মেইন ম্যেনু

বিএনপির ‘ঠাকুর ঘরে’ ওরা কারা?

কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একটি রাজনৈতিক দলের সংবাদ সম্মেলন অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। দেশের বিশেষ কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের অবস্থান ঘোষণার জন্য কিংবা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা অথবা দলের সাফল্য তুলে ধরার জন্য দলবিশেষের সংবাদ সম্মেলন হয়। কখনো কখনো বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে বাহাসও হয়, অর্থাৎ বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যও দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে।

মানুষ উদ্দেশ্যটা বোঝে এবং যার যার মতো করে সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য গ্রহণ কিংবা বর্জন করে। কিন্তু গত ২১ মে বিএনপির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান যে সংবাদ সম্মেলনটি করলেন, তার উদ্দেশ্য কী? ২০ মে বাংলাদেশ প্রতিদিনে ‘গুলশান অফিস নিয়ে অস্থিরতা’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ওই অফিসের কিছু প্রভাবশালী কর্মচারীর অস্থিরতারই প্রকাশ বলে মনে হয় ওই সংবাদ সম্মেলনকে।

সাধারণত কোনো রাজনৈতিক দলের বা অরাজনৈতিক কোনো সংগঠনের সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্য বা কর্মসূচি নিয়ে মানুষ আলোচনা-সমালোচনা করে। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনেক সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য অনেক সময় দেশের মানুষকে আলোড়িত, আন্দোলিত করেছে।

অর্থাৎ সংবাদ সম্মেলন অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সংবাদ সম্মেলন এখনো হয়, ভবিষ্যতেও হবে। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্য ও বক্তব্য নিয়ে কৌতুকপ্রবণতা খুব একটা লক্ষ্য করা যায় না। বহুদিন পর বেগম সেলিমা রহমানের সংবাদ সম্মেলনটি রাজনৈতিক মহলে একটি ‘উপভোগ্য’ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সেলিমা রহমান দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান।

বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি বিএনপির সঙ্গে জড়িত। বেগম খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্ব গ্রহণের পর অন্যান্য অঙ্গদলের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল সাংগঠনিকভাবে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছিল। সংগঠনের সভানেত্রী বেগম খুরশীদ জাহান হকের পর মহিলা দলের অনেকটা ‘লাইফব্লাড’ ছিলেন বেগম সেলিমা রহমান। মূল দলেও তার আসন ছিল পদের চেয়ে বেশি ‘মর্যাদার’। ২১ মে-র সংবাদ সম্মেলনের পর অনেকে বলছেন, মূল দলে এখন তার পদ বড় হয়েছে কিন্তু মর্যাদা কী কমে গেছে?

বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- বিএনপি চেয়ারপারসনের ‘গুলশান অফিসের কর্মচারী সমাচার’। এটা তো নতুন কোনো কথা নয়। বিভিন্ন পত্রপত্রিকার লেখালেখিতে, টিভি টক-শোতে বিষয়টি বহুল আলোচিত। বলা হয়ে থাকে, বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কিছু কর্মচারী শুধু গুলশান অফিস দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজই করে না, এই সুযোগে সুচতুরভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে প্রকৃত সত্য ও তথ্যবিস্মৃত রেখে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে গোটা পার্টির নিয়ন্ত্রণই এরা কুক্ষিগত করে ফেলেছে।

এমনও বলা হয়, তারেক রহমানকেও তারা যেন হিপনোটাইজ করে রেখেছে। বিএনপির অনেক অনুরাগী বলেন, এরা প্রকাশ্যে তারেক-বন্দনায় মশগুল থাকলেও স্থান-কালভেদে তারেক রহমানের নিষ্ঠুর নেতিবাচক সমালোচনায়ও সোচ্চার। এরা দুমুখো সাপের মতো। এরা ‘মারও, মাসিরও’। তারা প্রশ্ন তোলেন, বেগম খালেদা জিয়া তার কক্ষে বসে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ আলোচনা করেন, সে আলোচনার বিষয় তৃতীয় পক্ষ জানে কী করে? একটি জনপ্রিয় দৈনিকে একবার এমনই একটি খবর ছাপা হয়েছিল।

অনেকেরই স্মরণ আছে যে, সেই খবরে বলা হয়েছিল, একজন শীর্ষস্থানীয় বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। কক্ষে তারা দুজনই ছিলেন। আলোচনা শেষে বেরিয়ে আসার পরই আলোচিত কর্মচারীদের দুজন তাকে অনেকটা কৈফিয়ৎ তলবের মতো জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আপনি ম্যাডামকে এসব কথা বলতে গেলেন কেন?’ অর্থাৎ ম্যাডামকে তিনি হয়তো কোনো ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এবং কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, যা ওই কর্মচারীদের পছন্দ হয়নি। ব্যবসায়ী ভদ্রলোক বিস্মিত হয়েছিলেন এই ভেবে যে, বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি ছাড়া তৃতীয় কোনো ব্যক্তি ছিল না। তো, এরা জানল কী করে?

নিশ্চয়ই ভিতরের কথা আড়ি পেতে শোনার ও তা লিক করার একটা কৌশলী ব্যবস্থা করা আছে। পত্রিকাটির খবরেই বলা হয়েছিল যে, ব্যবসায়ী ভদ্রলোক চালাকি করে কোনো একটা কিছু ফেলে এসেছেন ভান করে আবার চেয়ারপারসনের কক্ষে ঢোকেন এবং তাকে বিষয়টি অবহিত করেন। কক্ষে তল্লাশি চালানোর পরামর্শও সম্ভবত দিয়েছিলেন তিনি। বেগম খালেদা জিয়া তাৎক্ষণিক তল্লাশির ব্যবস্থা করে তার কক্ষ থেকে কথা পাচারের কিছু যন্ত্রপাতি উদ্ধার করেন বলে পত্রিকাটি উল্লেখ করেছিল। কিন্তু কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গৃহীত হওয়ার খবর দিতে পারেনি পত্রিকাটি। ফলে জানা গেল না, এরা কারা?

আমেরিকায় ‘ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি’ ধরা পড়ে সে দেশের প্রেসিডেন্টের ‘চাকরি’ গেল কিন্তু জিও (গুলশান অফিস) কেলেঙ্কারি ‘ধরা’ পড়ল না, কারও চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটল না। এরা নাকি খুব শক্তিশালী। কথা বললে কখন গুম করিয়ে দেয় সে ভয়ে নাকি মুখও খুলতে চান না পার্টির নিষ্ঠাবান নেতা-কর্মীরা। এই কর্মচারীরাই কী বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত সংবাদে বিব্রত ও রুষ্ট হয়েছেন? তারাই কী বেগম সেলিমা রহমানকে দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করিয়েছেন?

বাংলাদেশ প্রতিদিনের ২২ মে সংখ্যায় প্রকাশিত ‘দলে তোলপাড়’ শিরোনামে এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, প্রথমে দলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপনকে নাকি সংবাদ সম্মেলন করে পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এককালের ডাকসাইটে ছাত্রনেতা এবং ছাত্রদলের এককালীন সভাপতি আসাদুজ্জামান রিপন তাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এরকম সিদ্ধান্ত গ্রহণে ‘বুকের পাটা’ থাকা লাগে। রিপন তা দেখিয়েছেন। দলের, এমনকি অন্য দলের মর্যাদাশীল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা নিশ্চয়ই আসাদুজ্জামান রিপনকে সাধুবাদ জানাবে। আরও কেউ নাকি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সবাই জানেন যে, বেশ কমাস ধরে ড. আসাদুজ্জামান রিপন তার দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন। দলের কোনো বক্তব্য তো দলীয় মুখপাত্রের মাধ্যমে প্রচার বা উপস্থাপন করাই বাঞ্ছনীয়, এটাই রেওয়াজ। বেগম সেলিমা রহমান কেন এই দায়িত্ব নিলেন এটা একটা প্রশ্ন তো বটেই। সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদে ‘আহত’ ও ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ কর্মচারীদের পরামর্শেই কী তিনি তা করলেন, না কী অন্য কোনো উঁচু মহলের নির্দেশে করলেন? এখানেও প্রশ্ন, সেই উঁচু মহল তো আসাদুজ্জামান রিপনকেও নির্দেশটি দিতে পারতেন।

আমরাও ধারণা করতে চাই না, তেমন কোনো জায়গা থেকে সেই ধরনের কোনো নির্দেশ হয়তো ছিল না। তিন মাস অবরোধকালীন সময়ে বেগম সেলিমা রহমান বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেই ছিলেন। গুলশান অফিসের কর্মচারীরাও ছিলেন। একটা মায়ার বাঁধন গড়ে ওঠা স্বাভাবিক। বড় বোনসুলভ আচরণে বেগম সেলিমা রহমান একটি অনুকরণীয় চরিত্র। গুলশান অফিসের কর্মচারীরা সেই সুযোগই কী নিলেন?

উলি্লখিত সংবাদ সম্মেলন নিয়ে আলোচনার উপভোগ্য দিক হচ্ছে বিষয়বস্তু। ‘গুলশান অফিস নিয়ে অস্থিরতা’বিষয়ক সংবাদের মুখ্য বিষয় ছিল ওই অফিসের কয়েকজন ক্ষমতাশালী কর্মচারীর ক্রিয়াকলাপ এবং তাতে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ থেকে সৃষ্ট দলীয় সংকট। এটা কে না জানে যে, গুলশান অফিসের একটি কর্মচারী সিন্ডিকেটের কাছে বিএনপির সিনিয়র নেতারাও কাবু। বেগম খালেদা জিয়ার কাছে তাদের যে একসেস শোনা যায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদেরও সেই একসেস নেই।

এমনও শোনা যায়, সেই অফিসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকেও কোনো এক কর্মচারীর টেবিলের সামনে বসতে হয়। তার জন্য নাকি আলাদা কোনো চেয়ার-টেবিল নেই। এই লেখা প্রকাশের পর হয়তো তা অস্বীকার করা হবে কিন্তু তথ্যটি একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের। সেখানে কারও কারও ক্ষমতা নাকি মহাসচিবের চেয়েও বেশি। দলে পদোন্নতি, পদাবনতি, ইনক্লুশন-এঙ্ক্লুশনে তাদের হাতই নাকি ভীষণ লম্বা। বেগম খালেদা জিয়া যখন ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোডের কার্যালয়ে বসতেন, এমনকি বিরোধীদলীয় নেতা থাকাকালে যখন ২৯ মিন্টো রোডে বসতেন তখন পার্টি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীর যে যোগাযোগ ছিল, এখন তার বিন্দুমাত্রও নেই গুলশান অফিসের ব্যক্তিগত কর্মচারীদের প্রতিবন্ধকতার কারণে।

মিন্টো রোডে বসার সময় মোসাদ্দেক আলী ফালু যখন বেগম জিয়ার একান্ত সচিবের দায়িত্বে ছিলেন, মূল দল ও অঙ্গদলগুলোর নেতা-কর্মীরা অবাধে যাতে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন, তাদের সমস্যার কথা, সংগঠনের মাঠ পর্যায়ের অবস্থার কথা জানাতে পারেন এবং সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় নির্দেশ নিতে পারেন সে ব্যবস্থা করতেন তিনি। এমনকি বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালেও দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় দেখা-সাক্ষাতে কোনো অসুবিধা হতো না।

এখন আট বছর দল ক্ষমতার বাইরে, বড়ই নাজুক অবস্থা; সাংগঠনিক দুর্বলতা, নেতৃত্বের ব্যর্থতায় বার বার ব্যর্থ হচ্ছে দলটি। এই সময়ে দরকার দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী-সংগঠক এবং তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার সরাসরি সংযোগ। এই সংযোগস্থলেই বাধার প্রাচীর গুলশান অফিসের এই কর্মচারীরা- এমন অভিযোগের কথাই শোনা যায়। এসব কথাই মূল উপজীব্য বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের।

মিডিয়ায় নানা প্রকার সংবাদ ছাপা ও প্রচার হয়, কখনো কখনো কোনো কোনো নেতা-নেত্রীর কোনো বক্তব্য যদি সমালোচনাযোগ্য হয়, মিডিয়ায় প্রকাশের পর তা যথাযথভাবে প্রকাশ হয়নি বলে প্রতিবাদ করা হয়। কোনো কোনো সংবাদ দলের জন্য ক্ষতিকর হলে তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। মিডিয়ায় প্রকাশিত দলের জন্য ক্ষতিকর সংবাদ বা প্রতিবেদন সম্পর্কেই দল মুখ খোলে। সব খবর বা প্রতিবেদনের ব্যাপারে দল রি-অ্যাক্ট করে না।

বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পড়লে যে কোনো সচেতন ব্যক্তিই বলবেন, তা বিএনপির উপকারে লাগার কথা, শোধরানোর কাজে লাগার কথা। কোনো দলের, প্রতিষ্ঠানের এমনকি ব্যক্তিবিশেষের এই ধরনের মিডিয়া- সমালোচনা আত্দোপলব্ধির অবলম্বন হয় এবং এই ধরনের গঠনমূলক সমালোচনা সর্বদা সর্বত্রই প্রশংসিত। প্রকাশিত সংবাদে বিএনপি দলগতভাবে একেবারেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। স্পষ্ট হয়ে গেল, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বেগম জিয়ার গুলশান অফিসের কিছু কর্মচারী। তাই তারা সিরিয়াসলি রি-অ্যাক্ট করেছেন।

মনে হচ্ছে, এই প্রথম তারা বেগম খালেদা জিয়াকে ভয় পেলেন এবং তারা ‘দাগি-দোষী’ নয়, তা প্রমাণের জন্য তড়িঘড়ি সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করিয়েছেন। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এবার দল পুনর্গঠনে বেগম খালেদা জিয়া কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। মনে হচ্ছে এবার ‘পদ বেচাকেনার বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এবার তিনি কারও সুপারিশ শুনবেন না।

অর্থাৎ আগে সুপারিশ শুনতে গিয়েই দলের আজ এই অবস্থা! এই সুপারিশকারী কারা? এরা কী তারা, যারা পত্রিকায় তাদের সমালোচনাকে দলের সমালোচনা হিসেবে চালিয়ে দিয়ে নিজেরা ‘সাধু’ সাজতে চাচ্ছেন। তাদের রি-অ্যাকশনে মনে হচ্ছে ‘ঠাকুর ঘরে কে রে’ প্রশ্নের জবাবে তারা বলছেন ‘আমি কলা খাই না।’ -বিডি-প্রতিদিন

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট

ই-মেইল : [email protected]






মন্তব্য চালু নেই