মেইন ম্যেনু

বহিষ্কৃত মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর আরেক কান্ড!

মুরতাদ লতিফ সিদ্দিকীর অনিয়মের শেষ নেই। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কৃত মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আরও এক গুরুতর অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। গাজীপুরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের হাইটেক পার্ক নির্মাণের ক্ষেত্রে তিনি সব নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন বলে জানা যায়।

দরপত্রের সব শর্ত উপেক্ষা করে এবং টেকনিক্যাল কমিটির মতামত ছাড়াই নির্বাহী কমিটিতে কাজের অনুমোদন দিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন এমন অভিযোগ এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েই দেয়া হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, হাইটেক পার্ক নির্মাণের জন্য চলতি বছর ৩০ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। রিকুয়েস্ট ফর কুয়ালিফিকেশন (আরএফকিউ) নামের ওই দরপত্রে উল্লেখ করা হয় যেসব কোম্পানির হাইটেক পার্ক ডেভেলপ ও অপারেট করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যাদের বার্ষিক টার্নওভার ১শ’ মিলিয়ন ডলার ও রাজস্ব আয় ২৫ মিলিয়ন ডলার তারাই কেবল এতে অংশগ্রহণ করতে পারবে। ৬টি কোম্পানি বিটে অংশগ্রহণ করলেও চারটি তাতে কোয়ালিফাই করে। এগুলো হলো, টেকনোলজি পার্ক মালয়েশিয়া, হাইটেক পাদু বেরহাদ মালয়েমিয়া, সারাকা প্রাইভেট লিমিটেড ও ইয়ানতাই সায়েন্সপার্ক চায়না এবং সামিট ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড মার্কেনটাইল লিমিটেড।

গত ৮ জুন আহ্বানকৃত আরএফপি-এর ক্লজ ৩ দশমিক ৬ অনুয়ায়ী দরপত্রে অংশগ্রহণকারী কনসোর্টিয়ামের কেউ পার্টনার পরিবর্তন করতে চাইলে সাতদিনের মধ্যেই সে আবেদন করতে হবে তবে লিডপার্টনার কোনদিন পরিবর্তন করা যাবে না।

কিন্তু প্রপোজাল কলের এক মাস পরে প্রধান পার্টনার মালয়েশিয়ান টেকনোলজি পার্ককে বাদ দেয়ার আবেদন করে ফাইবার এড হোম লিমিটেড। এ অবস্থায় লতিফ সিদ্দিকীর নির্দেশে এবং প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে স্পেশাল নির্বাহী কমিটির মিটিং ডেকে এই প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রি-বিট মিটিংয়েও এ সংক্রান্ত আবেদন করা হয়নি এমনকি টেকনিক্যাল ইভ্যালিউশন কমিটিরও এখানে অনুমোদন নেই। তারা জানিয়েছে দুই নং কোয়ালিফাই করা কোম্পানির আর্থিক সচ্ছলতা নেই।

গত বছরের ৩০ জুনের অডিট রিপোর্টে দেখা যায়, ওই লিড পার্টনারের বার্ষিক আয় ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নয়। আর কোম্পানির টার্নওভার একশ’ মিলিয়ন ডলারের প্রশ্নই ওঠে না। দরপত্রের শুরুতে তারা মালয়েশিয়ান টেকনোলজি পার্কের অর্থিক ও কারিগরি যোগ্যতা দেখিয়ে ফাইবার এড হোম কোয়ালিফাই করে। অথচ মন্ত্রীকে মোট অংকের অর্থিক সুবিধা দিয়ে লিড কোম্পানিকেই বাদ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চার গ্রুপের এই কাজের দুটি সামিটকে দেয়া হয়েছে এবং অপর দুটি গ্রুপ এই অনিয়মের মাধ্যমে ফাইবার এডকমকে দেয়ার পাঁয়তারা চলছে। আর অযোগ্য এই কোম্পানিকে টেকনিক্যাল এই কাজ প্রদান করলে হাইটেক পার্ক নির্মাণ নিয়েই অনিশ্চয়তা দেখা দেবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

এ ব্যাপারে হাইটেক পার্ক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার আওতাভুক্ত নয়।

তিনি এ ব্যপারে ফাইভার এড হোমের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। পক্ষান্তরে ফাইভার এড হোমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগমের সাথে একাধিকবার টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।






মন্তব্য চালু নেই