মেইন ম্যেনু

ফুলবাড়ীতে ট্রেন থেকে ফেন্সিডিল উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেলওয়ে পুলিশ-বিজিবির হাতাহাতি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ট্রেন থেকে ফেন্সিডিল উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেলওয়ে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। হাতাহাতির ঘটনায় সাদ্দাম হোসেন নামের এক পুলিশ সদস্য আহত হয়। ভেঙ্গে যায় তার রাইফেলের নিচের অংশ। এ ঘটনায় রেলপুলিশ ৩জন বিজিবি সদস্যকে পার্বতীপুর রেলওয়ে থানায় নিয়ে আটকে রাখে। সমঝোতা হলে বিজিবির সহকারী পরিচালক পার্বতীপুর রেল থানা থেকে ৭৩ বোতল ফেন্সিডিলসহ বিজিবি সদস্যদের ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে আসে । এ ঘটনায় পার্বতীপুর রেলওয়ে থানায় একটি জিডি হয়েছে।

ফুলবাড়ী রেলওয়ে ষ্টেশনে গতকাল মঙ্গলবার সকালে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা নীলফামারীগামী আন্তঃনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৬টা ২৫ মিনিটে ফুলবাড়ী রেলষ্টেশনে পৌছালে ট্রেনের একটি বগিতে বিশেষ ভাবে রক্ষিত স্থানে ফেন্সিডিল উদ্ধারের সময় রেলওয়ে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী ফুলবাড়ী ২৯বিজিবি ব্যটালিয়নের সার্জেন্ট মনিরুজ্জামান জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তারা ৯ সদস্যের একটি দল ফুলবাড়ী রেল স্টেশন থেকে আন্তঃনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠে। এ সময় তারা ইঞ্জিনের পিছনের ৩ নং বগিতে বিশেষ ভাবে রক্ষিত অবস্থায় ফেন্সিডিল উদ্ধারের কাজ শুরু করে। কিন্তু উদ্ধার কাজ শেষ না হতেই ট্রেনটি পার্বতীপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তাড়াহুড়ো করে এক বিজিবি সদস্য কিছু ফেন্সিডিল নিজের ইউনিফর্মের পকেটে নিয়ে ট্রেন থেকে নামতে চাইলে রেল পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় রেল পুলিশের সাথে বিজিবি সদস্যের কথা কাটাকাটি হয়। অপরদিকে. ওই ট্রেনে দায়িত্বরত রেলওয়ে পুলিশের এএসআই নাজমুল ইসলাম জানান, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা সীমান্ত ট্রেনের বিভিন্ন বগিতে তল্লাসী চালাতে থাকে। এ সময় পুলিশ কনেষ্টবল সাদ্দাম হোসেন বিজিবি’র সদস্য রফিকুল ইসলামের ইউনিফর্মে অবৈধ ভারতীয় ফেন্সিডিল দেখে প্রতিবাদ করলে রেলওয়ে পুলিশ ও বিজিবি’র মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা সাদ্দাম হোসেনকে ধাক্কা মারলে সে পড়ে গেলে আঘাত প্রাপ্ত হয় এবং তার রাইফেলের নীচের বাঁটের অংশ ভেঙ্গে যায়। ক্ষুব্ধ রেল পুলিশ রফিকুল ইসলাম, রুবেল হোসেন ও জামিল হোসেন নামে ৩জন বিজিবি’র সদস্য কে পার্বতীপুর রেলওয়ে থানায় নিয়ে আসে। তিনি দাবি করেন ফেন্সিডিল গুলো রেল পুলিশ উদ্ধার করলেও বিজিবি সদস্যরা তা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

ট্রেন যাত্রীরা জানান, উল্লেখ্য ইতিপূর্বেও ট্রেন তল্লাশী করতে গিয়ে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে হাতা-হাতিতে জড়িয়ে পড়েছিল জিআরপি পুলিশেরা। ট্রেন যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, ট্রেনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জিআরপি পুলিশেরা কালো বাজারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের ট্রেনে যাতায়াত করতে দীর্ঘ দিন থেকে সহযোগিতা করে আসছে। তাদের সহযোগিতার কারণে অনেক সময় নিরুপায় হয়ে পড়ে ট্রেন যাত্রীরাও।

ঘটনার ব্যাপারে বিজিবির ফুলবাড়ী ২৯ ব্যটলিয়নের সহকারী পরিচালক মতিউর রহমান জানান, নিয়মিত তল্লাসীর অংশ হিসেবে অভিযান চালনোর সময় তারা ফুলবাড়ী স্টেশনের সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ৭৩ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করে। রেলওয়ে পুলিশ উদ্ধার কাজে বাধা দিলে তাদের সাথে সামান্য বাক-বিতন্ডা হয়।

পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার ওসি একেএম লুৎফর রহমান বলেন, সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে দায়িত্ব পালন করে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ। তারা ৩জন বিজিবি সদস্যকে আটক করে পার্বতীপুর রেলওয়ে থানায় নিয়ে আসে। সকাল ১০টায় বিজিবি’র সহকারী পরিচালক মতিউর রহমানের উপস্থিতে বিষয়টি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে আপোষ মিমাংসা হয়। পরে ফেন্সিডিল উদ্ধারের ঘটনায় পার্বতীপুর রেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করা হয়।

ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি’র অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল জাহিদুর রশিদ এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার খবর পেয়েছি। তবে তিনি আরও বলেন, জিআরপি পুলিশেরা চোরাকারবারীদের গ্রেফতার করতে দীর্ঘ দিন থেকেই অসহযোগিতা করে আসছে। তাদের পূর্নাঙ্গ সহযোগিতা পেলে চোরাকারবারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করা সহজ হবে।






মন্তব্য চালু নেই