেতন অবস্থাতেই মেয়েটিকে গুনে গুনে ১০১ টি দোররা মারা হয়। এরই মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে হেনা। অর্থ-শক্তি- ক্ষমতাধর লোক, শিল্পপতি, সমাজপতি, রাজনৈতিক আমলা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিচারপতি, এলিট ফোর্স কোন কিছুর কমতি নেই এদেশে, অথচ এগুলো দেখার কেউ নেই। সরকার তথা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক-পরিচালকরা সব জেনে শুনেও নির্বিকার। ছি:, ঘেন্না হয়, থুতু ফেলতে ইচ্ছে করে নিজের গায়ে এমন দেশে বাস করছি বলে।

এখন মিডিয়ার যুগ। সর্বক্ষেত্রে মিডিয়ার ভূমিকা এখন অগ্রগন্য। আমাদের দেশেও গত দেড় দশকে মিডিয়ার বিস্ফোরণ ঘটেছে ব্যপকভাবে। প্রচারেই প্রসার বলে, মিডিয়াকে যথার্থভাবে ব্যবহার না করতে পারলে মিডিয়ার আগ্রাসনেই পর্যুদস্ত হবে দেশ। দেশের এহেন যৌন কেলেংকারি, ধর্ষণ হত্যার লাগাম টেনে ধরতে হলে ভারত সহ বিদেশের বিভিন্ন যৌন ঘটনাকে নানা আঙ্গিকে পরিবেশন করা হতে বিরত থাকতে হবে। অন্য মাধ্যমে প্রচারিত কোন যৌন সংবাদের কিছু শাব্দিক পরিবর্তন করে, ভিন্ন উপস্থাপনায় তা নিজেস্ব সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা যতটা সহজ, এর আপেক্ষিক কুফল ও পরিনতি কিন্তু তার চেয়ে অনেক অনেক গুণ বেশি কঠিন। সংবাদমাধ্যমকে এটা মাথায় রেখে ভাবা উচিত। তাই যৌনতা নিয়ে আর মাতামাতি না করে বিগত সময়ে ঘটিত বর্বরোচিত ঘটনা সমূহের সঠিক বিচার ও এ ব্যাপারে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক বিষয়বস্তুকে বেশি বেশি প্রচার করাই হবে যৌক্তিক। সরকার যদি দেশ ও জাতির কল্যাণকামী হয় তবে সরকারেরও উচিত হবে এ বিষয়ে নজরদারী করা। নচেত অদূর ভবিষ্যতে যৌনতা নিয়ে আমাদের এ মাতামাতির কুফল হতে রেহাই পাবেনা কেউই। আর যদি শরষের মাঝেই ভুত থাকার মত হয় তবে এ লেখাটাও হবে পন্ডশ্রম। তবে নৈতিক অবক্ষয় ও স্খলন থেকে নিজেকে, দেশ ও জাতিকে রক্ষার মত মহত কাজে সংবাদ মাধ্যমকেই এগিয়ে আসতে হবে সবার আগে।






মন্তব্য চালু নেই