মেইন ম্যেনু

বগুড়ায় ১৩ লাখ কৃষকের মাথায় হাত

অতিবর্ষণ এবং ভারতের পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বগুড়া জেলার কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় এই জেলার ১৩ লাখ কৃষক পরিবারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১৪৩ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এ অবস্থায় কৃষি অধিদপ্তর এগিয়ে না আসায় কৃষকরা এখন ভীষণ হতাশ।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দি, ধুনট, সোনাতলা, গাবতলী, শাজাহানপুর এবং শেরপুর উপজেলার সব ফসলি জমি এবার বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। এতে আউস ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে ওই এলাকার হতাশ কৃষকদের এখন মাথায় হাত।

সারিয়াকান্দি : চালুয়াবাড়ি, হাটশেপুর, কাজলা, কর্নিবাড়ী, নারচি, চন্দনবাইশা, বোহাইল, সারিয়াকান্দি, কুতুবপুর, কামালপুর, ভোলাবাড়ী এবং ফুলবাড়ী এই ১২টি ইউনিয়নের ৯,৩২৭ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এরমধ্যে আমন বীজতলা ১১০ হেক্টর, রোপা আমন ৬,১২৮ হেক্টর, আউশ ৩,০১৯ হেক্টর এবং শাকসবজি ৭০ হেক্টর।
এতে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ ২৪,৩৪২ মেট্রিক টন। আর্থিক ক্ষতি ৭৬ কোটি ২৮ লক্ষ ১৫ হাজার টাকার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সংখ্যা ৫৫৯৮০।

ধুনট : ভান্ডরবাড়ী, চিকাশী, নিমগাছী, কালেরপাড়া, গোসবাড়ী, ধুনট, চৌকিবাড়ী, গোপালনগর, মথুরাপুর এবং এলাঙ্গী ইউনিয়নে তলিয়ে যায় ৫,৮৬০ হেক্টর আবাদি জমি। তলিয়ে যাওয়া ফসলের মধ্যে রয়েছে রোপা আমন ৫,৭৩৯ হেক্টর, আউশ ১৯ হেক্টর, শাকসবজি ৮৯ হেক্টর, অন্যান্য ফসল ১৩ হেক্টর।
এতে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ ১৯,৭১৮ মেট্রিক টন। কৃষকের আর্থিক ক্ষতি ৩৫ কোটি, ৮৩ লক্ষ ১৭ হাজার টাকার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সংখ্যা ৪৫,৩৭০।

সোনাতলা : পাকুল্যা, তেকানী, চুকাইনগর এবং মধুপুর ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতি হয়েছে ১৩৮৩ হেক্টর ফসলি জমি। এরমধ্যে আমন বীজতলা ৩০ হেক্টর, রোপা আমন ৯০০ হেক্টর, আউশ ৪০৩ হেক্টর, শাকসবজি ৩০ হেক্টর, অন্যান্য ফসল ২০ হেক্টর।
এতে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ ৩৬৮৬ মেট্রিক টন। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১১কোটি ৩৩ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সংখ্যা ৮৮০০।

গাবতলী : দূর্গাহাটা, বালিয়াদিঘী, মহিষাবান, নশিপুর, নেপালতলী এবং গাবতলী ইউনিয়নে ৯৭৪ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই উপজেলায় শুধু মাত্র ৯৩৪ হেক্টর রোপা আমন তলিয়েছে । এতে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ ৪,৬৩৮ মেট্রিক টন। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২৭ লাখ টাকার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সংখ্যা ১৫,২৩৪।

শাজাহানপুর : আমরুল এবং চুপিনগর ইউনিয়নে বিনষ্ট হয়েছে ৫০০ হেক্টর ফসলি জমি। এসব জমিতে রোপা আমন চাষ করেছিল কৃষকেরা। এতে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ ১,৭৫০ মেট্রিক টন। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩৫০ লাখ টাকার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সংখ্যা ১০৫০।

শেরপুর : এই উপজেলার খামারকান্দি এবং খানপুর ইউনিয়নের ১,০১০ হেক্টর জমির রোপা আমনের ক্ষতি হয়েছে। এতে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ ২,৮৮০ মেট্রিক টন।  আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৪ কোটি ৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকার।

সারিয়াকান্দি এলাকার কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, সারাটি বছর এখন খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হবে। সরকার এখনও সহায়তার আশ্বাস দেয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কিছু ত্রাণ দিলেও তার পরিমাণ একেবারেই সামান্য।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সুদমুক্ত ঋণের প্রত্যাশা করছেন। তাতে কিছুটা হলেও বিপদ সামাল দিতে পারবেন বলে মনে করছেন তারা।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক চন্ডি দাস কুন্ডু জানান, কৃষকদের সহায়তায় সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা এখন মাঠে কাজ করছেন। পানি নামার সাথে সাথে কৃষকদের মাসকালাইসহ বিভিন্ন জাতের শাকসবজি চাষে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
এ ছাড়া বিএডিসি কর্তৃপক্ষ বন্যা কবিলত এলাকায় আগাম জাতের ধানবীজ বিতরণ করবে। আর কৃষি মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই