মেইন ম্যেনু

নারী দেশে দেশে

বাংলাদেশে মেয়েদের মডেলিং: রক্ষণশীলতা এবং উদারতার বৈপরিত্য

বাংলাদেশে মডেলিং-এর প্রতি তরুণীদের আগ্রহ এখন বেশ লক্ষণীয়৷ মডেলিং-এ নারীদের এই অংশহগ্রহণ কি সামাজিক অগ্রগতির কোনো লক্ষণ? কী বলছেন এই সময়ের মডেল ও অভিনেত্রীরা?

দেয়াল জুড়ে আঁকা এক মুখ৷ পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে একটু যেনো থমকে দাঁড়াতে হয়, তাকাতে হয় তার দিকে৷ সে কেবলই ছবি, মুখে তার কোনো কথা নেই৷ তবু এ মুখ বলে দেয় অনেক কথা৷ বলে দেয়, কোনো এক পণ্যের এটি এক চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন ৷
শাড়ি, জামা, জুতো, চাল, ডাল, তেল, নুন থেকে শুরু করে টয়লেট ক্লিনার, কোন পণ্যটা নিয়ে বিজ্ঞাপন হতে বাকি? নেচে গেয়ে হেসে যারা ফুটিয়ে তোলেন বিজ্ঞাপনগুলো তাদেরকে ডাকা হয় মডেল৷

শুধু টিভি বিজ্ঞাপন নয়, পত্রিকা, ম্যাগাজিন, বিলবোর্ড, এবং ফ্যাশন শো এ র্র্যম্প মডেলিং- সব ধরনের মডেলিং-এই বতর্মানে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশের মেয়েরা৷ অথচ বাংলাদেশে একটা সময় ছিলো, যখন মঞ্চ বা টিভিতে মেয়েদেরকে অভিনয় করতে দিতেই পরিবারগুলোর ছিলো আপত্তি৷ এই যে মেয়েরা বাইরে বেরিয়ে আসছে, মডেলিং করছে এটি কি একধরনের সামাজিক অগ্রগতি?

ASD

এই বিষয়টি নিয়েই কথা হচ্ছিলো লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার, মডেল ও অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মীমের সাথে৷

মীম বলেন,‘মিডিয়াতে একটা মেয়ে কাজ করবে এই বিষয়টা কিন্তু একসময় পারিবারিকভাবে সমর্থন করা হতো না৷ যেমন, আমার মায়ের খুব ইচ্ছে ছিলো, যে তিনি এই ধরণের কাজ করবেন কিন্তু তাকে তার পরিবার সমর্থন দেয় নি৷ তবে সময় এখন পাল্টেছে৷ আমার মা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন৷’

এই বিষয়ে অভিনেত্রী ও মডেল নওশীন বলেন, ‘ এটা শুধু নারীদের অগ্রগতি কেন হবে? অভিনয় করে তো আজকাল অনেক ছেলেও প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে৷ সুতরাং নারী পুরুষের বৈষম্যটাকে আমি এখানে আনতে চাই না৷ আমি বরং এটিকে দেখতে চাই একটি পেশা হিসেবে৷’

সময়টা যদিও পাল্টেছে, যদিও আগের তুলনায় অনেক নারী মডেলিং-এ আসছে কিন্তু এটাকে কি পেশা হিসেবে গ্রহণ করার অবস্থা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে?
এ প্রসঙ্গে মীম বলেন, ‘আমরা যদি আগের কাউকে আইডল হিসেব দেখি তাহলে মৌ, মোনালিসা, রিয়া এদের কথা সবার আগে বলতে হয়৷ এরা কিন্তু মডেলিং করেই নিজের ক্যারিয়ার গড়েছেন৷ সুতরাং আমার মনে হয়, মডেলিংকেও এখন পেশা হিসেবে নেয়া যায়৷’

তবে মীমের সাথে একটু ভিন্নমত পোষণ করেন নওশীন৷ নওশীন মনে করেন, বাংলাদেশে এখনো মডেলিংকে পেশা হিসেবে নেয়ার বাস্তবতা তৈরি হয় নি৷ তবে ভবিষ্যতে এই পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ হবে বলেও আশা করেন তিনি৷

অভিনেত্রী সারা যাকের, প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জড়িত আছেন বাংলাদেশের টেলিভিশন মাধ্যমের সাথে৷ এছাড়া বিজ্ঞাপন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সাথেও রয়েছে তার সম্পৃক্ততা৷ বাংলাদেশে বর্তমান মডেলিং জগতে নারীদের অংশগ্রহণকে তিনি কীভাবে দেখছেন?

8676916_f520

সারা বলেন, ‘কিছু সংখ্যক ছেলে মেয়ে আমাদের দেশে টিভি বিজ্ঞাপন ও ফ্যাশান শো-এ ব়্যাম্প মডেলিং করছে বটে কিন্তু তার মানে এই না যে সামাজিক অগ্রগতি হয়েছে৷ একদিকে বাসায় বসে রক্ষণশীল জীবন যাপন আর অন্য দিকে বাইরে বিলবোর্ডে স্লিভলেস পরা মেয়েদের ছবি৷ তো, এই স্লিভলেস পরা ছবিটা আসলে সমাজের উদার মানসিকতার কোনো ম্যাসেজ বহন করে না৷’

মডেলিং-এর প্রতি এখনো সামাজিক নেতিবাচক মনোভাব আছে বলেই মনে করেন সারা যাকের৷ তাই এই বিষয়টির উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যে মেয়েটি মডেলিং করে বিয়ের পরে অনেক সময়ই তাকে মডেলিং ছেড়ে দিতে হয়৷ সুতরাং যে দেশে সামাজিক বাস্তবতা এরকম, সে দেশে মেয়েরা মডেলিং আসা মানেই সামাজিক অগ্রগতি নির্দেশ করে না বলেই মনে করেন তিনি৷

২০ বা ৩০ বছর আগের তুলনায় অনেক পাল্টেছে এখন সময়৷ কিন্তু এখনো সীমাবদ্ধতাও রয়ে গেছে ঢের৷ আলোর অপূর্ব রোশনাই বা আলো-ছায়ার রহস্যঘেরা মায়াজালের ভেতর রাজহংসীর মতো উদিত হচ্ছেন যে মডেল, সমাজের মানসিকতা এখনো তাকে গ্রহণে পুরোটা সক্ষম নয় বলে মনে করছেন অভিনেত্রী সারা, মীম ও নওশীন৷ তাদের মতে, টিভির পর্দায়, বিলবোর্ডে বা ফ্যাশান শো-এর মঞ্চে দশর্ক যাকে দেখছেন মুগ্ধতায় তার প্রতি সাধারণ মানুষের ইতিবাচক মনোভাব আসতে এখনো আরো কিছু সময় প্রয়োজন৷

DW এর সৌজন্যে। (ছবিগুলো প্রতীকী)






মন্তব্য চালু নেই