মেইন ম্যেনু

ফুটবল খেলার ইতিহাস কিন্তু অত্যান্ত রক্তাক্ত

ফুটবল খেলার ইতিহাস

বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে ধারনা করা যায় ফুটবল খেলা প্রথম শুরু করেছিল গ্রিক এবং রোমান সম্প্রদায় খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০ সালের দিকে। প্রাচীন গ্রিক এবং রোমানরা বল দিয়ে বিভিন্ন রকমের খেলা খেলত, তার মধ্যে কিছু কিছু খেলা পা ব্যবহার করে খেলত। রোমান খেলাHarpastum এসেছে গ্রিক খেলা Episkyros থেকে যা গ্রিক নাট্যকার Antiphanes (388–311 BC) এবং পরে ক্রিস্টিয়ান দার্শনিক Clement of Alexandria (c.150-c.215 AD) তাদের বিভিন্ন লেখায় উল্লেখ করেছেন।এই খেলাটা রাগবি ফুটবল খেলার মত ছিল।রোমান রাজনীতিবিদ Cicero (106–43 BC) বর্ণনা করেছেন ঐ খেলার সময় একজন মানুষ নাপিতের দোকানে সেভ হওয়ার সময় বলের আঘাতে মারা গিয়েছিলেন।ঐ বল গুলো বাতাস দ্বারা পূর্ণ থাকত অনেকটা বেলুনের মত।

ফিফার তথ্য অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক খেলা cuju ই হল ফুটবল খেলার সর্বপ্রথম রুপ যার বৈজ্ঞানিক প্রমান আছে।যদিও ফিফা প্রাচীন গ্রিক খেলা Episkyros কে ফুটবল খেলার সর্বপ্রথম রুপ হিসাবে আগে স্বীকৃতি দিয়েছিল। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় ও দ্বিতীয় শতাব্দীতে মিলিটারিরা অনুশীলন হিসাবে এটা খেলত।ঐতিহাসিক চাইনিজ মিলিটারি গ্রন্থ Zhan Guo Ce যা প্রণীত হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় থেকে ১ম শতাব্দীর মধ্যে যা তে ফুটবল কথাটি খুঁজে পাওয়া যায়। ইহাতে মিলিটারিদের একটা অনুশীলনের কথা বর্ণনা করা হয়েছে যা cuju নামে পরিচিত(cujuমানে kick ball) আর ইহা খেলার জন্য একটা চামড়ার বল প্রয়োজন ছিল যাকে পা দিয়ে লাথি মারা হত এবং সিল্কের কাপর দিয়ে ছোট হোল তৈরি করা থাকত মাটি থেকে ৯ মিটার উপরে বাশের সাথে।চীনের হ্যান সাম্রাজ্যের সময় (206 BC–220 AD), cuju খেলার নিয়ম কানুন প্রতিষ্ঠিত হয়।

পরবর্তীতে এই খেলার বিভিন্ন রুপ জাপানে এবং কোরিয়াতে বিস্তার লাভ করে, জাপানে এই খেলা kemari এবং কোরিয়াতে chuk-gukনামে পরিচিত।পরে আরেক ধরনের গোলপোস্ট বানানো হয় যা মাঠের মাঝখানে বসানো থাকত।অশোকা সাম্রাজ্যের সময় জাপানে kemari খেলা বিকাশ লাভ করে।kemari খেলার নিয়ম ছিল কয়েক জন মানুষ একটা বৃত্তাকার মাঠের ভিতর বল লাথি দিয়ে খেলবে তবে তারা চেষ্টা করত বল যেন মাটিতে ড্রপ না পড়ে বা যেন শূনে ভেসে থাকে।

 

ফুটবল খেলার ইতিহাস কিন্তু অত্যান্ত রক্তাক্ত

১) ২০১২ সালে মিশরে এক ফুটবল দাঙ্গায় কমপক্ষে ৭৪ জন নিহত এবং ১০০০ জন আহত হয়।

২) ২০০১ সালে ঘানায় এক ফুটবল দাঙ্গায় নিহত হয় কমপক্ষে ১২৭ জন।

৩) ২০০১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফুটবল স্টেডিয়ামে পদপিষ্ট হয়ে মারা যায় ৪৩ জন।

৪) ২০০১ সালে কঙ্গোতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পদপিষ্ট হয়ে মারা যায় ৭ জন।

৫) ১৯৬৪ সালে পেরুতে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেম কোয়ালিফাইং ম্যাচে পেরু-আজেন্টিনার মধ্যে খেলায় ভয়াবহ দাঙ্গায় মারা যায় ৩১৮ জন, গুরুতর আহত হয় কমপক্ষে ৫০০।

৬) ১৯৬৮ সালে আজেন্টিনায় স্টেডিয়াম দুর্ঘটনায় মারা যায় ৭৪ জন দর্শক।

৭) ১৯০২ সালে ইংল্যান্ডে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক খেলার সময় স্টেডিয়াম দুর্ঘটনায় মারা যায় ২৫ জন, আহত হয় ৫শতাধিক।

৮) ১৯৮৯ মালে ইংল্যান্ডে এফএ কাপ সেমিফাইনলা ম্যাচে দর্শকপূর্ণ স্টেডিয়ামে আরো দর্শক প্রবেশ করিয়ে দিলে চাপাচাপিতে মারা যায় ৯৬ জন, আহত হয় ৭৬৬ জন।

৯) ১৯৮৫ সালে ইংল্যান্ডে একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কমপক্ষে ৫৬ জন নিহত এবং ২৬৫ জন আহত হয়।

১০) ১৯৯১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় এক ফুটবল দাঙ্গায় মারা যায় ৪২ জন।

১১) ১৯৮৫ সালে বেলজিয়ামে স্টেডিয়াম দুর্ঘটনায় মারা যায় ৩৯ জন।

১২) ১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ডে স্টেডিয়াম দুর্ঘটনায় মারা যায় ৩৩ জন।

১৩) ১৯৮২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া) পদপিষ্ট হয়ে মারা যায় ৬৬ জন।

১৪) ১৯৭১ সালে স্কটল্যান্ডে স্টেডিয়ামের সিড়ি দিয়ে নামতে মারা যায় ৬৬ জন, আহত হয় ২ শতাধিক।

১৫) ১৯৯৬ সালে গুয়াতেমালা সিটিতে গুয়াতেমালা ও কোস্টারিকার মধ্যে বিশ্বকাপ কোয়ালিফাই ম্যাচে দর্শকদের মধ্যে চাপাচাপিতে মারা যায় ৮৩ জন।

১৬) ১৯৮৮ সালে নেপালে স্টেডিয়ামে প্রবল শিলাবৃষ্টির মধ্যে চাপাচাপিতে মারা যায় ৯৩ জন।






মন্তব্য চালু নেই