মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে

যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের তীর্যক নানা মন্তব্যের পরেও ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে।’

বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বিদায়ী এই রাষ্ট্রদূত।

আগামী সপ্তাহেই ঢাকা ছাড়বেন মজিনা। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন মার্শিয়া স্টিফেন ব্লুম বার্নিক্যাট।

সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে পৌনে ৭টা পর্যন্ত। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার শুরুতেই মজিনা জানিয়ে দেন, সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেবেন না তিনি।

‘আগামী ২/১ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করা হবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ড্যান মজিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ঘুরে আমি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি তা বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে শেয়ার করেছি। এখানকার মানুষ খুব ভালো। এখানে থেকে উপভোগ করেছি।’

‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিতে বাংলাদেশ যে বিপ্লব ঘটিয়েছে তাতে আমি অভিভূত। গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে বিরোধী দলের ভূমিকা থাকা দরকার। সকল রাজনৈতিক দলকে শান্তিপূর্ণভাবে রাজনীতি করার সুযোগ থাকতে হবে।’

আগামী সপ্তাহে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার পর আগামী বছর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশে আসবেন বলেও জানান মজিনা।

সাংবাদিকদের সঙ্গে পুরোটা সময় ইংরেজিতে কথা বললেও বিদায় নেন বাংলা বলে। সবশেষে তিনি বলেন, ‘দেখা হবে।’

বৈঠকে ড্যান ডব্লিউ মজিনার স্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী।

বৈঠকে কী কী বিষয়ে কথা হয়েছে সে ব্যপারে বিএনপি পক্ষ থেকে কেউ কোনো কথা বলেননি।

২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ঢাকায় দায়িত্বে আসেন ড্যান ডব্লিউ মজিনা। এর আগেও ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কনস্যুলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে আসার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়ার কলেজে অধ্যাপনা করতেন মজিনা। মাত্র এক বছর সেখানে ছিলেন। বাংলাদেশ থেকে ফিরে তিনি আবারো সেই অধ্যাপনায় যোগ দিচ্ছেন। ঢাকা মার্কিন দূতাবাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ এই সদস্য ২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদূত হিসেবে ২০১০ সাল পর্যন্ত আফ্রিকার দেশ অ্যাঙ্গোলাতে দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকে ফিরে অধ্যাপনায় যোগ দেন এবং এক বছরের মাথায় তাকে আবারো বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশ ছাড়াও মজিনা দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, পাকিস্তান এবং আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়াতে মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কমকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে মার্কিন দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, মজিনা ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের স্টেট ডিপার্টমেন্টের (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) কোনো অবস্থান জানা যায়নি।






মন্তব্য চালু নেই