মেইন ম্যেনু

জঙ্গিদের তালিকা দিল এনআইএ

বর্ধমান হামলার তদন্ত করবে বাংলাদেশ

বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বোমা হামলার ঘটনার তদন্ত করবে বাংলাদেশ। এ হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জঙ্গিদের নামের তালিকা হস্তান্তর করেছেন বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতের এনআইএ সদস্যরা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা বলেছেন।

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এনআইএ সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ধমানে বোমা হামলা ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা বাংলাদেশে আছে কি না, তা এখনো আমরা নিশ্চিত নই। তবে এনআইএ সদস্যরা জঙ্গিদের একটি নামের তালিকা দিয়েছেন। হামলার সঙ্গে জড়িত যেসব জঙ্গিদের কথা ভারতীয় প্রতিনিধিদল মনে করছে, সেটি আমরা যাচাই করে দেখব। এ নিয়ে তদন্ত করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, জেএমবির সদস্যরা দুই দেশে যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে ব্যাপারেও দুই দেশ এক সঙ্গে কাজ করবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এর আগে বেলা আড়াইটার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদল বৈঠকে মিলিত হয়। সোয়া তিন ঘণ্টা এ বৈঠক চলে। বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তাকাজে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

আর চার সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদলে ছিলেন, এনআইএর মহাপরিচালক শারদ কুমার, আইজি সঞ্জিত কুমার, ডিআইজি অনুরাগ তস্কা ও ডিআইজি সজীব ফরিদ।

 

জঙ্গিদের তালিকা দিল এনআইএ

বাংলাদেশে সফররত ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) প্রতিনিধি দল বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন জঙ্গির নামের তালিকা দিয়েছে। জঙ্গি দমনে ভারতকে সহায়তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির কাছে এ তালিকা হস্তান্তর করা হয়।

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নামগুলো উত্থাপণ করা হয়। বৈঠকে এ নিয়ে দু’দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের মাঝে আলোচনা হয়েছে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ন-কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম। তবে ঠিক কতজনের নাম দিয়েছেন তা জানাননি তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত অপর একটি সূত্র জানিয়েছেন, এনআইএ প্রতিনিধি দল ৩৪ জন সন্দেহভাজনের নাম দিয়েছে।

বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া বৈঠকটি সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় শেষ হয়। এর আগে ঢাকায় এসে বেলা আড়াইটার কিছু সময় পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খানের সঙ্গে প্রথম দফার বৈঠকে বসে এনআইএ প্রতিনিধি দল।

বৈঠকে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন আইজি সঞ্জীব কুমার সিং। চার সদস্যের প্রতিনিধি দলে এনআইএর দুই ডিআইজি অনুরাগ টাংখা ও সাজিদ ফারিদ সাপো ছাড়াও আরও এক সদস্য রয়েছেন। তাদের সঙ্গে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই-কমিশনের দু’জন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের পক্ষে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, র্যা বের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান, সিআইডির মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আব্দুল আজিজ, এনএসআইর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শামসুল হক উপস্থিত ছিলেন।NSIa

স্বরাষ্ট্র সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সফররত প্রতিনিধি দলকে সহায়তার জন্য ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। যার সমন্বয়ক করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীকে।

সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে দ্বিতীয় দফায় গঠিত কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে সফররত দলটি। এ বৈঠকেই সন্দেহভাজন জঙ্গিদের নামের তালিকা দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাম্প্রতিককালে ভারতের বর্ধমানসহ আরও দুটি জায়গায় বিস্ফোরণের ঘটনায় বেশ কিছু তথ্য আমরা ওপেন সোর্স থেকে পেয়েছি; সে ধরনের কিছু তথ্যই আমরা অফিসিয়ালি পেলাম। সেটি নিয়ে আমরা যাচাই-বাছাই করছি।’

পুলিশের উর্ধ্বতন এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘একেক জঙ্গির একসঙ্গে একশটা নাম থাকে; সে ধরনের কিছু নাম বেরিয়ে এসেছে আলোচনায়। যারা বাংলাদেশের নাগরিকও হতে পারে, আবার ইন্ডিয়ানও হতে পারে। দু’দেশ সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখবো। পাশাপাশি দু’দেশ মিলে ভবিষ্যতে যাতে জেএমবি বা অন্য কোনো সংগঠন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য কাজ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

‘বর্ধমান বিস্ফোরণে বাংলাদেশি নাগরিক জড়িত’ বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে এনআইএ প্রতিনিধি দল কোনো দালিলিক তথ্য উপস্থাপন করেছে কি না জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এটি তদন্তাধীন। এটা তারাও নিশ্চিত হতে পারেনি, আমরাও পারিনি। যে নাম পেয়েছি সেগুলো যাচাই করে দেখবো তারা আমাদের নাগরিক কি না।’

এছাড়া এনআইএ প্রতিনিধি দলের কাছে বাংলাদেশের ময়মনসিংহে প্রিজনভ্যান থেকে ছিনিয়ে নেয়া জঙ্গিদের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই